somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবশেষে হিজড়ারাও রাষ্ট্রের সুবিধা পেতে যাচ্ছে।

২১ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“হিজড়া” -শব্দটা শুনলেই কেমন জানি লাগে, তাই না? অস্বীকার করব না, ছোটবেলায় এদের দেখলে চরম ভয় পেতাম, দৌড়িয়ে বাসায় চলে যেতাম। লেখা পড়ে ভাববেন না যেন আবার যে আমি হিজড়াদের অসম্মান করছি। আসলে ছোট থেকেই আমাদের মনে তাদের সম্পর্কে ভয়ংকর কিছু ধারনা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। ওদের সম্পর্কে সত্য-মিথ্যা অসংখ্য ঘটনা প্রায় শুনতাম, যার ফলে ওদের নিয়ে মনে একটা ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল, এবং এখনও কিছুটা আছে।

যায় হোক, এখন ওদের সম্পর্কে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করছি। কিছুদিন আগে ট্রেইনে ওদের মুখোমুখি হয়েছিলাম, একজনের সাথে টুকটাক কথাও বলেছি, চেহারাটা মায়াবি ছিল। চাদা তোলার জন্যে ট্রেনে উঠেছিল ওরা, আমার কাছে টাকা চাওয়ামাত্রই দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার পাশের ভদ্রলোকটাকে অনেক খোচাতে হয়েছিল টাকার জন্যে...

হিজড়াদের সাধারনত আমাদের মত সাধারন মানুষদের মত জীবন চালাতে হয় না। তারা মানুষের দয়া-মায়ার (ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা চাদাবাজ যায় বলেন না কেন) উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। এপাড়া-ওপাড়া, এবাড়ি-ওবাড়ি, এই দোকান-ঐ দোকান, এই গাড়ি-ঐ গাড়ি থেকে তারা দল বেধে ঘুরে ঘুরে চাল-ডাল টাকা পয়সা সংগ্রহ করে। আর আমার জানামতে প্রত্যেকে একপ্রকার বাধ্যই থাকে তাদের সাহায্য (এটাই আইন কিনা জানি না) করার জন্যে। সপ্তাহে একবার অথবা দুইবার তারা বের হয়ে এই কাজটা করে। তবে আমাদের এলাকায় কিছুটা ব্যাতিক্রমতা আছে, (অন্য এলাকার খবর জানি না) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে কিছু হিজড়া পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করে। ব্যাপারটা অবশ্যই পজিটিভ কিছু।

তবে সবচেয়ে বড় পজিটিভ নিউজ হচ্ছে সরকার এদের ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে নিয়োগ করা সহ তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্যে বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এই বিষয়টা অবশ্যই সময়ের সেরা সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতদিন মানুষ হয়েও তারা রাষ্ট্রীয় অনেক সুবিধায় ভোগ করতে পারত না, আশা করি খুব শীঘ্রই তারা এই অবস্থানটা থেকে মুক্তি পাবে। আর চারজন সাধারন মানুষের মত তারাও নিজে কাজ করে নিজেই নিজের ভরন-পোষন চালাতে পারবে...
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলি।
আমি সাধারণ সত্য যা ঘটছে সেটাই বলি। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, সেটা যে পক্ষেরই হোক, আমার শেয়ার করতে ভাল্লাগে না।
একটা সময়ে আমেরিকা নিজের এয়ারফোর্স এবং নেভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিত্রের তালাশ ও মিত্রতা তৈরিঃ প্রসঙ্গ আমাদের জাতীয় ও রাজনৈতিক জীবন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাঙলায় পাওলো কোয়েলহোর সর্বাধিক বইয়ের অনুবাদক হিসেবে দেখেছি তিনি তাঁর প্রায় সকল বইয়ে একটা জিনিসকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। সেটা হলোঃ মিত্র তালাশ করা বা তৈরি করা। এই জিনিস আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫০


রমজান মাসের শেষ দিককার কথা। আব্বা-আম্মার সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম নানাকে দেখতে। মায়ের দিকের এই আত্মীয়র হার্টে চারটা রিং বসানো হয়েছে, কিন্তু কেবিনে ঢুকে বুঝলাম তার জবান এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:০৪



সূরাঃ ১ ফাতিহা, ১ নং থেকে ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। সমস্ত প্রশংসা জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর।
২। যিনি অনন্ত দয়াময়, অন্তহীন মেহেরবান।

সূরাঃ ১ ফাতিহা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫২



আমি কবিতা লিখতে পারি না।
আসলে আমি কোনো কিছুই সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি না। আমার লেখা মানেই এলোমেলো এবং অগোছালো বিশ্রী রকম। মাঝে মাঝে লোভ হয়, কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×