somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের শেষ সময়ে নেতা খুঁজে পাচ্ছে না ছাত্রলীগ

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পদ-পদবি পেতে সব সময় মুখিয়ে থাকেন ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। চেষ্টা-তদবিরের পাশাপাশি পদ পাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও কম নয়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি ছাত্র হলের কমিটি করতে গিয়ে নেতা খুঁজে পাচ্ছে না ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ক্ষমতার পালাবদল হলে বিপদে পড়তে পারেন—এই আশঙ্কায় সরকারের শেষ সময়ে কর্মীদের অনেকেই ছাত্রলীগের পদে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন না বলে সংগঠনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

এর মধ্যে মাত্র একটি হল শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের অন্তত চারজন কর্মীর নাম রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্ররাজনীতি আদর্শিক জায়গা থেকে সরে আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত সাড়ে চার বছর ছাত্রলীগের মিছিল-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এমন অনেকেই এখন কোনো পদ নিতে রাজি হচ্ছেন না। ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তাঁরা নিজেদের আর ছাত্রলীগ হিসেবে ‘চিহ্নিত’ করতে রাজি নন। শুধু তা-ই নয়, অনেকে ছাত্রলীগের কর্মসূচির পাশাপাশি এখন ছাত্রদলের কর্মসূচিতেও গা দেখাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও হলে থাকার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।

অবশ্য এ সংকটের কথা কোনো নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে রাজি হননি।

গত ২৪ আগস্ট টিএসসি মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় বেশ কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে আলাদাভাবে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলেন, হলে আসন ধরে রাখার জন্য বাধ্য হয়েই তাঁরা কর্মসূচিতে এসেছেন; কিন্তু ছাত্রলীগের কমিটিতে যেতে আগ্রহী নন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, সামনে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে অন্য সংগঠন ক্যাম্পাসের দখল নেবে। ছাত্রলীগের পদে থাকলে তখন তাঁরা আর ক্যাম্পাসেই ঢুকতে পারবেন না। এমনকি আক্রমণের শিকারও হতে পারেন।

ছাত্রলীগের হল শাখার একাধিক নেতা জানান, কোনো কর্মীর ওপরই তাঁরা এখন আর আস্থা রাখতে পারছেন না। কর্মীদের অনেকে ছাত্রলীগের পাশাপাশি ছাত্রদলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন।

অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা এ সংকটের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন হলের নেতাদের সঙ্গে কমিটি নিয়ে কথা হয়েছে, তাঁরা কেউ এ ধরনের সংকটের কথা বলেননি।

২০১১ সালের ১০ জুলাই ছাত্রলীগের ২৭তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনে মেহেদী হাসান মোল্লাকে সভাপতি ও ওমর শরীফকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আংশিক কমিটি গঠিত হয়। পরের বছর ১ মে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১২টি ছাত্র হল শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি। গত ১ এপ্রিল ১২টি হলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এখনো সে অবস্থায় রয়েছে।

কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ দাবি করেন, কর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়ার জন্য হল শাখার নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই কাজ এখনো চলছে।

এরই মধ্যে গত ৩১ জুলাই অমর একুশে হলের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। এ কমিটির পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকসহ অন্তত চারটি পদ পূরণ করা হয়েছে ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে। এর মধ্যে পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের পদে নাম রয়েছে মাহুয়ান কবিরের (রাশেদ)। তিনি নিজে প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল করি। এখন দেখি আমাকে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখা হয়েছে। এ কারণে ছাত্রদলে আমি ভূল বোঝাবুঝির শিকার হচ্ছি।’ মাহুয়ান কবির জানান, তাঁর মতো ছাত্রদলের আরও তিনজন কর্মীকে ছাত্রলীগের এই কমিটিতে সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, অনুমোদনের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে। এতে এক-দুজন নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী বলে দাবি করতে পারেন, কিন্তু বাকিদের দেখেশুনেই পদ দেওয়া হয়েছে।

কোনো কোনো ছাত্রনেতা এ-ও স্বীকার করেছেন, অধিকাংশ ছাত্র মূলত হলে থাকার জন্য আসন বরাদ্দ পেতে ও ধরে রাখতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকেন বা অংশ নিতে বাধ্য হন। আর এসব সাধারণ শিক্ষার্থীকে কর্মী হিসেবে দেখিয়ে নিজেদের দাপট প্রতিষ্ঠা করেন নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মারুফ বিল্লাহ বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনগুলো মূলত হলের আসনকে পুঁজি করেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যায়। কর্মসূচিতে না গেলে শারীরিক নির্যাতন করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতির আদর্শিক ধারা বজায় রাখতে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সুত্র : আহমেদ জায়িফ ,বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার , প্রথম আলো | আপডেট: ০২:১৫, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×