
পরী গোসল শেষ করে বারান্দায় কাপড় গুলি মেলে দিচ্ছে। কালো রঙ এর ব্রা টা ওড়না দিয়ে ঢেকে দিল। এ নিয়ে বহুবার ওর ব্রা মিসিং হয়েছে মানে কাজের খালা যতবার ছাদে কাপড় শুকাতে দিয়েছে আর সংগে এই ছোট কাপড় খানি গেছে হারিয়ে গেছে ততদিন।
প্রথম বার ভেবেছিল বাতাসে উড়ে গেছে কিন্তু অন্য কাপড় থাকে আর এই ছোট কাপড় খানি গায়েব হয়ে যায় তাজ্জব! যখন পরপর কয়েকদিন এ ঘটনা ঘটল আর পাশের বাসার কিশোর টির চাহনি যেদিন থেকে ওর বুক বরাবর বিদ্যমান হলো সেদিন থেকে ও নিশ্চিত এ কাজটি ঐ ছেলের করা।
এগুলা ভাবতেই ওর গা ঘুলিয়ে বমি আসে। পরক্ষণে ভাবে,আচ্ছা মেয়েদের কি ছেলেদের ছোট কাপড়টি দেখলে এমন ফ্যান্টাসি বা সুড়সুড়ি লাগে? কি জানি,ওর তো কখনো এমন হয়নি !
খুব ছোটকালে পরী যখন ওর নানু বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল,তখন কদমতলীর বাজারে একটা ন্যাংটো পাগল দেখেছিল। জীবনে এটাই তার প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে এভাবে দেখার স্মৃতি।
আসলে মানুষ সব কামনার পশু হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। পরী ভাবে মানুষ প্রথম রিপু কে বশ করতে পারছে না বাকিগুলি করবে কবে? কবরে গেলে? প্রশ্নগুলি মনের মাঝে যখন ঘোরাঘুরি চলছে ঠিক তখন ওর মোবাইলে বেজে উঠল একটা রবীন্দ্র সংগীত রিংটোন।
ফোনটা ধরার পর অপর প্রান্ত থেকে লিলি বলছে, হ্যালো,কি করছিস? অফিস তো দু দিন ছুটি। পরী ছোট করে হুম বলল। লিলি আবার শুরু করল কিরে কি হলো? মন শরীর ঠিক তো? পরী আবারও হুম বলল।লিলি বলেই চলল, আজ রাতে বাসায় আসবি। লিপি, বীথি ওরা ও আসছে। একটা অন্য প্লান আছে! পরী জিগ্যেস করল,কেন তোর জামাই নাই বাসায়? লিলি বলল,ও দুই সপ্তাহের জন্য চায়না গেছে। এইজন্য বলছি জলদি চলে আছিস সারপ্রাইজ আছে।
পরী একবার না করতে যেয়েও করল না কারণ এই ক'জন বান্ধবী এখন টিকে আছে বাকিরা সময়ের সাথে কোথায় চলে গেছে। সে খবর কেউ জানে না। ওকে রাখছি বাই। লিলি এও বলল গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি বেশি দেরি করিস না।
লিলির কথা ভাবছে পরী। এই লিলি কি লাজুক ছিল স্কুল জীবনে। সময় মানুষকে কি বদলে দেয়!
লিলি এখন ভালো আছে। সুখে আছে যদিও ওর দেবরদের সাথে অনেক ঝামেলা ছিল এখন আলাদা আছে। ওর স্বামী অনেক পরিশ্রম করে ঢাকায় একটা পাঁচতলা বাড়ি দাঁড় করিয়েছে। এছাড়া নিজেদের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট বিজনেস যদিও ওর জামাই এর দ্বিতীয় স্ত্রী লিলি। লিলির প্রথম স্বামী।
ওর স্বামীর আগের স্ত্রী রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে। কোন সন্তান ছিল না। লিলি ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় বিয়ে করে,বলতে গেলে ওর বাবা মা জোর করেই বিয়ে দিয়ে দেয়। এর কারণ অবশ্য আছে লিলির বড় বোন ক্লাস টেনে পড়ার সময় পাড়ার এক ছেলের সাথে পালিয়ে যায়। একমাস কুমিল্লা ছিল। পরে ঢাকা ফেরত আসে। ওর বাবা, মা ওকে বাসায় আশ্রয় দেয়নি।পরীর এখনো মনে আছে লিলির সাথে ওর বোনের বাসায় যেতো,ওরা দেখা করতো লুকিয়ে। বছর না ঘুরতে অভাবের সংসারে সে প্রেম ফুরাতে থাকে।
এত খরচ অত অল্প বেতনের টাকায় কুলাতে পারছিল না লিলির দুলাভাই। এদিকে ওর বোনও টিউশনি করা শুরু করে। কিন্তু শেষে ওর দুলাভাই অফিসের টাকা আত্মসাৎ করে এবং ধরা খায়। তিন বছর এর জেল হয়। ওর বোন এসব সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে! ওর বোন খুব জেদি ছিল কিন্তু সেই ইতি এমন ভয়ানক হবে তা কেউ ভাবেনি।পরী এসব পুরনো কথা যখন ভাবছে তখন মসজিদে আসর এর আজান হচ্ছে। মুয়াজ্জিন ডাকছে কল্যানের পথে এসো, মঙ্গলের পথে এসো কিন্তু পরী ভাবে এই যে এমন সুললিত কন্ঠের আহবান ইদানীং মানুষ কেন প্রত্যাখান করছে !
মসজিদে কত আর মুসল্লী হয়,কিছু বুড়া লোক জমায়েত হয় আর জুম্মার দিন সংখ্যা একটু বাড়ে।অন্যদিন একদম নাই বললে চলে, অনেকটা শেয়ার বাজারের দশা! রমজানে কিছু হয়,তারপর সারাবছর একই হাল।অথচ নেতাদের প্রতি মিছিল সভায় হাজারো মানুষ জমায়েত হয়।কারণ, মিছিলে গেলে অন্তত এক বেলার বাজারের টাকা আসে।আসলে মানুষ এখন নগদে বিশ্বাসী।
স্রষ্টা মৃত্যুর পর কি দিবে,ততদিনের ধৈর্য্য এখন আর মানুষের মাঝে নাই। সত্যি কি মুসলিমরা ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছেন!এসব ভাবতে ভাবতে পরী যখন বারান্দা থেকে ভিতর রুমে যাবে, তখন দেখে সেই কিশোরটি ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে বাসার নীচ থেকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
