somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিদীতার সাথে চটপটি খেতে খেতে, দেখা হয়ে গেলো অপু-তানভীরের সাথে...

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঘাসের চাদরে শুয়ে শুয়ে, পড়ন্ত বিকেলের নীল আকাশে, সাদা মেঘের ভেলা দেখতে তো একটু একটু বেশ ভালই লাগছে... আমার জায়গায় ব্লগার জনৈক গন্ডমূর্খ থাকলে নিশ্চিত কমেডি জুড়ে দিতো এতক্ষণে..
....................নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা..............
...........................কে ভাসিয়ে দিলি ঠেলা...................
.......................আমার বিবির চোখে পড়লে...............
....................আজও বায়না ধরলো বলে(:-*:P:-*).......
এই বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষ হলেই মনটা খারাপ হতে শুরু করে ... একাকিত্ব যেন জাপটে ধরে পিষে ফেলেX(... আগে বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষে ঈদ আনন্দ শুরু করে দিতাম আর এখন .... উফফ কি যে করি কাল নাকি আবার শুক্রবার .... তার মানে আবার শনিবারে দেখা হবে .... হায় হায় ও আল্লাহ ঠাডা ফেলো নয়তো দড়ি ফেলো বাইয়া বাইয়া উপরে উঠি যাই.... আবার দুই দিন পর নামাইয়া দিয়ো... :P
দৌড়াতে দৌড়াতে প্রিন্স (প্রিন্স হেক্টর) এসে বলল, ঐ শালা তুই মাঠের এই চিপায় কি করিস একা একা... ডাকতেছিলাম উত্তর দিচ্ছিলি না কেন... আমরা তোকে বাড়ি বাড়ি খুজে বেড়াচ্ছি আর তুই এখানে শুয়ে শুয়ে ঘাস চিবাচ্ছিস .... অপূর্ণ রা বল-ব্যাট নিয়ে দাড়িয়া আছে চল খেলবো....
বেচারা প্রিন্স ডাকতে এসে হাপিয়ে গেছে.... অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওর সাথে গেলাম খেলতে ... ওরা খেলা শুরু করে দিয়েছে ....খেলা শেষ হতে হতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেলো ..... আমরা কয়জন ছাড়া অনেকেই বাড়ি চলে যাচ্ছে......হঠাৎ আমি মাক্স কে বললাম চল না একটু জগলু রোড থেকে ঘুরে আসি....
অচিন বিরক্তকন্ঠে বলল, কেন, আমরা জগলু রোডে যাবো কেন , আমরা কি অপু-তানভীর নাকি যে সারাদিন জগলু রোডে ঘুরঘুর করবো....
বিস্মিত কন্ঠে বললাম, মানে!!!!!!/:)
মানে আবার কি তুই জানিস না ঐ রোডেই রিদীতার বাড়ি .... আমি যতদিন ঐ রোডে গেছি ততদিন ই অপুর সাথে দেখা হইছে... আর এই সময় গেলে তো অপুকে অবশ্যই পাবি .... শুনেছি রিদীতা নাকি এই সময়ে চটপটি খেতে বের হয় ...:-*.
রিদীতা এই সময়ে বের হয় শুনে যাওয়ার আগ্রহ টা আরও বেড়ে গেলো/:)...আর মনে মনে অপু কে গালি দিতে লাগলাম ( শালা তুই স্বর্ণালীর পেছনে ঘুর নয়তো এশার পেছনে ঘুর ক্লাসে তো আরও মেয়ে আছে নাকি... তা না উফফ তোকে যে কি করবX(( )
অনেকটা অভিমান নিয়ে অপূর্ণকে বললাম চলতো আজ অপুর খবর আছে..... যদি ওকে জগলু রোডে পাই তাহলে দেখবি কি করি....
এই কথা শুনে অপূর্ণ সহ সকলের চোখ চকচক করতে লাগলো./:).. অতিআগ্রহী অচিন তো বলেই ফেলল, পেলে কি করবি...
চল দেখবি কি করি...(B-)যাক জগলু রোডে যাওয়ার ভিসা তো পাওয়া গেলোB-))
জগলু রোডে ঢোকামাত্রই অপুর দেখা মিলল..... আমরা প্ল্যানমতো ওকে দেখেও না দেখার ভান করে কথাচ্ছলে হাটতে লাগলাম....
একসাথে আমাদের দেখে অপুর চোখ তো ছানাবড়া হয়ে গেলো./:)... ও টুপ করে ভাসমান শাহী চটপটি মামার দোকানের আড়ালে নিজেকে লুকায়িত করল....
