somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

স্প্যানকড
স্বপ্নের খোঁজে দেখি তোমায় /বাঁধি সীমাহীন ভালোবাসায়/দাও কিছু সুখের বৃষ্টি / ভিজি আমি /উড়াই দিগন্তের নীলিমায় তোমার নামে / স্বপ্নের এক বিশাল ঘুড়ি।

শহরতলীর মুখ !

০৫ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি নেট ।

মল্লিকা বাসের জানালা দিয়ে যতটুকু পারা যায় শহর এর চারপাশ দেখছে। শরতের স্বচ্ছ আকাশ যদিও ঢাকা শহরের আসমানে ধুলো কাঁদা নজরে পড়ে বেশী। ওমন স্বচ্ছ নীল আকাশ গ্রামে আর গল্প কবিতায় পাওয়া যায় আর উন্নত বিশ্বে। ফুরফুরে বাতাস। বাতাসে ওর চুল উড়ছে কিছু চুল বারবার কপালে এসে পড়ছে ও হাত দিয়ে বারবার ঠিক করছে কিন্তু লাভ হচ্ছে না। একরকম ব্যার্থ হয়ে চুল ঠিক করা ছেড়ে দিল। বাসের স্পীড আনুমানিক ৬০ এর কাছে হয়তো আরও বেশী ! স্পীড মিটার রাস্তায় থাকলে এতক্ষণে জরিমানা খাইতো কম করে পাঁচ টা আর সিগনাল ব্রেক তো আছে। মল্লিকা মাঝে মাঝে ভাবে এ দেশে আইন না মানা বিশাল কিছু গর্বের বিষয়! আর মানবেই কেন জনতা ? যেখানে দেশ যারা চালায় তারাই নানান আইন না মেনে চলছে। মানি লন্ডারিং করছে। ক্যাডার পালছে। ছাত্র রাজনীতির নামে ছাত্রদের মাস্তান, খুনি বানিয়ে ছাড়ছে। বিদেশে বাড়ি - গাড়ি করে বসে আছে। সো, যেদেশে যেমন বাও সেদিকে চলে নাও !

মল্লিকা এখন যেমন জীবন কে ছেড়ে দিয়েছে যেন বিশাল জলরাশির উপর ভেসে চলা একটা কিস্তি। যেদিক খুশি সেদিকে চলে যাক জোয়ারে কিংবা ভাটায় কোন আফসোস নেই। কোন চাওয়া পাওয়া নেই। অনেক টা শুকিয়ে যাওয়া ফলের মতন কোনমতে ঝুলে আছে যেকোনো বাতাসে টুপ করে পড়ে যাবে।

ফুটপাতের লোকজনের উপর নজর ফেলছে আবার বাসের ভেতর দেখছে আর ভাবছে এই যে এক সাথে কত লোক যাচ্ছে কেউ নেমে যাচ্ছে কেউ উঠছে এক মুহুর্তের জন্য ফাঁকা থাকছে না। কেউ দাঁড়িয়ে আছে কেউ বসে। জীবন বুঝি এমনই কখনো ফাঁকা থাকে না পুর্ণ হয় সুখে কিংবা বিষে ! সবার চোখ মুখে কেমন জানি একটা অন্য ভাব। কেউ সুখে নেই ভালো করে দেখলেই বুঝা যায়। আসলে কে যে সুখি আর কে যে অসুখি বলা মুশকিল। সুখের আসল সংগা মানুষ কি জানার চেষ্টা করেছে কখনো? নাকি মন মতলবি কিছু একটা বলে বেড়াচ্ছে। যা এ কান ও কান ঘুরতেই আছে।

আসলে এ যাত্রার শেষ নেই চলছে চলতে থাকবে শুধু যাত্রীদের মুখ বদল হবে সিট বদল হবে স্টেশন বদল হবে ড্রাইভার, কন্ট্রাক্টর, মালিক সকলে বদল হবে। রুট বদল হবে কিন্তু চাকা চলবে।

ওর দুই সিট সামনে একটা কচি বয়সের ছেলে। কোলে একটা ব্যাগ তার উপর নানান ধরনের স্টিকার লাগানো। ও যখন বাসে উঠে তখন ছেলেটি ওকে হা করে দেখছিল ।

আসলে এ বয়সই এমন। হরমোনের দৌড়ঝাঁপ। যেকোন নারীর শরীর দেখলেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করে। তার উপর আজকাল সবার হাতে মোবাইল ইন্টারনেট সুতরাং নর নারীর গোপন বিষয়গুলি খুব সহজে জেনে যাচ্ছে।

এই তো সেদিন ওর পড়শী ভাবি বলল,  ওর ছেলের হাতে নোকিয়া পুরান মোবাইল তুলে দিছে কারণ জিগ্যেস করাতে বলল, হুম দিছিলাম স্মার্ট ফোন । আসলে ওর মামা দুবাই থেকে পাঠিয়েছিল।কি হয়েছে জানেন, একদিন লক্ষ্য করলাম ঘন ঘন বাথরুমে যায় পকেটে মোবাইল!

