somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সচেতনতাই পারে নারী নির্যাতন বন্ধ করতে

০২ রা জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারীবিষয়ক কোনো লেখা লিখতে গেলেই বার বার দুটি কথা মনে পড়ে। একটি হলো কাজী নজরুলের 'বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর', দ্বিতীয়টি হলো মাও সেতুংয়ের 'নারী হচ্ছে পৃথিবীর অর্ধেক আকাশ'। মানবসভ্যতার যাবতীয় অর্জনের পেছনে নারী ও পুরুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এটা সত্য, সত্য এবং সত্য। স্মরণাতীত কাল থেকে নারী পৃথিবীর উন্নত, অনুন্নত সভ্য-সভ্যতার সমাজে বিভিন্নভাবে কম-বেশি নির্যাতিত হয়ে আসছে, এটাও সত্য, সত্য এবং সত্য, নিতান্তই সত্য। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের কথা বলা হলেও বাস্তবে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে একাধিক উপায়ে। যেমন শারীরিক-মানসিক, অধিকারবঞ্চিত, প্রতারণা ইত্যাদি। নির্যাতনের কারণও ধরা হয় কয়েকভাবে যেমন পুরুষতান্ত্রিকতা, শিক্ষার অভাব, মূল্যবোধের অভাব, পারিবারিক ঐতিহ্য, সচেতনতার অভাব, দারিদ্র্য, যৌতুকলিপ্সা, বহুবিবাহ, জনসংখ্যার আধিক্য, স্বাস্থ্য, বিনোদন, সামাজিক অস্থিরতা, নিরাপত্তার অভাব, আবার নারীর অবাধ চলাফেরা। নির্যাতন আর নির্যাতনের কারণগুলো যখন সমাজে সুস্পষ্ট তখন এই কালো অধ্যায়ের প্রতিকারগুলো নিয়েও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও ব্যক্তিদের মতে, আইনের প্রয়োগ, শিক্ষা বিস্তার, নারী শিক্ষার প্রসার, নারীকে অধিকারসচেতন করে তোলা, আইনের শরণাপন্ন হওয়া, সামাজিক অস্থিরতা দূর করা, দারিদ্র্য বিমোচন, ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিলে এই অভিশপ্ত কালো ছায়া থেকে নারীদের মুক্ত করা সম্ভব। সভ্য সমাজের পৃথিবীতে অসংখ্য সঙ্কটের মধ্যে একটি সমস্যার নাম নারী নির্যাতন, একে অনাকাঙ্ক্ষিত বললে সমাজকে অস্বীকার করা হবে। যে কোনো সমাজে একজন নারীকে ব্যভিচারিণী বলা হলে তখন কেউই জানতে চায় না এই ব্যভিচারিণীর সঙ্গে জড়িত ছিল তো কোনো না কোনো পুরুষ। সমাজের টার্গেট শুধু সেই নারীই। এখনো আমাদের সমাজে একটা ছেলেশিশুকে দেখা হয় শিশু হিসেবে আর কন্যাশিশুকে দেখা হয় নারী হিসেবে। তবে সামান্য চিত্র ধরেছিলাম পত্রিকার পাতায় ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে। নারী নির্যাতনের একটি প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় যৌতুককে। বাংলাদেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি যৌতুক প্রথার প্রসারে সাহায্য করছে, এটা যেমন সত্য তাই বলে এটা নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ হিসেবে ধরার কোনো যুক্তিই কেউ দেখাতে পারবে না। স্বাধীনতার ৪০ বছর নয়, নির্বাচিত গণতন্ত্রের ২১ বছর নয়, কোনো বিশেষ নির্বাচনী দলের ক্ষমতার ৫ বছর নয়; যে কোনো একটি বছরে এই স্বাধীন বাংলাদেশে মোট কতজন নারী নির্যাতিত হয়েছেন, কতজন গৃহবধূ যৌতুকের বলি হয়েছেন, মেধাবী কত ছাত্রী প্রতারিত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন, কত মায়ের কোলের কন্যাসন্তান বিক্ষিপ্ত সমাজের কুখ্যাত লোকের হাতে নরপিশাচের কবলে পড়েছেন, তার হিসাব কেউই দিতে পারবে না। পারবে না কোনো নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সরকার দিতে। পারবে না। এ পর্যন্ত পারেনি, পারবেও না। সব সময় আমরা দেখে আসছি সরকারি আর বেসরকারি হিসাবে অনেক ব্যবধান