somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

স্প্যানকড
স্বপ্নের খোঁজে দেখি তোমায় /বাঁধি সীমাহীন ভালোবাসায়/দাও কিছু সুখের বৃষ্টি / ভিজি আমি /উড়াই দিগন্তের নীলিমায় তোমার নামে / স্বপ্নের এক বিশাল ঘুড়ি।

মানবতা তুমি কোথায় ???

১২ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে চ্যানেল আই তে খবর দেখছিলাম।সেখানে দেখলাম, মাননীয় সাংসদ বেনজির আহমেদ, অভিনেতা সোহেল সহ আরও অনেকে ধামড়াই এলাকায় " কিছু বানর না খেয়ে দিন যাপন করছে। " তাই তাঁদের উদ্যোগে বানর গুলিকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং রুটি, কলা খাওয়ানো চলছে।

দেইখা চিন্তায় পইড়া গেলাম, আহারে!ব্যাচারা বানর তোগ বর্তমান জেনারেশন ফিরেও তাকায় না তোগ দিকে। এমন কি খাওয়ার ব্যবস্থা পর্যন্ত করে না। তাজ্জব!অথচ ব্লগে কত বুলি কপচায় যে আমাদের আদি মাতা, আদি পুরুষ উমুক তমুক। ছিঃ! নেমক হারাম একেই বলে!

যাক এগুলা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমায় গেছি ঠাহর করতে পারি নাই। স্বপ্নে দেখি, আমি মিরপুর চিড়িয়াখানায় ঘুরছি। কিছু দূরে দেখি বানর এর খাঁচা। সেখান থেকে আমারে উদ্দেশ্য করে চিল্লাচিল্লি চলছে। আমি যথারীতি কৌতুহল বশত তাদের সামনে গেলাম।দেহি দুইটা পিচ্চি বানর চিল্লাইতেছে। আমি সামনে যাওয়ার পর একটু শান্ত হলো। বুড়া মতন একটা বানর আস্তেধীরে আমার সামনে এসে বলল, ভালো আছ বাবা? আমিতো পুরা টাসকি! বানর! তাও বলছে বাংলা জোবান!সে যাই হোক আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ। আপনারা?

বলতে না বলতেই শুরু করল কান্না। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া গেলাম।
জিগাইলাম কান্দেন ক্যা? উত্তর আইল আর কইছ না বাজান,  কতদিন ধইরা এই জেল খানায় আছি। কেউ বাইর যে করব তা জানি না। নিজের গোত্রের কেউ আসে না। চিন্তায় বুড়া হইয়া গেলাম। চুল বাল পেকে গেল। পোলাপান দুইটা চিল্লায়। কেউ হুনে না। আমি কইলাম ক্যা? আপনাগো এই জেনারেশন কি করে?আপনাগো মুক্তির জন্য আন্দোলন, মিশিল, মিটিং করে না। হতাশ গলায় মুরুব্বি কইল, " বাল ফালায় "।

আমিও কইলাম আসলে তাই! তারপর সে বলল, কতদিন বাইরে যাই না, নদী নালা দেহি না, পাহাড়, জংগল দেহি না আরও কত কি! তারপর হাত দুইটা বাড়ায় দিল। আমি প্রথমে ধরতে চাইলাম না। পরে যাই হোক ধরলাম এই মনে করে আহ! কত কষ্টে আছে একটু আদম, হাওয়ার সন্তান ছুঁইয়া সান্ত্বনা যদি কিছু মিলে ক্ষতি কি! 

মুরুব্বি আবার বলল, কথা দে বাজান আমাগো বাইর করার জন্য সরকার এর লগে কথা কবি? আমি বললাম, দেখি আপনাদের এই জেনারেশন রে জানাইয়া দেখি। তারা যদি কিছু করে। মুরুব্বী খিস্তি দিয়া কইল "হারামি সব, বেঈমান।নিজের রক্তের লগে বেঈমানী করছে। ওগো আশা ছাইড়া দিছি। " কথা দে কিছু করবি। আমি কইলাম, কথা দিতে পারি না তয় দেখি। নিরাশ হইয়েন না। আল্লাহ নিরাশ হতে না করেছেন।

তারপর মুরুব্বি আবার কইল মাঝেসাঝে খবর আসে, আমগো কিছু যারা বাইরে আছে তারা তীব্র ক্ষুধা কষ্টে দিন গুজার করতাছে।আমি বললাম, হুম, কথা সত্য! আজ খবরে দেখলাম।

তারপর আরও কইল যে, কেউ কেউ নারীদের মাথায় উকুন আনে। এই পেশায় নিয়োজিত আছে। আমি কইলাম, হুম। দেখি নাই তবে শুনেছি।

মুরুব্বি আরও কইল কেউ কেউ হাঁটে গঞ্জে পায়ে নুপুর লাগাইয়া ঢোলের তালে নাচে। খেইল দেখায়।
ক বাজান এগুলা হুনলে ভালো লাগে? এই জেলখানায় আর কত? কতদিন?

এমন সময়, পিচ্চি একটা চিক্কুর দিয়া উঠল। মুরুব্বি, আমি দুইজনে তাকাইয়া দেখি, কোন এক আদম, হাওয়ার সন্তান ওদের ঢিল ছুঁড়ছে। পিচ্চিটা কানতে কানতে বলতে লাগল,  "দেখছ বাবা! ঢিল লাইগা আমার পশ্চাৎপদ ফুলে গেছে। এখন জ্বলতাছে। "

আমি মুরুব্বি রে বললাম, আমি যাই আপনে ওদের সামলান। মুরুব্বি, ফ্যালফ্যাল কইরা চাইয়া রইল আর কইল " দেহিছ আমগো দিক টা " হঠাৎ কইরা কলিং বেলের আওয়াজে ঘুমটা ভেংগে গেলো।

ছবি নেট
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১০:৩৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×