মল্লিকা বোকার মতন প্রশ্ন করে বসল তাতে কি ? অনেকে তো বাথরুমে দৈনিক নিয়ে যায় তারপর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়।

পড়শী ভাবি হাসতে লাগলো। মল্লিকা কিছুটা ইতস্তত বোধ করল। ভাবল ও কি কোন জোকস বলেছে বা যার কোন মানে নেই এমন অসাড় কিছু। পড়শী ভাবি হাসি থামিয়ে বলল এখন তো আপনার ছেলে মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আছে মাধ্যমিকে গেলেই বুঝতে পারবেন এরা কত দুরন্তপনায় গা ভাসিয়ে দেয়। নিজের অজান্তে ভুল পথে চলে যায়।

এরপর ভাবিটি বলতে শুরু করল নিজের ছেলে তবুও লজ্জা শরম মাথা খেয়ে বলছি। একদিন ওর মোবাইল রেখে ও একটু বাইরে গেছিল। আমি ওর মোবাইল চেক করে দেখি শুধু পর্ণ আর পর্ণ! ভাবছেনে গোপনে গোপনে কি বিষে শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার রেজাল্ট আগের চেয়ে খারাপ। মল্লিকা বোকা হয়ে যায়। শুধু বলল, বলেন কি?

এমন সময় বাসটি জোরে ব্রেক মারল। মল্লিকা সামনের সিটের সাথে একটা জোরেশোরে ধাক্কা খেলো কপালটা সামান্য ফুলে গেছে একটা ছোটখাটো টিউমার এর মতন।

মল্লিকার পাশে বসা মধ্যবয়সী লোকটি যেন এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল একদম ওর উরুতে হাত রেখে জোরে চাপ দিয়ে ছেড়ে দিল। সাথে সাথে সরি বলে বসল। মল্লিকা বলে বসল অসভ্য! লোকটি উলটো গরম হয়ে গেল। বলতে লাগলো আরে! আমি কি ইচ্ছে করে করেছি নাকি। এত জোরে ব্রেক মারলে কেমনে সামলাই !

ওদিকে ড্রাইভার কন্ট্রাক্টর কে একটা অশ্লীল গালি দিয়ে বলল, ঐ মান্দার পো! দেখ তো হালায় কি মরে গেছে? বাসের সবাই ড্রাইভার কে যাচ্ছেতাই বলতে শুরু করল। কচি বয়সের ছেলেটার কোন শোক তাপ নাই বরংঞ্চ মজা পাচ্ছে। হাসছে।

মল্লিকার তিন সিট পিছনে বসে থাকা ভদ্রলোক  ড্রাইভার কে খিস্তি দিয়ে বসল কারণ তার পাশে বসা স্ত্রীর কপাল আঘাতে ফুলে গেছে। কোলে বসা চার বছর এর বাচ্চা ও কিছুটা আঘাত পেয়েছে। খুব জোরেশোরে কান্না করছে। সেই ভদ্রলোকের সাথে আরও দুই চারজন গলা উঁচু করে ড্রাইভার কে যাচ্ছেতাই বলতে শুরু করল।

ড্রাইভার এতক্ষণ হজম করে আসছিল। যেই কন্ট্রাক্টর এসে বলল, ওস্তাদ! মরে নাই। হাতে পায়ে চোট লাগছে। বুড়ো মানুষ রিক্সা উলটে পড়ে গেছে। রিক্সা ওয়ালা বারবার বলছে আমার টাকা দেন রিক্সা ঠিক করাতে হবে। কন্ট্রাক্টর বারবার গালি দিচ্ছে চুপ! খানকির পুত ! বেশী কথা কইলে টান দিয়া চাকার তলে ফালায় দিমু!

ড্রাইভার এখন গর্জে উঠলো, দেখি চেহারা খানি দেখান কে কে এত শোরগোল করছেন? এতই যখন লাগছে নেমে পড়ুন বাস থেকে আমি ড্রাইভার খারাপ!

আপনাদের যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে। এমন কি একদম সিধা উপরে! নেমে পড়ুন বলছি। যারা এতক্ষণ শোরগোল করছিল তারা কিছুটা নরম হয়ে গেল বলতে লাগলো আমাদের টাকা ফেরত দাও। ড্রাইভার বললো, কাউন্টারে যান। আমার কাছে নাই।

মল্লিকার পাশে বসা লোকটি বলতে লাগলো ড্রাইভার কে " তুমি মিয়া হারামি ! " ড্রাইভার হাসি দিয়ে কইল ঠিক কইছেন। খুশী। মল্লিকা কপালে হাত দিয়ে ভাবছে কে যে হারামি সে তো একদম একটু আগে টের পেলো। মনে মনে খিস্তি দিলো
" সব খানকির ছেলে ! "

চলবে....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২০
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।"

লিখেছেন এমএলজি, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:৩০

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।" বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ কাজটি করা হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

বিষয়টি সত্য কিনা তা তদন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

ইয়াতিমদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া, ছবি https://www.risingbd.com/ থেকে সংগৃহিত।

তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও তিনি। তাকেই তার বৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বছরশেষের ভাবনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮


এসএসসি পাস করে তখন একাদশ শ্রেণিতে উঠেছি। সেই সময়ে, এখন গাজায় যেমন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন বসনিয়া নামে ইউরোপের ছোট একটা দেশে এরকম এক গণহত্যা চলছিল। গাজার গণহত্যার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×