somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

পিতা আমাদের পথ দেখাও

২৬ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পিতা আমাদের পথ দেখাও
সাইয়িদ রফিকুল হক

পিতা, তোমাকে আমরা ভালোবাসতে জানি না,
পিতা, তোমাকে আমরা মর্যাদা দিতে জানি না,
পিতা, আমরা এখনও দেশকে ভালোবাসতে শিখিনি।
আর শুধু মার্চ এলেই ক্ষণিকের জন্য উত্তেজিত হয়ে উঠি,
আর আমরা সার্চ করি শখের ইতিহাস!
আর আমরা আজও জানি না—
এই মার্চে তোমার জন্ম,
আর এই মার্চেই তোমার হাতে জন্মেছে বাংলাদেশ,
আর তোমার হাতেই গড়ে উঠেছিলো
বাংলাদেশের সবুজ-বিপ্লবের সূচনা।
আর তুমি সামান্য কয়দিনে যা দিয়ে গিয়েছো
আজও তা কেউ দিতে পারেনি,
তবুও আমরা তোমাকে ভালোবাসি না।

পিতা, আমরা তোমার মতো হতে পারিনি,
তোমার মতো করে ভালোবাসতে পারি না কাউকে,
আর এই দেশের মানুষকে আপন ভাবতে পারি না,
তুমি দেশ আর মানুষকে ভালোবেসে জেল খেটেছো
তা-ও দিনের-পর-দিন, বছরের-পর-বছর,
তবুও তুমি দেশের মানুষকে বুঝতে দাওনি কোনো কষ্ট,
আর আমরা আজ তোমার নাম-ভাঙ্গিয়ে চাই শুধু স্বার্থ!
পিতা, তোমার ভালোবাসার মানুষকে আমরা এখন মারছি
সাপ-বিচ্ছু-ইঁদুর মনে করে—আর খুব নিষ্ঠুরভাবে।

পিতা, আমাদের মধ্যে অনেকের এখনও ভালো লাগে
সেই পাকিস্তান! একাত্তরে আমরা যাকে কবর দিয়েছি,
আর অনেকে এতো পাগল আর এতো ছাগল!
কী বলবো তোমাকে পিতা,
তুমি তো সবই জানো,
এখনও একদল পাপী পাকিস্তান-কায়েমের জন্য
দিনরাত শুধু স্বপ্ন আর স্বপ্ন দেখছে,
আর তারা দামি-দামি খাবার খেয়ে
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে আছে,
এরা এতোটাই পাপী, এখনও তারা নিজের হাতে
পাকিস্তানের পতাকা তাদের গালে-চোখে-মুখে আঁকে!
আর-একদল সোনালি রোদের মতো সুন্দর-তরুণী
পাকিস্তানী-খেলোয়াড়দের দেখলে
নদীর জলের মতো বারবার শুধু উছলে ওঠে।
আর এরাও লোকদেখানোর জন্য ফুল হাতে ছুটে যায়
বিশেষ দিবসগুলোতে কোনো একটা স্মৃতিসৌধে,
এরা নিজেদের প্রমাণ করতে চায় এদেশের নাগরিক বলে!
পিতা, এখন আমাদের মধ্যে যাদের বিবেক আছে
তারা লজ্জায় মরে যাই!
আর শুধু বারবার-প্রতিদিন লজ্জায় কুঁকড়ে যাই।

পিতা, তোমার দেশে এখন জন্মেছে অনেক আগাছা,
সঙ্গে আছে আরও কত পরগাছা,
আর সবখানে আগাছার পাহাড় জমে গেছে যেন!
আর এই দেশে জন্মেছে কিছু জারজ-কামজ-ক্ষেত্রজ!
এরা এখন সহোদর-সম আমাদের বোনদের
ধর্ষণের কাজে ব্যস্ত, এরা সম্পূর্ণ জারজ!
পিতা, এই কুলাঙ্গারদের আমরা এখনও মারতে পারিনি,
আর আমরা এখনও এদের সমূলে বিনাশ করতে পারিনি,
আর আমরা এখন বুঝি চিরস্থায়ী কাপুরুষ হওয়ার পথে।

পিতা, আমরা বুঝি পথ হারিয়ে ফেলেছি,
এখন কে দেখাবে আমাদের পথ?
তুমিই একজন পথপ্রদর্শক আমাদের জন্য ঠিক করে দাও
আর এখনই ঠিক করে দাও, পিতা!
আমরা আবার জেগে উঠতে চাই একাত্তরের চেতনায়,
আর আমরা আমাদের নির্বাচিত-নেতার নির্দেশে সমাজ-রাষ্ট্র থেকে
চিরতরে নির্মূল করে ফেলবো সর্বস্তরের ধর্ষক,
শোষক, জারজ, কামজ, ক্ষেত্রজদের।
পিতা, আমাদের জন্য একজন পথপ্রদর্শক পাঠিয়ে দাও,
আমরা আর সইতে পারছি না, আর কত সহ্য করবো?
এখানে প্রতিদিন আমাদের এখন হারাতে হচ্ছে মাতা-ভগ্নীকে,
শিশু, কিশোর, তরুণ, তরুণী, আর কত তরতাজা যুবককে!
আরও হারাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত পিতৃসম নিষ্পাপ-পুরুষদের,
আমরা আরও হারিয়েছি ডজনখানেক সাহসীযুবককে,
যারা ছিল সমাজের মেধাবীসন্তান।
আর কত আমাদের হারাতে হবে, পিতা?
পিতা, এবার আমাদের পথ দেখাও,
আর আমাদের চিরতরে জেগে ওঠার সুযোগ করে দাও।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৫:০২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন কথনিকা-৬৩৮৯-৯০=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

মন কথনিকা-৬৩৮৯
সকাল সকাল উঠে দেখি, চোখের মাঝে ঘুমের পাহাড়
চোখ মেললেই ঘুমরা ছড়ায়, চোখের মাঝে ক্লান্তির বাহার
রাত বারোটায় ঘুমোতে যাই, ফযর বেলা উঠে পড়ি
পাঁচ ঘন্টা ঘুম মাত্র ঘুমাই, না ঘুমিয়ে ক্লান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×