somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহিম মিয়ার সোনালি অশ্রুধারা

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রহিম মিয়া খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে টিউবয়েল থেকে হাত-মুখ ধুয়ে, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি ঢকঢক করে পান করলেন। এরপর ফ্রেশ হয়ে গোয়ালঘর থেকে গরু-ছাগল বের করে বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় বেঁধে রেখে, ওদেরকে খাবার দিয়ে রওনা দিয়েছেন তার ধান ক্ষেতের দিকে। ফজল শেখ, সুরেশ বাবু, আর গাজী সাহেবের ফসলের মাঠ পেরিয়ে তারপর রহিম মিয়ার ধানক্ষেত। রহিম মিয়ার এক দাগে চার বিঘা ধানের জমি। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঝ দিয়ে রহিম মিয়া যখন হেঁটে তাঁর ফসলের ক্ষেতে যান, তখন চারপাশের সবুজের মিতালি রহিম মিয়ার মনটাকে সতেজ করে দেয়। রহিম মিয়ার ধান ক্ষেতের কাছে আসতেই মনটা ভালো হয়ে যায়। হালকা ঝিরঝিরে বাতাস এসে ধানের শীষগুলোর মাথা দুলিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। এবারের ধানের শীষগুলো অনেক পরিপুষ্ট হয়েছে। এবারের ধানের ফলন গতবারের চেয়ে বেশি হবে এ কথা হলফ করে বলা যায়। ধানের শীষের দোলা দেখে রহিম মিয়ার মনটাও একটু দুলে ওঠে। রহিম মিয়া ধান বিক্রি করে এবার কি কি করবেন তার একটা হিসাব মনে মনে করে ফেলেন। ছেলেটাকে একটা সাইকেল কিনে দিতে হবে, ওর স্কুলে যেতে কষ্ট হয়। মেয়েটা ধরেছে নতুন কি যেন এক জামা এসেছে সেটি কিনে দিতে হবে। অনেক দিন ধরে বায়না করছে কিন্তু দেওয়া হচ্ছে না। বাড়ির গিন্নি আবার কি কি ঘরের জিনিস কিনবে সেখানে আবার কিছু টাকা দেয়া লাগবে, নইলে এবার আর তার মুখের দিকে তাকানো যাবে না। এবার রহিম মিয়া ভাবছেন, ধানের দাম ভালো পেলে ধান বিক্রি করে ছোট্ট একটা পুকুর কাটবেন বাড়ির পাশে। তাহলে মাছের অভাব হবে না, আর পুকুর পাড়ে কয়েকটা আম গাছ লাগাবেন। এই সব স্বপ্ন দেখতে দেখতে রহিম মিয়া খুশি মনে বাড়িতে এসে গিন্নির কাছে ভাত চান। আজ রহিম মিয়ার মনটা খুব খুশি তাই গিন্নির হাতের কচু শাক আর ডাল যেন অমৃত লাগছে। গিন্নিকে সে কথা বলতেই গিন্নি একটা ঝামটা দিয়ে বলে, ‘ বুড়ো বয়সে কত রঙ্গ!’ সত্যি রহিম মিয়া কি বুড়ো হয়ে গেছেন। আগে গিন্নির সাথে সুযোগ পেলেই কত রসিকতা করতেন, আনন্দ করতেন, খুনসুটি করতেন। আর এখন খাওয়ার সময় আর ঘুমানোর সময় ছাড়া গিন্নির সাতে ভালো করে দুটো কথা বলাই হয় না। আগে কি সুন্দর স্বাস্থ্য ছিল গিন্নির, প্রথম যৌবনে যখন হেসে হেসে গিন্নি কথা বলত তখন রহিম মিয়ার হার্টবিট বেড়ে যেত। আর এখন রোগে ভুগে বেচারির যে অবস্থা হয়েছে তা দেখলে রহিম মিয়ার কষ্ট হয়। রহিম মিয়া ভাবছেন এবার ধান উঠলে গিন্নিকে ভালো একটা ডাক্তার দেখাবেন। যেন তার আর কষ্ট না হয়। এভাবে সময় এগিয়ে যেতে থাকে। রহিম মিয়ার সোনালি ধান কাটার সময় এগিয়ে আসে। এবার কৃ্ষি শ্রমিকের দাম বেড়ে ৪০০ টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। যাই হোক সেটি কোনো সমস্যা না। রহিম মিয়ার ধান কাটা সারা। এবার ধানের ফলন গতবারের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। রহিম মিয়া বাজারে যান ধানের দামের খোঁজ নিতে। রহিম মিয়ার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ধানের মণ মাত্র ৬০০ টাকা! রহিম মিয়া চেখে সর্ষের ফুল দেখতে থাকেন। পাওয়ার টিলারওয়ালা এখনো টাকা পাবে, সার-তেলের দোকানে হালখাতা, কৃষি শ্রমিকের টাকাটা এক মহাজনের কাছ থেকে নিয়েছিলেন। এ মাসেই না দিলে সামনের মাসে সুদ গুনতে হবে। সারা বছর যে দোকান থেকে বাকি করে খেয়েছেন সেখানেও হালখাতা। ধান কাটার পর আবার জমি চাষ করতে হবে সেখানেও অনেক টাকা দরকার। ওদিকে ছেলে-মেয়ে-গিন্নি তাকিয়ে আছেন ধান বিক্রির টাকার দিকে। রহিম মিয়ার গা-হাত-পা টলতে তাকে, গা দিয়ে ঘাম ছুটতে থাকে। রহিম মিয়া বারান্দায় শুয়ে আছেন. চোখটা কেমন যেন ঝপসা লাগছে। সেই ঝাপসা চোখে উঠোনে তাকিয়ে দেখতে পান সোনালী ধানের স্তুপ। কিন্তু কি আশ্চর্য তার সোনালি ধানগুলো এত ধুসর রঙের দেখাচ্ছে কেন। রহিম মিয়া ভেবে পান না এই রং পরিবর্তনের কারণ। রহিম মিয়া উঠেনোর দিকে এক দৃ্ষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। তার দু’চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে সোনালি অশ্রুধারা!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৪৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×