somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

Rakibul Hasan Srabon
রাকিবুল হাসান শ্রাবণ (জন্ম ১৭ জানুয়ারি, ১৯৯৪ সাল) ময়মনসিংহ জেলার, মুক্তাগাছা থানার পোড়াবাড়ী গ্রামে জন্ম ও বেড়ে উঠা। বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন সাহিত্য পিপাসু। প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম "জ্যোৎস্না বিলাসি প্রেম।"

সুস্থ মানুষ-ই পারে সুস্থ সমাজ গড়তে

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমাজবদ্ধ জীবন যাপন মূলত সুস্থ সুন্দর পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য। মানুষ সামাজিক জীব এ কথা সেই ছোট বেলা থেকে জেনে এসেছি এবং পড়েছি। কিছু মানুষ একত্রে বসবাস করে সেটা পরিবার। কিছু পরিবার মিলে একটা নির্দিষ্ট স্থানকে সমাজ নামে আক্ষা দেন। সমাজ মানুষকে সৃষ্টি করেনি বরং মানুষই তার চারপাশের প্রয়োজনীয় সকল কিছুকে ঘিরে সমাজ গড়ে তুলেছে। আর সমাজে কিছু নিয়ম কানুন বা অলিখিত আইন বেঁধে দিয়েছে।

‘সমাজ মূলত এমন এক ব্যবস্থা বোঝায়, যেখানে একাধিক চরিত্র একত্রে কিছু নিয়ম কানুন প্রতিষ্ঠা করে একত্রে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলে। মানুষের ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি এক হয়ে লিখিত কিংবা অলিখিত নিয়ম কানুন তৈরি করে; এ রকম একত্র বসবাসের অবস্থানকে সমাজ বলে।’ (উইকিপিডিয়া)

একমাত্র মানুষ ব্যতিত অন্য কোন প্রাণীর ক্ষেত্রে সমাজবদ্ধ বসবাস দেখা যায় না। সামাজিক উন্নয়নে বা অবক্ষয়ে মূল ভূমিকা রাখে মানুষ। মানুষের চালচলন, কাজকর্ম, আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সমাজকে। মোট কথা মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা মানে সেই সমাজেও পরিবর্তন আসা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এক সমাজ আরেক সমাজের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। পারিবারিক আবহ মানুষকে পরিবর্তনে আর সেই মানুষ সমাজ পরিবর্তনে কাজ করে।

আমরা মানুষই সমাজের পরিবেশকে সামাজিক ও অসামাজিক করে তুলি। আমরা স্থিতিশীল সমাজ কে অস্থিতিশীল করে তুলি আবার অস্থিতিশীল সমাজ কে স্থিতিশীল করি। সুস্থ সমাজ নষ্ট মানুষের ছোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে যায়। সেখানে জন্ম নেয় অপরাধ, সংঘাত। বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে বুঝা যায় সমাজের উপর মানুষের কতটা প্রভাব।

এক সময়ের বড় পরিবার গুলো ভেঙে ভেঙে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। সেই ক্ষুদ্র পরিবারের সন্তান গুলো দিনের পর দিন অবহেলায় একা বাসায় বড় হচ্ছে। কেউ বড় হচ্ছে আয়া বুয়ার কোলে। কিংবা এ যুগের অনেক টিভি সিরিয়াল দেখা মায়েদের অবহেলার চাদরে। বাচ্চারা বাবা মায়ের কাছে গেলে অনেকে বিরক্ত বোধ করে। হাতে ধরিয়ে দেয় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ভিডিও গেইম। সন্তানদের সময় দেন না কথা বলে না এমনকি ওদের সাথে কোন খেলাও করেন না। এভাবে বাচ্চারা হারিয়ে ফেলে সোনালি শৈশব।

অনাদরে বেড়ে উঠা ছেলে বা মেয়েটি সামাজিকতার কিছুই শিখছে না। একত্রে বসবাসের দিক থেকে দিনে দিনে দূরে সরে যাচ্ছে। বাজে ছেলে মেয়েদের সাথে মিশছে বাহিরে গিয়ে। আর খোঁজ রাখছেন না বাবা মা কেউ। প্রযুক্তির প্রভাবে স্বামী স্ত্রীর মাঝে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। যার ফলাফল পারিবারিক ভাঙন। সন্তান হচ্ছে পিতা মাতার স্নেহ হারা। এটার প্রভাব সরাসরি সমাজেই আঘাত আনছে। বেড়ে যাচ্ছে অপরাধ। কমে যাচ্ছে সামাজিকতা আর বেড়ে যাচ্ছে অসামাজিকতা।

যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আধুনিক যুগে ছেলে মেয়েরা অনেক দ্রুত সব পেয়ে যাচ্ছে। অল্প বয়সে পেয়ে যাচ্ছে নানান প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আল্ট্রা মডার্ন হচ্ছে দিন দিন। এখন বন্ধুদের সাথে বিকেলের আড্ডায় কথার থেকেও বেশি থাকে হাতে রাখা ফোনের প্রতি মনোযোগ। থাকে সেলফি তোলার ঝোঁক। সেই সেলফি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে কে কত বেশি লাইক, কমেন্টস এবং শেয়ার পেলো সেই হিসাব।

বর্তমান সময়ে নতুন কিছু আসলে দ্রুত লুফে নেয়ার একটা অসুস্থ মানসিকতা দেখা যায় আমাদের মাঝে। আমরা একটা বিষয়ে যাচাই বাছাই না করেই সে বিষয়ে লিখতে থাকি এবং ফলাও করে প্রচার ও প্রসার করতে থাকি। কে কার আগে পোষ্ট করবো আর বেশি বেশি লাইক পাবো শুধু এটা নিয়ে ভাবনা আমাদের। খুব দ্রুত সবার কাছে জনপ্রিয় হওয়ার চিন্তা থাকে সব সময় আমাদের মাঝে। দেখা যায় খুব ক্ষুদ্র একটা তুচ্ছ বিষয়কে আমরা বেশ বড়সর আকার দিয়ে মানুষের মাঝে উপস্থাপন করছি। এতে করে সেই বিষয়টা যেমন মান হারাচ্ছে তেমনই আমাদের মূল্যবোধের অবনতি হচ্ছে। আর সেটা ছড়িয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রের কোনায় কোনায়, মানুষে মানুষে। অনেক অনলাইন পত্র-পত্রিকা অজকাল ভুয়া খবর প্রচার করে থাকে। এটাও সামাজিক অবক্ষয়ের একটা বিরাট ভূমিকা রাখছে।

এ সকল সস্তা জনপ্রিয়তার মোহ ত্যাগ করে আমাদের সুস্থ মানসিকতাকে জাগ্রত করতে হবে। কোন বিষয় নিয়ে বিস্তর জ্ঞান লাভ করেই কেবল সে বিষয়ে কথা বলতে হবে। পারিবারিক সুস্থ আবহ গড়ে তুলতে হবে। সর্ম্পকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান থাকতে হবে। সংবাদ মাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতে হবে। সর্বোপরি নিজেকে ব্যাক্তিত্ব সম্পূর্ন, সৎ চরিত্রবান, এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী সম্পূর্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ একমাত্র সুস্থ মানুষ পারে সুস্থ সমাজ গড়তে।

© রাকিবুল হাসান শ্রাবণ
টঙ্গী, গাজীপুর, ঢাকা।
২৫ জুলাই ২০১৮ ইং।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৩৮
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজয়ী

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিজয়ী
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

বিজয়ী কখনো কখনো হেরে যায়
হঠাৎ কেউ টপকে যায় তাকে
সেরা সবসময় সেরা থাকে না
পরাজিত হয়ে সে কাঁদে, ভেঙে পড়ে।
জয়লাভ প্রায় প্রত্যেকে আনন্দিত করে
আর হার প্রায় প্রত্যেকে দুখি করে।
আমরা কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিল্প ও সাহিত্যের নবজাগরণ: যুগপৎ আন্দোলন এবং মৌলিকতার স্বরূপ।

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২



সভ্যতার বিকাশ, সমাজের রূপান্তর এবং মানুষের আত্মিক উৎকর্ষ সাধনে শিল্প ও সাহিত্য এক অবিনাশী চালিকাশক্তি। একটি জাতির মননশীলতা কেমন হবে, তার নৈতিক ভিত্তি কতটা দৃঢ় তা নির্ভর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×