রিদীতা দের বাড়ীর সামনে এসে আমার ভেতরটা খা খা করতে লাগলো.... ইস্ একবার যদি ও বের হতো.... একটিবার, শুধু একটিবার... ও-মা এ-তো দেখি "চিমা মস্তকে হুল হুল" মনে হলো যেন আমি বললাম "চিচিংফাক":-/ আর আলীবাবার গুহার মুখ খুলে রিদীতা বের হয়ে এলো... আমিতো টাস্কিতো:|.... চিমটি কেটে নিশ্চিত হলাম কল্পনা নাতো....
একসাথে আমাদের দেখে রিদীতা তো ভূত দেখার মত ভয় পেল....
প্রিন্স বলল, কি ব্যাপার রিদীতা কই যাচ্ছ......
-এইতো সামনেই যাচ্ছি চটপটি খেতে .... তোমরা কই যাচ্ছ.....
আমার মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছে না.... অপূর্ণ বলল আমরা এদিকে হাটতে এসেছি..... আমি শুধু অচিনকে বললাম তোরা শুধু দুরে গিয়ে দারা .... দেখ আমি কি করে অপুর বারোটা বাজাই....
রিদীতা ভদ্রতার খাতিরে বলল চলো সবাই মিলে চটপটি খাই....
অচিন বলল না আমরা খাবো না.... তুমি শুধু রাজনীলকে নিয়ে যাও ... ও নাকি খাবে....
ও-মা এই কথা শুনে অপুর কি বারোটা বাজাবো আমারই তো ব্যান্ড বেজে গেলো:|, মনে হলো যেন ধমনী-শিরা-উপশিরা হরতাল ডাকছে তাই শরীরের রক্ত চলাচল বন্ধ.... আমি মনে মনে বলতে লাগলাম হে আল্লাহ আমায় শক্তি দাও আর অচিনকে তুমি দীর্ঘজীবি করো;)....
ওরা চলে যাওয়ার পর আমি আর শুধুই রিদীতাপাশাপাশি হাটতে লাগলাম .... সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে শুধু আমার হৃৎপিন্ড লাফালাফির শব্দ ছাড়া... জানি না ওর সামনে আসলে এমন হয় কেনো, আগে তো হয়নি কখনো.:-*....
চোখ বন্ধ করে একটু দম নিয়ে বললাম তু-তুমি কি প্রতিদিন চ-চটপটি খেতে বের হও...
রিদীতা একটু হেসে বলল হে আমার সন্ধ্যাটা শুরুই হয় শাহী মামার চটপটি দিয়ে....তুমি আজ খেযে দেখো তোমারও ভাল লাগবে..;).
ওর নিঃশব্দ হাসিটা আমার হৃদয় ছুয়ে গেলো...ওর দিকে বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে বললাম তাই নাকি...আর খেয়াল করলাম আমি যা ভেবেছিলাম তা নয় ও-তো বেশ হাসিখুশি আর মিশুক স্বভাবেরই... কথা বলার মাঝেও আমার মত কোন আড়ষ্টতা নেই....এমন ভাবে কথা বলছে যেনো আমি ওর কতদিনের চেনা...এক অচেনা সুখ আমাকে ঘিরে ধরলো.. (মনে মনে উত্তম কুমারের মত গাইতে লাগলাম,;) "এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো"), কিন্তু হায়রে কপালX(, চটপটি মামা যেন প্লেট রডি করেই রেখেছিল.. আমরা যাওয়া মাত্রই প্লেট বাড়িয়ে দিলো...
ওর সাথে চটপটি খেতে খেতে অপুর কথা আর আমদের প্ল্যান এর কথা বেমালুম ভুলে গেছি... হঠাৎ অপুকে দেখে মেজাজ বিলা হয়ে গেলোX((...
বিরক্ত কন্ঠে বললাম , কি রে অপু তুই্ ..... একা একা কি করিস এখানে..
আমাদের দুজনকে একসাথে দেখে ওর চোখ তো অসস্থির কোটরে ঢুকে গেলো .... আমতা আমতা করে বলল, মানে না মা-নে চটপটি খেতে এসেছি...:((
মনে মনে ভাবলাম , যাক ওর ভাল একটা শিক্ষা হলো..;)


গল্পের সব চরিত্র কাল্পনিক......."Take it as fun only"

উৎসর্গ : আমার কিছু প্রিয় ব্লগার অপু তানভীর, অপূর্ণ, অচিন, মাক্স, গিয়াস-লিটন ভাই, অনীনদিতা আপু, প্রিন্স হেক্টর, দায়িত্ববান নাগরিক, স্বর্ণা আপু, শায়মা আপু, জনৈক গন্ডমূর্খ....

"অনীনদিতা তুমি কার আমার নাকি অপু তানভীরের"
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৫
১৭টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×