
ক্যাসেট প্লেয়ারে ফুল ভলিউমে হিন্দি গান বাজছে কাঁটা লাগা! হায় লাগা! এ সময়ের চাহিদা বলা চলে। এখন খুব কম ঘরেই রবীন্দ্র, নজরুল, হাসন, লালন বাজে। একটা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া বাজে না। এত কম যে, হাতে গোনার মতন সংখ্যা!হিন্দি গানের জোয়ার বইছে দেশে।এর জন্য দায়ী কে? এ নিয়ে বহু কথা বাতাসে ভাসে।
সে যাই হোক ঐ দিকে যাচ্ছি না। জবা শুনছে এ গান। আর সাথে সাথে শরীর ফিট রাখতে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করছে।এক্সারসাইজ এর সাথে অবশ্য রবীন্দ্র, নজরুল, হাসন এবং লালন যায় না।
একে তো তিন তলা বাসা। আশপাশের আরও বিল্ডিং দিনের বেলায় ও আন্ধাইর কবর! বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হয় সর্বক্ষণ। তারউপর প্রচন্ড গরম! জবা ঘেমে অস্থির। ঘামলে যে ও একটা জ্বলে উঠা তান্দুর হয়ে উঠে তা জবা আয়নায় নিজেকে দেখলেই বুঝতে পারে।
প্রতিদিন গোসলের আগে নিয়মিত এগুলা করে। তারপর গোসল সেরে এক কাপ ভাত, ডিম সিদ্ধ আর এক বাটি ফুল মসুর ডাল খেয়ে নেয়। এর পর একটা ভারতীয় বাঙাল লেখক দের উপন্যাস নিয়ে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ে। এতেও ভারতীয় বাঙাল লেখকরা ঢুকে পড়েছে। নীলক্ষেত গেলে ইহা আরো স্পষ্ট এবং ঘনীভূত হয়। জবার এ কার্যক্রম চলছে মাস কয়েক ধরে।
এমন আইন্ধার বাসা দেখে জবার বাবাকে প্রায়ই রোজ কথা শোনতে হয় জবার মার কাছ থেকে। জবার বাবার এক জবাব আলো বাতাস এতো চাইলে মিরপুর স্টেডিয়ামে যাও অথবা কমলাপুর!
এমনিতেই যা বেতন পাই তাতেই রুহ বাইর হওয়ার যোগাড় তার উপর উনার আলো বাতাস চাই। যত্তসব! ফয়িন্নির চাই পোলাও!
জবার মা এ কথা শুনে গোখরো সাপের মতন ফোঁস করে উঠে। এই! এই!খবরদার! ফকিন্নি কইবা না। তোমার গোষ্ঠীর সাত কপালের ভাগ্য আমার মতন মেয়ে পাইছে।
তোমার মতন আকাইম্মা মাইনষের লগে বিয়ে হইয়া জীবন আমার পুড়ছে। বাপ, মা যে কি দেখছিল?আল্লাহ জানে! লগের বন্ধু বান্ধব বাড়ি ফ্লাট কিনে অস্থির। উনি সেই একই কাম একই সেলারী! ফকিন্নি তুমি।তোমার চৌদ্দ খানদান !
আশ্চর্যের বিষয় এরা এত ঝগড়া করে কিন্তু কেউ কোনদিন আলাদা বিছানায় শুয়ে দেখেনি রাতে ঠিকই এক বিছানায় গা ঘেঁষাঘেঁষি করে শুয়ে থাকে।
এগুলা শুনে দেখে জবা অভ্যস্ত বড় হইছে। তাই জবার অত গায়ে লাগে না টেনশন ও হয় না। ওর চোখে এদের রাগ কচু পাতার পানির মতন হালকা বাতাস এলেই ঝরে পড়ে। অত কাঁপ ঝাঁপ নাই।
জবার গায়ের রঙ একটু চাঁপা কিন্তু একটা আবেদন ধরে রেখেছে। যৌবন পুরা শরীর জুড়ে যেন ফুল লোডেড ক্লাসনিকভ! সব ছারখার করে ছাড়বে এ নিশ্চিত! অথবা বলা চলে লীলাবালির মতন যুবতী!
জবা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করছে। যতদুর পারা যায় বাড়তি মেদ কমানোর চেষ্টায় আছে। রাতে দুইটা শুকনো রুটি একটু তরকারির ঝোল আর শশা এবং দুইটা গাজর, এক গেলাস পানি এই ম্যানু চলছে কয়েক মাস ধরে।
কলেজের বান্ধবীরা ওর শরীর নিয়ে নানান কথা বলে। রিমি নামের ওর ফাজিল বান্ধবী বলে, জবা তোরে দেখলে আমার শরীর ই কেমন কেমন জানি করে আর ছেলেদের কি হয় বুঝ তুই! হা হা হা করে সব বান্ধবীরা হাসে।
একবার কমন রুমে ফাঁকা পেয়ে ওর সেই বন্ধু ওরে ঠেসে ধরছিল দেয়ালের সাথে। জবা অবশ্য নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করেছিল কিন্ত লাভ হয়নি। রিমি ওকে চুমু খেয়েই তবে ছাড়ছে। পরে বলেছিল ইহা ছিল ওদের ধরা একটা বাজি। এমন অনেক ইতরামি ফাইজলামি ওরা করছে। তবে জবা হরহামেশাই বলত তোরা সব গুলি হইলি খচ্চর!আমার চাই ঘোড়া!এই বলে নীচের ঠোঁটটা দাঁত দিয়ে কামড়ে একটা চোখ মারে। রিমি পাশ থেকে বলে পেডরোলো পাম্প চাই তোর অশ্বশক্তির!এতে আরও হাসি ফুটতে থাকে সবার মুখে।
( চলবে )
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



