somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর জন্যে ভালোবাসা (দশ)

১৪ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ওলিম্পাসের যত কাছাকাছি যাচ্ছে ততই অবাক হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র।এখানে যে বসতি ছিল তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।প্রকৃতিকে সুন্দর ভাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।ওলিম্পাসের এক ঢালে ওরা ওদের উড়ন্ত যান নামায়।সামনে একটি টানেল নজরে পড়ে পুত্রের।

-লিও,চল টানেলের ভেতরে যাই।

রোবটের নাম দিয়েছে লিও।টানেলের দিকে হাঁটা শুরু করে পুত্র ও লিও।টানেলের যত ভেতরে যেতে থাকে আলো তত কমে আসতে থাকে।লিও ওর শরীর হতে আলো বের করে।আস্তে আস্তে টানেল বড় হতে থাকে।

-লিও,এখানে নিশ্চয়ই আলোর ব্যবস্থা ছিল?

-আমি সার্চ করছি।

পুত্রের চোখে একটা মেশিন ধরা পড়ে।দু’জনে মেশিনের কাছে যায়।পুত্র বুঝতে পারে দু’জন ব্যক্তি বহন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি যান।এই টানেলে চলার উপযুক্ত।

-লিও,এটি কি এখনও চলাচলের উপযুক্ত আছে?

-এই যানটির জন্যে কোন তথ্য আমার ডাটাবেসে নেই।

পুত্র সামনে এগিয়ে যেতে থাকে।আরও কিছুদূর যাওয়ার পর পুত্র লক্ষ্য করে ওরা বিশাল এক কক্ষে চলে এসেছে।আলো বেশীদূর যাচ্ছেনা।আশেপাশে তাকিয়ে দেখতে থাকে ওরা।

-পুত্র আমি একটি সুইচ প্যানেল পেয়েছি।

পুত্র লিওর কাছে যায়।ভালো করে পরীক্ষা করে বুঝতে পারে এটি এই টানেলের কন্ট্রোল প্যানেল এবং একটি কম্পিউটার।অনেক প্রাচীন।পুত্র বা লিও কেউ এই মডেলের সাথে পরিচিত নয়।দু’জনে কিছুক্ষণ পরীক্ষা করে কন্ট্রোল প্যানেল।

-পুত্র,এই কম্পিউটার অত্যন্ত শক্তিশালী আর এটোমিক এনার্জির সাথে লিংক করা আছে।

পুত্র চুপচাপ দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বাটন দেখতে থাকে তারপর একটা বড় বাটন ঠেসে ধরে।তীব্র উজ্জল আলোয় চারপাশ আলোকিত হয়।পুত্র আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করে ওরা একটি প্লাটফর্মে ।আর নীচে সারিবদ্ধভাবে সাজানো বিশাল কয়েকটি স্পেসশিপ।পুত্র বুঝতে পারে আসলে টানেলের পথে এই প্লাটফর্ম সংযুক্ত ছিল।

-লিও,এটির এনার্জি সোর্স এখনও সচল।এটোমিক রি-এক্টরটি কোথায় তা খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

-পোর্টেবল স্ক্যানার আমরা নিয়ে আসিনি।

-তুমি গিয়ে নিয়ে এসো।

লিও চলে যায়।পুত্র বিভিন্নভাবে কম্পিউটার পুরো সচল করার চেষ্টা করে।লিও স্ক্যানার নিয়ে ফিরে আসে।

-পুত্র,আমরা অনুসন্ধানের কাজ শুরু করতে পাড়ি।

-আমি এখন ব্যাস্ত।তুমি অপেক্ষা কর।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পুত্র সফল হয়।মেয়েলী কন্ঠ বেজে উঠে।

-আপনাকে স্বাগতম বাংলাদেশ মহাকাশ স্টেশনে।আপনি যদি এই স্টেশনের নিয়ন্ত্রক হন তবে আপনার ডিএনএ আমাকে সনাক্ত করার অনুমতি দিন।

-কিভাবে আমি অনুমতি প্রদান করবো? পুত্র বলে।

-আপনি এই পাশের কাঁচের কক্ষে প্রবেশ করুন।

পুত্র কাঁচের কক্ষে প্রবেশ করে। একটি ছোট্ট উড়ন্ত রোবট ওর চুলের নমুনা নেয়।ওর সারাদেহ স্ক্যান হয় কক্ষটিতে।সবশেষ হলে কাঁচের দরজা খুলে যায়।পুত্র কম্পিউটারের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।হঠাৎ হলোগ্রাফিক একটি মেয়ে পুত্রের সামনে এসে দাঁড়ায়।পুত্র হকচকিয়ে যায়।মেয়েটি একদম মাকারোভার মত।পুত্রের মুখ দিয়ে কোন কথা বের হয়না।

