somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"বাবনের প্রবাস যাত্রা"

২২ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়টা ২০০৫ এর শেষের দিকে। সকাল থেকেই মেঘাছন্ন আকাশ, টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে। রাতে বাবনের ভাল ঘুম হয়নি , কারন অনেক দিনের পুষে রাখা স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে তার। আজ বাবনের ফ্লাইট, জীবনে প্রথমবার পাড়ি দেবে সে প্রবাসে। অনেক উত্তেজনা কাজ করছে তার মনের মধ্যে। বিমান কত বড় হয়? নীল আকাশের ওই প্রান্ত থেকে কেমন দেখায় নীচের দৃশ্য? কেমনি বা দেখতে হয় বিদেশের মানুষজন- এমনি নানান সব কৌতুহলে ভরা বাবনের মন। গতকাল রাত থেকেই তার মায়ের চোখে জল, কিছুখন পর পরি মা রুমে এসে বাবনকে দেখে যায়, আর দুচোখ ভিজে যায় চোখের জলে। বাবনের বাবার মন খারাপ। তার সামনে বেশি একটা আসছে না তার বাবা। তবে একা বসে আছে বাইরের ঘরে। বাবনের ছোট ভাই কে.জি স্কুলে পড়ে। প্রবাসে পাড়ি দেয়া কি তা বুঝার মতন বয়স হয়নি এখনো তার। তবে এইটুকুন সে বুজতে পেরেছে যে এইবার বড়দা বাড়ি ফিরবে বহুদিন পর । বড়দা যাচ্ছে অনেক দূরে, যেখানে বিমান ছাড়া যাওয়া যায়না।

উত্তরাধিকার সূত্রে বাবন তার সকল খেলনা-পাতি আর জীবনের প্রথম উপার্জনে কেনা সাউন্ড সিস্টেমটা বুঝিয়ে দিল তার ছোট ভাইটিকে। তখনো যে বাবন জানতনা প্রবাস জীবন কতোটা দীর্ঘ হয়।
সকাল গড়িয়ে দুপুর, সময় এসে গেছে বিদায় জানানোর প্রিয় মুখগুলকে। এইবার তো মা’কে সামলানো মুশকিল হইয়ে গেল বাবনের। কান্না যে থামছেই না মমতাময়ী মায়ের। বাবন মাকে জড়িয়ে ধরে বলল - মা’ আমি বিদেশ গিয়ে সংসারের সব দুঃখ কষ্ট দূর করে দেব, তুমি শুধু আশীর্বাদ কোরও, এইবার হাসি মুখে বিদায় দাও মা ।

বিমান বন্দরে পৌঁছে গেছে বাবন, সাথে তার পরিবার। সময় যেনো একটু বেশিই তাড়াহুড়ো করে চলেছে আজ। সবাই বিদায় জানাল বাবনকে শুধু মাত্র তার প্রিয় বন্ধু নীলয় ছাড়া। সকাল থেকেই নীলয়ের মোবাইল বন্ধ। বাবন ভাবছে, যার সাথে শৈশবের এতোগুলো সুন্দর সময় কাটিয়েছি আজ যাবার বেলায় তার সাথেই দেখা হবে না আমার ? বাইরে তখন মুশুল ধারে বৃষ্টি নেমেছে, হঠাৎ বাবন দেখতে পেলো বৃষ্টিতে সারা শরীর ভেজা আর হাতে একটা ছোট্ট প্লাস্টিকের প্যাকেট নিয়ে নীলয় এগিয়ে আসছে তার দিকে। কাছে এসে প্যাকেটা হাতে দিয়ে বলল দোস্ত তোর জন্নে একটা ঘড়ি কিনেছি তুই হাতে পড়িস তাহলে আমার কথা মনে পড়বে। তোকে অনেক মিস করবো, ভাল থাকিস আর পৌঁছে আমাকে কল করিস। কিছু সময়ের জন্নে থমকে গেল বাবন, আর মনে মনে ভাবছিল- হাইরে কি ফেলে রেখে যে প্রবাসে যাচ্ছি আমি।

নীলয়ের মুখটা শুকনো হইয়ে আসল কারন বাবনের যে এবার যাবার সময় হইয়ে এল। কিছুটা মুচকি হেসে বাবন নীলয়কে বলল, আরে বেটা কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাটা মনে নাই তোর? “থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে,- কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে”

সব ভালোবাসা আর প্রিয় মুখগুলোকে ফেলে বাবন পাড়ি দিল প্রবাসে। পরিবার, স্বজন, বন্ধু বিহীন এক জায়গার নাম প্রবাস। সুখ কিনতে গিয়ে জীবনের সুখটাই বিক্রি করে দেয়ার নাম প্রবাস। হাজারো কষ্টের মাঝেও সুখ- দুঃখ বিসর্জন দিয়ে বছরের পর বছর কাটানোর নাম প্রবাস। নিজের ঘামের ঘ্রাণের টাকা দেশে পাঠিয়ে স্বজন আর দেশকে ভালো রাখার অনুভূতি কতো মধুর। আজো রাতের বেলায় বালিশে মাথা রেখে বাবন গুন গুন করতে থাকে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদ এর কিছু লাইন-

বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?
দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্ম-ভূমি-স্তনে!
আর কি হে হবে দেখা?


------ সানি মজুমদার
আবু ধাবি, ইউ এ ই

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×