somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ড্যাশিং ফ্ল্যাশব্যাক

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহবাগ। বেশ অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলাম, বাস আসছিলো না। শীত পড়ছিলো গতকালের প্রায় দেড়গুণ। ল্যাম্পোস্টর নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম আরো জনাবিশেক মানুষের সঙ্গে। অনেক বাস সবেগে চলে যাচ্ছিল, থামছিল না, তবে তাদের একটিও মিরপুরগামী নয়, উত্তরা বা এসব দিকের। মিরপুরের বাস নাকি সব মিন্টো রোড ধরে যাচ্ছে। তা যাক, বাস ধরার জন্য মৎস ভবন পর্যন্ত হাঁটার কোন আগ্রহ দেখালাম না। কিছুক্ষণ বাদেই তার ফল পেলাম, একটা ভাঙাচোরা মিনিবাস এসে থামলো। গায়ে লেখা ইটিসি, কোনভাবে পড়া যাচ্ছে বটে, কিন্তু কোথাও কোন রং বলতে গেলে নেই, উঠে গেছে। দরজাটা ভাঙা, একপাশে ঝুলছে। আর সে দরজা ধরে ঝুলছে শীর্ণকায়া হেলপার। আধখাওয়া মাংসল যন্ত্রটা কাছে এসে থামতেই সবাই পিরানহার মত ছেঁকে ধরল, ঝপাঝপ উঠে পড়লো। ভাগ্যগুণে ছিলাম সবার সামনে, তাই জনস্রোতের ভাল একটা বল ও তার ঘাত অনুভব করলাম, বাসের একেবারে পেছনে পাঠিয়ে দিলো। হলুদ আলো। সিটগুলো ভেঙে কোনটা সামনে হেলে পড়েছে. কোনটা পেছনে পড়েছে ঝুলে। সিট কভার নোংরা, ছেঁড়া, ভেতরের ফোম মগজের মত বেরিয়ে আছে। বসার সিট-পিসগুলো সিটের ফ্রেমের চেয়ে ছোট, কাঁটার মত কাঠামো বেরিয়ে আছে। পায়ের নিচে নড়বড়ে রূপালি মেঝে, শরীরের ভর বদলের সাথে সাথে মেঝেও ওঠানামা করে। সব মিলিয়ে বোঝা গেল, এটাকে যে পোড়ানো হতে পারে সে ব্যাপারে বাস কর্তৃপক্ষের টনটনে জ্ঞান রয়েছে। বাসের বয়স অন্তত কুড়ি বছর, দাম বহু আগেই উঠে গেছে, পুড়ে গেলে কোন অসুবিধে নেই, ভাবটা এমন। যাহোক, পেছনের সিটে দেখি এক যুবক বসে আছে, মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক। অসম্ভব আঁটো তার টিশার্ট, জিন্সের প্যান্টও তাই, চোখে মুখে একটা সতর্কতার ছাপ। পেশি টানটান হয়ে আছে ডিসকোবোলাসের মত। আমার দিকে তাকালো এবং চোখে একটা অপ্রস্তুতভাব খেলে গেল, চোখ এড়ালো না। আমি হাবাগোবা এবং গোঁয়ার টাইপ মানুষ, যে কারণে কেউ যা তা বুঝিয়ে যেতে পারে, এবং একবার কোন এক ব্যাপার মাথায় ঢুকে গেলে আর বেরোয় না সহজে। সেই ছেলে তার চোখেমুখের ত্রস্ততা, অস্থিরতা দিয়ে আমাকে কিছু বোঝাতে চাইলো, আমি তার কিছুটা বুঝলাম কিছুটা বুঝলাম না; কিন্তু সে আমার চোখে তাকিয়ে অপ্রস্তুত হয়ে গেলো যখন, তখন আমার মাথায় একটা কথা ঢুকে গেল, যেটা আর তাড়ানো গেল না। মনে হল, এ ব্যাটা তো তক্কে তক্কে আছে! পত্রিকায় পড়েছি, বাসের ভেতর থেকে আগুন দেয়া হলে আগুনদাতা নাকি সবচেয়ে পেছনের সিটে, জানালার পাশে বসে। এর স্থানাঙ্ক তো সব মিলে গেছে! এবার? আমি তার দিকে ঠায় তাকিয়ে রইলাম। সে নড়ে চড়ে বসল। মনে হল তার অণ্ডকোষের কাছে একটু কিছু লুকিয়ে রেখেছে সে, আমার ভুলও হতে পারে। সেখানে হাত দিয়ে একটু মুচড়ে আবার আমার দিকে তাকালো। মুখের সার্জিক্যাল মাস্ক একটু ফুলছে, আবার চুপসে যাচ্ছে, হয়ত তার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে। তুমি তো গভীর জলের আরশোলা হে যুবক! তোমাকে তো ছাড়া যাবে না! চোখে চোখে তাকিয়ে রইলাম, সে চোখ সরিয়ে নিল, মাস্ক সরালো না। একবার ভাবলাম, জিজ্ঞেস করি,
কী ভাই, মুখোশ পরে আছেন কেন, এলার্জি? নাকি মানুষ চিনে ফেলবে!
পরে ভাবলাম, থাক, এক্সট্রিমিস্ট হয়ে উঠতে পারে। কারণ আহত-ভীত এবং ক্ষুধার্ত মাংসাশী জীব সবচেয়ে ভয়ানক। বাস এদিকে চলেছে সবেগে, এত বেগে যে পারলে নিজের হেডলাইটের আলোকে ছাড়িয়ে যায়। আগারগাঁও পেরোলে পাশের লোক উঠে যাওয়া মাত্র আমি যুবকের পাশে বসে পড়লাম। গত আধমাস ধরে ব্যবহার করা আধোয়া চাদর ভালই গন্ধ ছড়াচ্ছিল, আমি বাতাসে চাদর নেড়েচেড়ে ব্যাটাকে গন্ধ খাওয়ালাম। শ্যাওড়াপাড়া আসতেই সে উসখুস করতে লাগলো, আমি বললাম, কী ভাই, নামবেন? সে কিছু বলল না, নিরবে হাঁটু দিয়ে আমার পা ঠেলতে লাগলো, নামতে চায়। আমি নামতে সুযোগ দিলাম, তথাপি তার দিকে কড়া নজর রাখলাম, তাকিয়ে থাকলাম তার অণ্ডকোষ যেখানে থাকতে পারে সেখানে, যদিও আমার সেদিকে তাকিয়ে থাকার কোন ইচ্ছে ছিল না। আমার চোখ তাকে আগাগোড়া মেপে মেপে যাচ্ছিল। বাসের মাঝামাঝি পৌঁছে ফিরে আমার দিকে তাকালো যুবক, একদম চোখে চোখ পড়ে গেল। তারপর মুখ ফিরিয়ে দ্রুত নেমে গেল বাস থেকে। খুব সম্ভব, মিশন অসম্পন্ন রেখেই নামলো সে, কেউ জানতেও পারলো না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:৪২
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×