somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যাপি-রুবেলঃ আম ও আঁটি

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দোষ বেলের না; দোষ মাথার! আবার দোষ মাথার না; দোষ হলো যে মাথাকে ন্যাড়া করেছে! - এভাবে যুক্তি দিয়ে আরও অনেক কিছুই বলা যায়। দোষ খুঁজে লাভ কি? এক্ষেত্রে দেশীয় প্রবাদটা হল- বেল পাকলে কাকের কি?
হ্যাপির আর রুবেলের ঘটনাটা অনেক ভাবেই প্যাঁচানো যায়! মোদ্দাকথা হলো- রুবেল, হ্যাপির সাথে সহবাস করেছে এবং পরে তাকে ছেড়ে দিয়েছে; আর হ্যাপি সেটাকে 'বিনা যুদ্ধে ছাড়িবো না সূচ্যগ্র মেদিনী' পণে রুবেলের নামে 'ধর্ষণ মামলা' দায়ের করেছে। এর মধ্যে কে কাকে কি প্রতিশ্রুতি কি দিয়েছিল, সে কথা কেউ সঠিক করে বলতে পারবে না; কারণ ভালবাসায় হয় না এমন কোন ঘটনা পৃথিবীতে নাই!
অনেকে বলেছে- হ্যাপি এই প্রসঙ্গে ধর্ষণের মামলা করতে পারে না কারণ সে যা করেছে তা সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় করেছে! আবার কেউ কেউ বলেছে এই মামলা আদালতে টিকবে না! আমি যদিও আইন বিষয়ে কিছুই জানিনা তবুও পত্রিকার পড়ে যতদূর জানতে পেরেছি বা জানি সে বিষয়ে কিছু বলার ইচ্ছা প্রকাশ করছি-
প্রথমেই বলি ধর্ষণ প্রসঙ্গে –
যদি হ্যাপি নাবালিকা হয় তাহলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতেও যদি সহবাস হয় তাহলে সেটা আইনত ধর্ষণ এখানে ধরে নিচ্ছি রুবেল সাবালক। ইতালির সরকার প্রধান- বারলুস কোনি নাবালিকা বেশ্যার সাথে টাকার বিনিময়ে সহবাস করেও আদালতে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।
আবার ভারতীয় আদালতের রায় অনুযায়ী- যদি দুজন সাবালক/সাবালিকা নর-নারী পারস্পরিক সম্মতিতে একসাথে থাকে ও সহবাস করে তাহলে তারা বৈধ স্বামী-স্রী হিসেবে গণ্য হবে।
এখন আসি প্রতারণা প্রসঙ্গে –
প্রেমের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়া একটা স্বাভাবিক ঘটনা। যে এটাকে সহজভাবে নিতে পারে সে পরবর্তী জীবনে সুখী থাকে; আর যে এটাকে সহজভাবে মেনে নেয় না; সে জ্বলতে থাকে। এক্ষেত্রে সে হয়ে উঠতে পারে প্রতিহিংসা পরায়ণ; খুনোখুনি পর্যন্তও ঘটে যায়। এক্ষেত্রে হ্যাপি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে পড়েছে রুবেলকে অন্য মেয়ের সাথে নয়-ছয় করতে দেখে। ধারনা করি- রুবেল যদি অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে না জড়াতো তাহলে হ্যাপি হয়ত চুপচাপ ছ্যাকাটা মেনে নিত!
একটা গল্প বলি-
প্রথম পর্ব:
অনেকদিন আগে- আমাদের এলাকার একটা ছেলে থানার বড় দারগার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেল স্বেচ্ছায়; আর তাদের পালানো ও বিয়েতে সাহায্য করলো ছেলেটির কয়েক বন্ধু। ঘটনা যখন জানাজানি হলো- পুলিশের প্রথম কোপটা পড়লো ছেলের বন্ধু ও তাদের পরিবারের উপর। যারা ধরা পড়লো তারা “পুলিশের মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে” বেদম পিটানো খেলো, দুই একজনের হাত-পাও ভেঙ্গে গেল, জেল খাটলো, অনেকেই এলাকা ছাড়লো। কিন্তু ছেলে-মেয়েকে আর পাওয়া গেল না কারণ তারা তখন সুখে সংসার করছিল গোপন স্থানে।
দ্বিতীয় পর্বঃ
বছর দুয়েক পর থানার দারগা সাহেব ট্র্যান্সফার হয়ে অন্য এলাকায় চলে গেলে ছেলেটাকে আবার গ্রামে দেখা গেল। কিছুদিন পর শোনা গেল ছেলেটি এখন শশূড়বাড়ী নিয়মিত যাতায়াত করে এবং তাদের বিয়েটাকে মেনে নেওয়া হয়েছে। ছেলেটার বন্ধুদের কেউ কেউ তখনো মেয়ে অপহরণের দায়ে জেল খাটছে।
শেষ পর্বঃ
এলাকায় চাউর হওয়া তথ্যটা যখন সঠিক বলে প্রমাণিত হলো- একদিন ছেলেটির সেই বন্ধুরা যারা তার জন্য নগদ পিটানি খেয়েছিল- তারা একজোট হয়ে ছেলেটিকে এমন পিটানি পেটালও যে কেউ ভাঙল হাত কেউ ভাঙল পা। সুদে আসলে, ছেলের শশুড়বাড়ী আর তার বিটলামী দেখে, রাগ করে।
গল্পের ম্যাজেজাঃ
এই গল্পের ম্যাজেজা হলো – ছেলের বন্ধুদের মার ফেরত দেওয়া সুযোগ সব সময় ঘটে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমে দুধে মিলে যায়; পড়ে থাকে আঁটি! বন্ধুরা সাধারণত এই আঁটি’র রূপ ধারণ করে। আর আমরা যারা হ্যাপিদের ঘটনা নিয়ে চিন্তায় দিন গুজরান করছি; তারাও আঁটি হয়ে যেতে পারি যেকোন মুহূর্তে। প্রেমের ক্ষেত্রে দুটো প্রবাদ খুব খাটে-
১) প্রেমের মরা জলে ডোবে না।
২) প্রেমে নাই কোন অপরাধ।
এখন যদি রুবেল ফোন করে হ্যাপিকে বলে, আমি যা করেছি ভুল করেছি, প্লিজ! ক্ষমা করো আমাকে! তাহলেই কেল্লাফতে! মিলঝিল! আমরা আঁটি !!!
অফটপিকঃ আমি আইনের কেউ না তবুও আইনের ব্যাখ্যা দিলাম; ভুল হলে কারেক্ট মি প্লিজ!!!
০১/০১/২০১৫
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×