প্রসঙ্গ ষোড়শীর সাথে প্রেম- ষোড়শ সংশোধনী।
আহা সেই ছিল আমার প্রেম। মেয়েটি ভালবাসতো আমাকে - আর আমার ছিল স্নেহ- ছিল তার একটা দুষ্ট দুষ্ট ভাব। আমার অভাব ঘুচাবে বলে বাবা কে বললো সমাজতত্ত্বের একটা টিচার লাগবে। মোটা অংকের সেই টিউশনি আমার জীবনের এক অধ্যায়। সংবিধানের তখনো সংশোধনী ষোড়শ এসে পৌছায়নি।
আমি পড়াতাম গল্প করে - তাই তাকেই আবার সেই গল্প বলছি।
গাড়ির মালিকের গাড়ী কেনার টাকা আছে - গাড়ীতে চড়ার অধিকার আছে - কিন্তু তিনি গাড়ী চালাতে পারেন না। কিন্তু তিনি ড্রাইভার কে অপসারন বা চাকরীচ্যুত করার অধিকার রাখেন। আবার তিনি যখন আরেকজন ড্রাইভার রাখতে চান -ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করতে হয় ঐ ড্রাইভার টা ভালোতো। ঠিক ঠাক মতো চালায় তো।
এবং তার কথার উপর বিশ্বাস বা কান্ডজ্ঞানের প্রতি আস্থা রেখেই তাকে চলতে হয়।
এখন সাংসদরা বিচারকদের অপসারনের ক্ষমতা ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব রেখে সংসদে পাস করে - তাকে আমরা বলি ষোড়শ সংশোধনী।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোটের নয় জন বিজ্ঞ আইনজীবী রিট আবেদনে এই প্রস্থাপিত পাস কে অবৈধ ঘোষনা করে।
এই রায় কে বহাল রেখে আপিল বিভাগ আরো বিস্তৃত রায় দেন। যা বাংলার ঘরে ঘরে পড়া উচিত। তবে তোমাকে যে পড়িয়েছিলাম চুতুর্থ সংশোধনীর কথা - যা ছিল একজনই পারে ক্ষমতা প্রোয়োগ করতে তা ছিল শুধুই রাষ্ট্রপতি ।
তারপর একজন বোদাই রাষ্ট্রপতি ভাবলো কি দরকার আমার এই সব নিয়ে ভেবে ড্রাইভারাই ভাবুক না কে ভাল চালায় কে মন্দ চালায়। আমি শুধু চড়তে পারলেই হলো। তিনি দিলেন পঞ্চম সংশোধনী করে। তবে বুদ্ধির একটা মারপ্যাঁচ ছিল।
তারপর আরো কিছু চরম বোদাই - পঞ্চদশ সংশোধনী আনলেও যে লাউ সে কদুই ছিল।
এখন বলো যে গাড়ী চালাতে জানে না। তার কান্ডজ্ঞান দিয়া কি ড্রাইভার নিয়োগ বা অপসারন করা উচিত।
ড্রাইভারাই যদি তাদের যোগ্য ড্রাইভার খোঁজে নেয়। তোমার অসুবিধা কি। এটাই তো বাস্তবতা।
গাড়ীর মালিক যখন চালাতে শিখবে তখন ব্যপারটা ভিন্ন। এখন কেন মালিক বনে গিয়ে -চালাতে জানে না। লোকটা গাড়ীর মালিক হয়ে যায়। এই কথাটাই আমাদের ভুমিপুত্র সিনহা দাদা বিস্তারিত বলেছেন।
হে আমার প্রথম প্রেম প্রথম সংশোধনী - একটা অসংশোধনীয় জীবন দিয়ে তুমি চলে গেলে। ভাল থেকো, সুখে থেক সালমা।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


