somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

এখন বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, আর বাড়ছে দেহফ্রেন্ডের সংখ্যা! (প্রথম পর্ব: দেহফ্রেন্ডের উদ্ভব!)

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এখন বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, আর বাড়ছে দেহফ্রেন্ডের সংখ্যা! (প্রথম পর্ব: দেহফ্রেন্ডের উদ্ভব!)
সাইয়িদ রফিকুল হক

আগে শুনতাম: এই মেয়েটির বা ওই ছেলেটির একটা বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড আছে। শুনে মানুষ ভ্রু-কুঁচকাতো। আর এখন মানুষ জানতে পারছে, দেখতে পারছে, বুঝতে পারছে, কারও-কারও ছেলে বা মেয়ের এখন দেহফ্রেন্ড আছে। এগুলো এখন মানুষের চোখে পড়ে না।
আমাদের সমাজ কত দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। অধঃপতন ঘটছে মানুষের। আর বানের জলের মতো ভেসে যাচ্ছে এখন কারও-কারও নৈতিক-মূল্যবোধ। মাতাল-মদ্যপায়ীর মদ্যপানের মতো মানুষ বিসর্জন দিতে শুরু করেছে তার অমূল্য মূল্যবোধকে।

এখন একশ্রেণীর ছেলে-মেয়েরা মনে করে: বয়ফ্রেন্ড মানেই হলো দেহফ্রেন্ড। তাই, তারা কয়েকদিন ভালোবাসার নাটক করে ছেলেটির কাছে মেয়েটি, আর মেয়েটির কাছে ছেলেটি দেহদান করে থাকে। আর এসব করে তারা বিমল আনন্দ অনুভব করে থাকে। এগুলো এখন এই বিশেষশ্রেণীর কাছে আনন্দ ও রোমাঞ্চের বিষয়।
মানুষের সুস্থ-সুন্দর জীবনের জন্য অবশ্যই বন্ধু প্রয়োজন। আর এই বন্ধু ছেলে-মেয়ে মিলেমিশেই হতে পারে। এখন অতিআধুনিক-যুগ। আর তাই, একটা ছেলের গার্লফ্রেন্ড আর একটা মেয়ের বয়ফ্রেন্ড থাকতেই পারে। কিন্তু তাই বলে বয়ফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ডের সীমাঅতিক্রম করে একলাফে দেহফ্রেন্ড! এটি জাতির জন্য অশুভ একটি ইঙ্গিত।
আগের দিনেও ছেলে-মেয়েতে বন্ধুত্ব হয়েছে। কিন্তু তাই বলে তারা দেহফ্রেন্ড হয়ে যায়নি। তারা বছরের-পর-বছর বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষা করেছে। আর এখন অনেকে একদিনে বন্ধুত্ব গড়ে আর তিনদিনে দেহমিলন ঘটায়! এরা মনুষ্যত্বের ও বন্ধুত্বের চরম অবমাননা করছে।

দেশে এখন ব্যাঙের ছাতার মতো প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে এবং উঠছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের একশ্রেণীর নষ্ট ও লম্পট শিক্ষাবিস্তারের নামে এইসব শিক্ষাব্যবসা-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলছে। আর এরা শিক্ষার নামে টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে একখানা করে সাদা বা রঙিন কাগজের সার্টিফিকেট হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। এদের ব্যবসাবাণিজ্য চলছে ব্রিটিশ-আমলের সেই ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মতো। এরা সারাদেশে এখন প্রাইভেট-ব্যবসাবিশ্ববিদ্যালয়ের নামে টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে। আর এদের সাহচর্যেই প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠছে যৌনলিপ্সু। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষকই লম্পট। এরা শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের চেয়ে আজেবাজে ও অশ্লীল কথাবার্তা বলতে ভালোবাসে। এদের বিদ্যাশিক্ষা যৎসামান্য। কিন্তু কথিত-সার্টিফিকেট খুব ভারী-ভারী! আর এরা, এর ভারেই তাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে যৌনতার স্বাদ বিলিয়ে দিচ্ছে।
দেশের প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনোপ্রকার নৈতিক-মানদণ্ডের ভিত্তিতে এবং জাতীয় আশাআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। আর এদেশে পাকিস্তানপন্থীদের প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক শিক্ষার নামে তাদের আরও অনৈতিক ও ধর্মান্ধতার পচাবুলিতে বিরাট-অশিক্ষায় পারদর্শী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এইসব বিভ্রান্ত-শিক্ষার্থী বাঙালি, মানুষ ও মুসলমান না হয়ে, তারা হচ্ছে: জঙ্গী, আধাজঙ্গী, পাকিস্তানী আর বাংলাদেশবিরোধী। তবুও এরা এখনও টিকে আছে।

এইসব আবর্জনাতুল্য শিক্ষাপল্লীতে ছেলে-মেয়েদের অবাধে মেলামেশার অবাধ সুযোগসুবিধা থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে না ঝুঁকে কথিত-নামকরা প্রাইভেট ও ব্যবসামুখী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে দিশেহারা হয়ে ছুটে যাচ্ছে। আর এরা সেখানে পৌঁছানোর জন্য এমন জোরে দৌড় দিচ্ছে, যেন সেখানে যেতে পারলেই চিরশান্তি।
একজন শিক্ষার্থীর একজন বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড থাকতেই পারে। কিন্তু তাই বলে বয়ফ্রেন্ডের নামে একেবারে দেহফ্রেন্ড! মানুষ এখন মূর্খ হচ্ছে। আর পড়ালেখা নামকাওয়াস্তে ও সহজ হচ্ছে। তাই, এখন যে-কেউ পরীক্ষা দিলেই পাস! আর এই পাসের কোনো শেষ নাই। তাই, এখন ছেলেমেয়েদের এতো-এতো দেহফ্রেন্ড হওয়ার সুযোগসৃষ্টি হচ্ছে।

পড়ালেখাটা এখন অনেকের স্রেফ নামকাওয়াস্তে। আর আসল উদ্দেশ্য হলো: যে-কোনো একটা প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। আর সেখানে একবার ঢুকতে পারলে বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ড পাওয়া একেবারে সহজ। আর কয়েকদিনের বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের অজুহাতে সুযোগসন্ধানীরা দেহফ্রেন্ড হয়ে যেতে পারবে। শুধু যে প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই অবস্থা তা নয়, দেশের পাবলিক-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও লেগেছে ঘুণ। একশ্রেণীর নরপশু বয়ফ্রেন্ডের ও গার্লফ্রেন্ডের মর্ম বুঝতে পারছে না। এটা ইউরোপ-আমেরিকা-মধ্যপ্রাচ্য না যে, বয়ফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ড মানেই দেহফ্রেন্ড। এটা বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে এক সুমহান আদর্শের বীজমন্ত্রকে ধারণ করে এই জাতি তরতাজা ত্রিশলক্ষ জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ-রাষ্ট্র-প্রতিষ্ঠা করেছে।
৩০লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে যে-জাতি বিশ্বের বুকে নতুন এক রাষ্ট্র গড়ে তুলেছে, আর সেই জাতির কোনো মূল্যবোধ থাকবে না? অবশ্যই থাকতে হবে। আর তাই, দেশের সর্বত্র এই জাতির প্রতিটি সন্তানকে ধ্যানে-জ্ঞানে-মননে বাঙালি করে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের শুধু বাঙালিই হতে হবে। জয়-বাংলা
(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:০৫
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×