somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝ এ ঝর্ণাবতী

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঝ য়ে ঝর্ণাবতী একটা রূপকথার গল্প। ঝর্ণাবতীর জন্ম ঝাড়সুগুদা। রাজা ঝড়েশ্বর আর রাণী ঝিলমের একমাত্র মেয়ে। এক বর্ষার দিনে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছিল। সেই ঝোড় লগ্নেই ঝড়েশ্বর আর ঝিলমের মেয়ের জন্ম। বাবা মা নাম রাখলেন ঝর্ণাবতী। রাজা ঝড়েশ্বর কলেজে ইতিহাস পড়ান। আর রানী ঝিলম স্কুলের ভূগোল। তাদের দক্ষিণ বারান্দা আর দরজায় কলিং বেল লাগান রাজপ্রাসাদ, বুকে কালো ফিতেই বাঁশী লাগান সিড়িজ্ঞে পেয়াদা, একটা লাল রঙের পেট্রোল এর রথ, হেঁসেলের লোক, ভৃত্য মায় সব ই আছে, রাজারাজরাদের যেমন থাকে আর কি! এই রাজবংশে যখন অনেকদিন পর ঝর্ণাবতীর জন্ম হল তখন তার আদরের সীমা থাকল না। আর এই আদরের প্রবাহতেই স্বাভাবিকভাবে রাজকণ্যা বুদ্ধিমতীর সাথে সাথে হয়ে উঠলেন ধীরে ধীরে এক জেদী রাজকন্যা। ঠিক ঝর্ণার মত তার রূপ আবার ঝর্ণার মতোই তার তেজ। কিন্তু ঝর্ণাবতী যত বড় হতে লাগল তার ভেতর একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলেন তার বাবা মা। বাবা ঝড়েশ্বর আর মা ঝিলমের জন্যই হোক বা ঝমঝমে ঝড় লগ্নে জন্ম গ্রহণের জন্যই হোক বা ঝাড়সুগুদায় বাস করার জন্যই হোক, ঝর্ণাবতীর ঝ এর প্রতি এক নিবিড় এবং অক্লান্ত ভালোবাসা। কয়েকটা উদাহরণ দিলেই সেটা বোঝা যাবে।
পুজার সময় রাজা ঝড়েশ্বর আর রাণী ঝিলম ঠিক করলেন ঝর্ণাবতীর মামার বাড়ী মিথিলায় আমোদ প্রমোদ করতে যাবেন। কিন্তু বাধ সাধল রাজকণ্যা ঝর্ণাবতী। সে যেতে চায় ঝিখিরা। সেখানে আছে তার পিসিরা। বাবা মায়ের কথা সে কিছুতেই শুনবে না। অদম্য জেদ যে তার। ঝর্ণার জলের মতই উড়িয়ে দেয় সে কিছু পছন্দ না হলে। এরপর আবার, যেখানে ঝ এসে গেছে চিন্তায়, আর তো তাকে থামান যাবেনা। এরকম অনেকবার হয়েছে। বাঁকিপুর ক্যান্সেল হয়ে ঝাঁকিপুর যেতে হয়েছে, কাবাব ক্যান্সেল করে ঝিঙের ঝোল খেতে হয়েছে, ঝুলনে ঝুল ঝাড়তে হয়েছে, আবার একবার ঝাল ঝাল ঝামটা ঝেলতে হয়েছে অন্য রাজার অনুচরকে ঝর্ণাবতী ঝুমঝুমি বলে বিদ্রুপ করেছিল বলে।
দেখতে দেখতে ঝর্ণাবতী বড় হয়ে গেল। এরপর যা হয় আর পাঁচটা জেদী রাজকণ্যার মতো তার বাবা রাজা পরিচিত গনিত অধ্যাপকের ছেলে সুশীলের সাথে বিবাহ ঠিক করলেন। কিন্তু এখানেও বাধ সাধল সেই ঝ। ঝরিয়ায় এক ঝর্ণাতলায় ঝুনঝুনওয়ালা নামক এক বনিকপুত্রের সাথে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ঝুপ করে দেখা হয়ে গেল আর টুপ করে ঝর্ণাবতীর ভাল লেগে গেল। এরপর একদিন একরকম অশান্তি করে বাড়ীতে ঝামেলার ঝর্ণামালায় মুখরিত করে বনিকপুত্রকে সে বিয়ে করে ফেলল। কিছুকাল পর ঝর্ণাবতীর এক ফুটফুটে কণ্যা হল। এবারও ঝ এর পথ অনুসরণ করে ঝর্ণাবতীর মন তুষ্ট করে নাম রাখা হল ঝিনুক। এরপর ঝিনুক ও বড় হল। ঝর্ণাবতীর রূপ রঙ তো সে পেয়েইছে তার সাথে পেয়েছে আরো বেশী তেজ আরো বেশী প্রখর বুদ্ধি। পাড়ার রাজপুত্ররা এই তেজবুদ্ধিরূপ দেখে ওকে ঝিনুক না বলে ঝিণকু বলে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু ঝিনকু মায়ের থেকে যা পেলনা তা হল সেই ঝ। তার ঝ এর প্রতি কোন আগ্রহ নেই। এদিকে ঝিনুকের ঝ গোত্রে বিয়ে দেবার চেষ্টা চলতে লাগল। ঝর্ণাবতী ঝাঁসি থেকে সম্মন্ধ আনে, ঝিন্দ থেকে সম্মন্ধ আনে, ঝাঁঝা থেকে সম্মন্ধ আনে, ঝাঁপানডাঙা থেকে সম্মন্ধ আনে। সমস্ত ঝাঁ চকচকে একাধারে ঝানু অন্যধারে ঝক্কাস পরিবারের থেকে, কিন্তু ঝিনুক রাজী হয়না। এদিকে ঝর্ণাবতীও তার বাবার সাথে যে জেদ করেছিল যৌবনে, নিজের মেয়ের সাথে তা করতে পারছে না। এক ঝর্ণা থেকে উৎসারিত আরেক ঝর্ণা যেমন সমস্ত শক্তি আর সৌন্দর্য নিয়ে এক নতূন রূপ ধারন করে, আগের উৎস ঝর্না হয়ে পড়ে গতিহীন জলধারা, তেমনি দুর্বল হয়ে গিয়ে নিজের মেয়েকে তার জেদ দিয়ে ঝ নামক অলংকার পরাতে পারলেন না। সে যে এখন ঝিনকু হয়ে গেছে।
এটা সাধারণ গল্প হলে এখানেই শেষ করা যেত। কিন্তু এ যে রূপকথা। তাই নিচের অংশ দিয়েই শেষ করা হল।
যে ঝরিয়ায় পঁচিশ বছর আগে ঝ এসেছিল ঝর্ণাবতীর সাথে, সেই ঝ যেন ঝিনকুর সাথে সেই ঝরিয়াতেই ঝরিয়া গেল

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×