থাকে, তবে নারী নির্যাতনের যে হিসাব ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে সংসদে তুলে ধরেছেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তাই দেখে বিবেকবানরা স্তম্ভিত। এ ক্ষেত্রে না হয় বেসরকারি হিসাবটা না-ই খোলা হোক। আর একটা ক্ষেত্রে সবাই একমত তা হলো আইন আর আইনের কাঠামো শক্ত অবস্থানে থাকলে সঠিক বিশ্লেষণ ও সঠিক ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা হলে সমাজে কিছু হলেও নারী নির্যাতনের হার কমে আসত। মাত্র কয়েক দিন আগে মিডিয়া সংবাদে বলেছে প্রতি বছর নারী নির্যাতনের যে বিচারগুলো আইনের ঘরে যায় তার মধ্যে প্রায় ৭৫ ভাগই অবহেলায় থাকে, যার ফাইলগুলো এ ঘর থেকে ও ঘরে বা এ টেবিল থেকে ও টেবিলে যেতে পারে না। শুধু কি নির্যাতন, এই নির্যাতনের লেশ কোথায় থেকে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার সামান্য একটি নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রিয় পাঠক, অনিচ্ছাকৃত কারো জীবনের সঙ্গে এ ঘটনা মিলে গেলে তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। খালেদার বিয়ে হয় ভালোবেসে। তিন সন্তানের জননী। ভালো আর মন্দের মাঝে চলছে সংসার। তিন সন্তান জন্মের পর শুরু হয় পরিবারে অশান্তি। সূত্রটা অশান্তি হলেও তা গড়িয়ে পড়ে নির্যাতনের দিকে। খালেদার স্বামী হেকমত। সে প্রায়ই ঘরে এসে মানসিক নির্যাতন করে খালেদাকে। খালেদা এ অবস্থা মেনে নিতে না পারলেও মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে রাখে। হেকমত দেখল খালেদাকে এভাবে শায়েস্তা করতে পারবে না। শুরু হলো খালেদার ওপর শারীরিক নির্যাতন। প্রায় দিন বাইরে থেকে এসে একটানা একটা কথা উঁচিয়ে খালেদাকে মানসিকভাবে আঘাত করত। বলতেই হয় 'নারী তুমি শক্তিশালী তা মনের, নর তুমি শক্তিশালী তা শরীরের'। একদিন সকালে সন্তানদের সামনে খালেদাকে মারতে মারতে এক পর্যায়ে তাকে দাঁড়ানো থেকে ফেলে দেয়। এর দুই দিন পর থেকে খালেদার কোমরে ব্যথা শুরু হয়। ডাক্তারের কাছে নেয়া হলে ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখেন খালেদার কোমরে একটা জয়েন্টে ফাঁক হয়ে গেছে। তখনই ডাক্তার বলেন, বড় ধরনের কোনো আঘাতের কারণেই এমন হয়েছে। কিছু দিন চিকিৎসা হয়। দেড় বছরের মাথায় আবার খালেদার কোমরে সমস্যা দেখা দেয়। আবারও ডাক্তার, পরীক্ষা। এবার ডাক্তারি পরীক্ষায় আসে তার কোমরের একটা হাড় বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ওষুধের মাঝে কোমরের ব্যথা কমিয়ে রাখা হল। প্রায় এক বছর পর অনেক অসুস্থ হয় খালেদা। একে একে কয়েকটা পরীক্ষা চলছে। এবার রিপোর্টে বলা হলো খালেদার মেরুদ-ের তিনটি হাড়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শ খালেদাকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে হবে। তিন বছর আগে পাওয়া ব্যথার জের ধরেই আজ খালেদার এ অবস্থা। খালেদা হেকমতকে তিন বছর আগের ঘটনাটি বলে। আজো হেকমত তার গলার হেকমতি জোরের তোড়ে বলে, তুমি তিলকে তাল বানাতে পার। খালেদা বলে, যাই হোক তিন বছর পর তুমি তিলটা তো স্বীকার করলে। মনে রেখ একদিন এই তালটাও তুমি স্বীকার করবে। সবই তোমায় স্বীকার করতে হবে। তবে দুঃখ একটাই,
যে সময়টায় আমার দৌড়ানোর কথা ছিল আমি দৌড়াতে পারিনি। আজ নিজে যখন দৌড়ানো শিখেছি তখনই আমার ঘরে ঢুকতে হলো। তবে আমার হাঁটার গতি কখনো বন্ধ করতে পারবে না। এটাই আমার মনের শক্তি।.
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×