somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধমক খেয়ে চুপ মেরে গেছেন জ্বালানি উপদেষ্টা

৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতি কথনে অভ্যস্টস্ন জ্বালানি উপদেষদ্বা মাহমুদুর রহমান ধমক খেয়ে চুপ মেরে গেছেন। সরকারের হাইকমান্ড থেকে ধমক খেয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি কিছু বলব না। দরজা তালাবদব্দ করে বৃহসঙ্তিবার তিনি অফিস করেছেন। তবে সচিবালয়ে তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্টি্থত একদল সাংবাদিকের প্রশেম্নাত্তরে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি জানান, ফুলবাড়ীতে কী চুক্তি হয়েছে তা তিনি জানেন না। যারা চুক্তি করেছেন তাদের জিজ্ঞেস করুন।
এশিয়া এনার্জিকে প্রত্যাহার ও চুক্তি বাতিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার পক্ষের সমঙ্াদিত চুক্তির পরবর্তী কার্যত্রক্রম সমঙ্র্কে জানার জন্য গতকাল বিকেল পর্যনস্ন সাংবাদিকরা উপদেষদ্বার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের প্রাণানস্ন চেষদ্বা করেও ব্যর্থ হন।
সকাল সাড়ে 10টার দিকে উপদেষদ্বার কক্ষে একজন সাংবাদিক প্রবেশ করেন। কুশলাদি বিনিময়ের সময় একটি চ্যানেলের সাংবাদিক প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই বলেন, তিনি কোনো কথা বলবেন না। এ কথা বলেই তিনি জরুরি একটি সভার কথা বলে অফিস কক্ষ থেকে তড়িঘড়ি বেরিয়ে যান। সংশি্নষদ্ব সহৃত্রে জানা গেছে, দু'জন সিনিয়র মন্পী তখন উপদেষদ্বাকে ডেকে পাঠান। মন্পীরা সরকারের ভাবমহৃর্তি ক্ষুণম্ন হওয়ার কারণে মাহমুদুর রহমানকে অভিযুক্ত করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার জন্য সিনিয়র মন্পীরা পরামর্শ দেন তাকে।
এরপর বেলা 1টায় বিনিয়োগ বোর্ডের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানেও সাংবাদিকরা অপেক্ষা করেন বিকেল পর্যনস্ন। কিন্তু বহু অনুরোধের পরও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তার অফিস কক্ষের দরজা ভেতর থেকে তালাবদব্দ ছিল। বিকেলে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বিমানযোগে ঢাকা ত্যাগ করেন।
মাহমুদুর রহমান সর্বদা দাবি করে আসছেন, তার মন্পণালয় স্ট্বচ্ছতা রক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছে। গোপনীয়তা বলে এখানে কিছু নেই। কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে তিনি নতিস্ট্বীকার করেন না। কারণ তার নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা নেই। কিন্তু ইতিমধ্যে তিনি বহু বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
জ্বালানি উপদেষদ্বার দায়িত্দ্ব নেওয়ার পরপরই তিনি প্রথম বিতর্ক তোলেন গ্যাস ও কয়লা সমঙ্দের পরিমাণ সমঙ্র্কে এক বক্তব্য দিয়ে। তিনি সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, দেশে 100 টিসিএফের সমপরিমাণ কয়লা ও গ্যাস আছে। তখন থেকেই তাকে অনেকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করেন। এরপর তিনি কয়লা সমঙ্দ তোলার জন্য তৎপরতা চালাতে থাকেন। কারণ বর্তমান জোট সরকার বিপুল গ্যাস সমঙ্দের কথা বলে তা রফতানির উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে জাতীয় কমিটির হিসাব ও আন্দোলনের মুখে সরকার সে উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসে।
তিনি মার্চ মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে সঙ্ষদ্ব করে বলেন, এশিয়া এনার্জির সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেটি রাষদ্ব্রবিরোধী। এমনকি এ চুক্তির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্টিস্ন দাবি করেন তিনি। কয়েক মাসের ব্যবধানে তিনি আবার বলছেন এশিয়া এনার্জির সঙ্গে কোনো চুক্তিই হয়নি। এ রকম বিভ্রানস্নিকর বক্তব্য দিয়ে চলেছেন তিনি। প্রকৃতভাবে কয়লা খনি উল্পম্নয়ন বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তির আওতায় বিদেশী কোমঙ্ানিকে এক্সপ্ট্নোরেশন লাইসন্স দেওয়া হয় বিগত বিএনপি সরকারের আমলে। চুক্তিটি হস্টস্নানস্নর হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।
ফুলবাড়ী গণআন্দোলনে পুলিশ-বিডিআরের গুলিতে 6 জন নিহত হওয়ার ঘটনার জন্য তিনি দায়ী করেন আন্দোলনকারীদের। এ আন্দোলনকে তিনি উস্ট্কানিমহৃলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে বক্তব্য রাখেন এশিয়া এনার্জির পক্ষে। এর ফলে ফুলবাড়ীতে ক্ষোভ আরো বৃদব্দি পায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাল্ফ্মদ তেল-গ্যাস-খনিজসমঙ্দ ও বিদু্যৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন বহুদিন থেকে। তিনি প্রশম্ন তোলেন, আনু মুহাল্ফ্মদ একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নেন। তিনি কীভাবে এ আন্দোলন করেন তা কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখা উচিত।
সিপিডি বিতর্ক নিয়েও সরকারকে তিনি বিব্রতকর পরিস্টি্থতে ফেলেন। দেশের বিশিষদ্ব ব্যক্তিদের বিরুদব্দে তিনি মামলা করেন। তাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা পর্যনস্ন জারি করা হয়। এসব ঘটনায় সরকারের একটি বড় অংশ বিরক্ত হয়ে পড়ে তার প্রতি। এভাবে একের পর এক তিনি বিতর্ক তুলে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্টি্থতিতে ফেলছেন।

::::সমকাল::::
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×