somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার গ্রামের পাকা ঘর বাড়ি যমুনা নদীতে ভেঙে যাওয়ায় নিজ বাড়ির পাশাপাশি মসজিদটি নিয়ে বড়ই বিপদে পড়েছিলাম। মসজিদটি আমার বড়ির সাথে এবং আমাদের দেয়া ওয়াকফ্ সম্পত্তিতে হওয়ায় আমার বাবা সব দেখাশোনা করতেন এবং আমি আর্থিক দিকটায় কিছুটা সহযোগিতা করতাম। আমার বাবার মৃত্যু এবং আমার ঢাকায় চাকরির কারণে আমার পক্ষে ঢাকা থেকে এসে মসজিদের পুরাপুরি দায়িত্ব নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। নদী ভাঙার পর আমাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমের গ্রামে আমাদের জমিতেই মসজিদ দিতে চাইলেও কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি হলো না। অবশেষে নদী থেকে আরো পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে আমার বাবার এবং আমার কিছু নিজস্ব কেনা জমি ছিল, জেলা বোর্ডের প্রশস্ত রাস্তার সাথে তিন রাস্তার মোরে আমার নিজস্ব জমিতে নিজের টাকায় মসজিদ দিতে চাইলেও কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি হলো না। অনেক জয়গায় অনেকের কাছেই গিয়েছিলাম কেউ মসজিদ নিতে রাজি হলো না, অবশেষে মসজিদের মাইকসহ টিনের চালগুলো তিনটি মসজিদে দান করতে বাধ্য হয়েছিলাম।

দুই বৎসর আগে ছালাম নামের আমার রক্ত সম্পের্কের একজন ভাতিজা বলল, কাকা আপনি তো মসজিদ দিতে চেয়েছিলেন তখন তো ঘরবাড়ি কম ছিল, এখন নদী ভাঙা অনেক মানুষ এসে এই এলাকায় নতুন নতুন ঘর বাড়ি করেছে, মানুষজনও বৃদ্ধি পেয়েছে আশে পাশে কোন মসজিদও নাই, জুমার নামাজ পড়ার জন্য আমাদেরকে অনেক দূরে যেতে হয়, সেখানে গিয়ে জুমার নামাজ ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পড়া সম্ভব হয় না। আপনি তিন রাস্তার মোড়ের এই জায়গায় যদি মসজিদ দেন তাহলে এই এলাকার মানুষগুলো জুম্মার নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারবে। আমি বললাম, আমি শহরে থাকি মসজিদ দিলে এই মসজিদ চালাবে কে? ভাতিজা তৎক্ষনাৎ জবাব দিল, আমরা দেখা শোনা করবো, আপনাকে কোন চিন্তা করতে হবে না। আমি রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই ভাতিজাটি কিছুদিন পরেই হঠাৎ হার্ট এ্যাটাকে মারা গেল। আমার মসজিদ দেয়া আর হলো না। এর পরে আরেক দূরসম্পর্কের ভাতিজা আব্দুল্লাহ বলল, কাকা আপনি মসজিদ দেন আমি পাঁচ ওয়াক্ত আজান দিবো। সে ভাতিজাও ব্রেন স্ট্রোক জনিত রোগে দুই সপ্তাহ আগে মারা গেল। আল্লাহই ভালো জানেন, আমি মসজিদের কাজ শুরু করতে চাইলেও কেন শুরু করতে পারছি না, বার বার হোচট খাচ্ছি। চাকরি জীবনে বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় আরো তিনটি মসজিদ নির্মাণের সুযোগ হয়েছিল। সেই মসজিদগুলো নিজের টাকায় শুরু করলেও এখন আর আমাকে কিছুই করতে হয় না গ্রামের লোকজনই মসজিদগুলোর যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে, একটি মসজিদ পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে তিন তলা পর্যন্ত প্রায় সমাপ্তের পথে। এই মসজিদের জন্য আপাতত ৮শতাংশ জায়গা বরাদ্দ রেখেছি, সুযোগ সুবিধাসহ মুসুল্লির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে মসজিদটি আরো বড় পরিসরে বৃদ্ধিসহ মাদ্রাসা, মক্তব এবং পাঠাগার করার চিন্তা ভাবনাও আছে।

চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর আমিও মৃত্যুর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছি। বারবার হার্ট এ্যাটাক করে এযাবৎ বহুবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সাতবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে আল্লাহ আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। শেষের বার যখন হার্ট এ্যাটাক হয় তখন নাকি বেঁচে থাকার জন্য হাতে সময় ছিল মাত্র চার মিনিট। হার্ট ফাউন্ডেশনের ডাক্তাররা আমাকে এক ঘন্টা সময় দিয়েছিল। এক ঘন্টা শেষ হতে মাত্র চার মিনিট সময় ছিল। এই চার মিনিটের মধ্যে চিকিৎসা না হলে নাকি আমি আর ফিরতে পারতাম না।

নিজের আত্মীয় স্বজন কেউ সাথে ছিল না, সাথে ছিল অফিস কলিগ আব্দুল জব্বার। আব্দুল জব্বারের যোগাযোগের চেষ্টায় খবর পেয়ে উত্তরা থেকে মটর সাইকেল নিয়ে দৌড়ে এসেছিলেন ভাগিনা ফিরোজ। বনসইয়ের অভাবে হার্ট ফাউন্ডেশনের ডাক্তাররা আমাকে চিকিৎসা দিতে পারতেছিল না। কারণ তখন আমার মৃত্যুর পার্সেন্টেজ ছিল ৯৫% আর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল ৫% পার্সেন্ট। কাজেই নিজের আত্মীয় ছাড়া ডাক্তাররা এই রিক্স নিতে চাচ্ছিল না। বুকে ইলেকক্ট্রিক শক্ দেয়ার জন্য আব্দুল জব্বার আমার পক্ষে বনসই দিতে চাইলেও ডাক্তাররা রাজি হয় নাই কারণ সে আমার নিকট আত্মীয় না হওয়ায় তারা তার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ভাগিনা ফিরোজ যখন হার্ট ফাউন্ডেশনে এসে পৌঁছে তখন হাতে সময় ছিল মাত্র দশ মিনিট। ভাগিনার বন সই দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তাররা আমার বুকে ইলেক্ট্রিক শক দেয়ায় আমার হার্ট সচল হয়। মৃত্যুর দারপ্রান্তে আব্দুল জব্বার আর ভাগিনা ফিরোজকে আল্লাহ যেন ফেরাস্তার মত হাজির করে দিয়েছিল। তারা আমাকে এভাবে সহযোগিতা না করলে আমার ভাগ্যে কি হতো তা উপরওয়ালাই ভাল জানেন। তাদের দুইজনকেই সুস্বাস্থ্য কামনা করে হায়াত বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাই।

হার্টের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ভারতের বেঙ্গালোর পর্যন্ত ঘুরে আসতে হয়েছে। মৃত্যু যখন কাছাকাছি তখন আর সময় ক্ষেপণ না করে এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি শারিরিক, মানসিক, আর্থিক যত কষ্টই হোক না কেন মসজিদের কাজ শেষ করতে না পারলেও অন্তত শুরু করে যাই। আমি শুরু করে গেলে আল্লাহর ঘর আল্লাহ কাকে দিয়ে কিভাবে সমাপ্ত করবেন তিনিই ভালো জানেন।
নতুন মসজিদটির জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করি। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×