-স্বাগতম তিতাস।তুমি কি পৃথিবীতে যাওয়ার জন্যে শিডিউল ঠিক করেছো?নীল সাগর আর লালমনি যাত্রার জন্যে পুরোপুরি প্রস্তুত।পারাবতকে রিফুয়েলিং করতে হবে।আমাকে একমাস সময় দাও।

-আমাকে তিতাস বলছো কেন?আমি ব্রহ্মপুত্র।

-তুমি তিতাস।আমি কোন যান প্রস্তুত করবো তোমাদের যাত্রার জন্যে?

-না,আমি এখন যাবোনা।

-তুমি কি এনার্জি সেক্টরে যেতে চাও?

পুত্র কিছুক্ষণ ভাবে তারপর সম্মতি জানায়।

-ধন্যবাদ।একটু অপেক্ষা করো তোমাদের বহনকারী যান এখনই চলে আসবে।

পুত্র লক্ষ্য করে প্লাটফরমের দিকে একটি যান উড়ে আসছে।যানটি এসে প্লাটফরমের এক জায়গায় অবস্থান নেয়।

-তুমি এনার্জি সেক্টর হতে বাড়ি যেতে চাইলে আমাকে বলো।

লিও আর পুত্র যানে উঠে বসে। পুত্র গভীর চিন্তায় ডুবে যায়।কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর ও খুঁজে পাচ্ছেনা।যানটি চলা শুরু করে।টানেলটি ওলিম্পাসের বিপরীত দিকে শেষ হয়েছে। যানটি ওলিম্পাস ছেড়ে কিছুক্ষণ উড়ে চলে।তারপর এক খাদের উপর এসে স্থির হয়ে থাকে।পরিশেষে দ্রুত নীচের দিকে নামতে থাকে।পুত্র নীচের দিকে তাকিয়ে দেখে যেটিকে খাদ মনে হচ্ছিল ওটি আসলে খাদ নয়।খাদের মুখ খুলে যায়।যানটি ভেতরে গিয়ে একটি প্লাটফরমে অবতরণ করে।ওরা যান থেকে নেমে আসলে হলোগ্রাফিক মাকারোভা ওদের পাশে আসে।

-তিতাস,তোমাকে স্বাগতম এনার্জি প্ল্যানটে।তুমি কি এনার্জি প্লানটে আজ কাজ করবে?

-না।আজ আমি দেখবো।

পুত্র আর লিও ঘুরে ঘুরে প্লানট দেখে বেড়ায়।দেখা শেষ হলে আবার যানে গিয়ে বসে।যানের ভেতরে মাকারোভার কন্ঠে বলে উঠে-তিতাস বাড়ি যেতে চাইলে সবুজ বোতামটি স্পর্শ করো।


পুত্র নীচে তাকিয়ে দেখে সারি সারি আইচ ডোম।যানটি একটি আইচ ডোমের সামনে আসে।ভেতর হতে যানটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান করা হয়।বাড়ির একপাশ খুলে যায় আর যানটি ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে প্রবেশ করা মাত্র দরজাটি আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়। পুত্ররা নেমে লবি ধরে হাঁটতে থাকে।লবির শেষ মাথায় দেয়ালে একজনের ছবি ঝুলানো ।ছবিটিতে যে ব্যক্তির ছবি সেই ব্যক্তি ওর গ্রহের সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান।পুত্রের কাছে সবকিছুই ধাঁধার মত লাগছে।ওরা একটি সুজ্জিত কক্ষে প্রবেশ করে।পুত্র আর লিও একটি ছবির সামনে দাঁড়ায়।ছবিটি ওর আর মাকারোভার।একসাথে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

http://www.somewhereinblog.net/blog/SudipKumar/30202127

(চলবে)



সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৩৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মিনি পোস্ট!

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬

ইদানীং ব্যস্ততার কারণে সামুতে আসা হয়না। মাঝে মাঝে ঢু মারলেও লগইন করা হয়না।
আজ একটা ভাবনা মনে উদয় হওয়ায় সবার সাথে শেয়ার করতে এলাম-

জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×