somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেভাবে ফাঁসি কার্যকর হয়

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৃতু্য পরোয়ানা কারাগারে পেঁৗছানোর পর 30 দিনের মধ্যে আপিল না করলে এরপর যে কোনো দিন শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে কারা কতর্ৃপক্ষ। তবে তার আগে জঙ্গি নেতাদের আপনজনরা রাষদ্ব্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করলে এই ফাঁসির প্রত্রিক্রয়া কিছুদিনের জন্য ঠেকে যাবে। তারপরও বলা যায়, আপিল না হলে জোট সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার আগেই অর্থাৎ অক্টোবরের যে কোনো দিন আটক 6 শীর্ষ জঙ্গি নেতার ফাঁসি দেওয়া সল্ফ্ভব। এক্ষেত্রে সবকিছুই নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপর। জঙ্গি নেতারা আপিল না করলে জেলকোডের 31 পরিচ্ছেদের 991(6) বিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালতের পরোয়ানা পাওয়ার পর 21 থেকে 27 দিনের মধ্যে দ- কার্যকর করার দিন নির্ধারিত হবে।
দেশের অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞরা এই অভিমত ব্যক্ত করে বলছেন, হাইকোর্টের এই রায়ের পর সাজাপ্রাপ্টস্ন জঙ্গিরা আপিল করার সুযোগ পাবেন। আপিল করতে চাইলে আইনজীবীর মাধ্যমে আপিল করতে হবে। যেহেতু জঙ্গিরা প্রচলিত আইনে বিশ্বাসী নয়, এ কারণে তাদের আপিল করার সল্ফ্ভাবনা কম। দ-প্রাপ্টস্নরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করলে তাদের সাজা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকার কতটুকু আনস্নরিকতা দেখাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। কেউ আপিল করলে সেক্ষেত্রে আইনগত প্রত্রিক্রয়া শেষ করে ফাঁসি কার্যকর করা সময় সাপেক্ষ।
বৃহসঙ্তিবার হাইকোর্ট শীর্ষ জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানী, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্ক্নাহ, ইফতেখার হাসান মামুন এবং পলাতক আসামি আসাদুল ইসলাম আরিফের মৃতু্যদ- অনুমোদন করেছেন। ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় গত 29 মে ঝালকাঠি দায়রা জজ আদালত 7 জনের মৃতু্যদ- প্রদান করেন। এদের মধ্যে শায়খ আবদুর রহমানের বিরুদব্দে দেশের বিভিল্পম্ন আদালতে 70টি, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই ওরফে অধ্যাপক ওমরের বিরুদব্দে 67টি এবং সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানীর বিরুদব্দে 62টি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় মৃতু্যদ- হয়েছে। বিসম্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায়ও এদের যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে।
হাইকোর্টের এই রায়ের পর ফৌজদারি কার্যবিধির 377 ধারা অনুযায়ী রায়ে দুইজন বিচারপতি স্ট্বাক্ষর করবেন। এরপর 379 ধারানুযায়ী রায়ের আদেশ কালবিলল্ফ্ব না করে হাইকোর্টের দায়িত্দ্বপ্রাপ্টস্ন কর্মকর্তা (রেজিসদ্ব্রার) তার স্ট্বাক্ষরে ও হাইকোর্টের সিলমোহর যুক্ত করে ঝালকাঠির বিচারিক দায়রা জজ আদালতে পাঠাতে হবে। হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর বিচারিক আদালত 381 ধারানুযায়ী রায় কার্যকর করতে 'মৃতু্য পরোয়ানা' জারি করবেন। জেলা ম্যাজিসদ্ব্রেট অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্টস্নরা যেখানে রয়েছে সেখানে এই পরোয়ানা পাঠানো হবে। 385 ধারা অনুযায়ী সংশি্নষদ্ব কারাগারের জেলারের প্রতি এই পরোয়ানা জারি হয়।
এই পরোয়ানা পাওয়ার পর জেলকোডের 31 পরিচ্ছেদের 991(1) বিধি অনুযায়ী জেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট মৃতু্যদ-প্রাপ্টস্ন বন্দিকে অর্থাৎ কারাগারে আটক 6 জঙ্গি নেতাকে মৃতু্যদ- অনুমোদনের রায় জানাবেন। এই রায় শোনার পর জঙ্গিরা রাষদ্ব্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কিংবা লিভ টু আপিল আবেদন দাখিল করতে চাইলে 7 দিনের মধ্যে তা জেল সুপারকে জানাতে হবে। এরপর জেল সুপার 991(2) বিধি অনুযায়ী মৃতু্যদ- কার্যকর করার দিনসহ আসামির মতামত বিচার মন্পণালয়কে জানাবেন। আসামি সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালার দ্বিতীয় পর্বের 24 নল্ফ্বর আদেশের 2 বিধি অনুযায়ী হাইকোর্টের রায় ঘোষণার 30 দিনের মধ্যে লিভ আবেদন দাখিল করতে পারবেন। তবে রায়ের প্রত্যায়িত সব কপি পাওয়ার জন্য যে সময় ব্যয় হবে তা নির্ধারিত 30 দিন থেকে বাদ যাবে।
সাধারণত আসামিপক্ষ রায়ের পরপরই সাময়িক (প্রভিশনাল) লিভ দাখিল করে থাকে। আবেদন গৃহীত হলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিসদ্ব্রার বিষয়টি সংশি্নষদ্ব কারা কতর্ৃপক্ষ এবং সরকারের সংশি্নষদ্ব বিভাগকে জানাবেন। এতে মৃতু্যদ- কার্যকর করার প্রত্রিক্রয়া স্ট্থগিত হয়ে যাবে। তবে জঙ্গিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিল্পম্ন। তারা আপিল করবে কি-না তা নিয়েই কথা উঠেছে। রায়ের আদেশ পাওয়া সাপেক্ষে নির্ধারিত 30 দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। আপিল না করলে সেক্ষেত্রে আগামী 30 সেপ্টেল্টল্ফ্বর আপিলের সময় শেষ হবে। অন্যথায় 1 অক্টোবরের পর যে কোনো দিন জেলকোড অনুযায়ী তাদের সাজা কার্যকর করা যাবে।
সব শেষে সংবিধানের 49 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষদ্ব্রপতির ক্ষমা করার অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে আসামিকে আবেদন করতে হবে। জেলকোডের 991 বিধি অনুযায়ী জেল সুপার এই আবেদন সরকারের কাছে পাঠিয়ে মৃতু্যদ- কার্যকর করা স্ট্থগিত রাখবেন। 15 দিনের মধ্যে জবাব না এলে তিনি আবার তা সরকারকে অবহিত করবেন। রাষদ্ব্রপতি ক্ষমার আবেদন নাকচ করলে মৃতু্যদ- চূড়ানস্ন হবে। রাষদ্ব্রপতির আদেশের তথ্য পাওয়ার পর জেল সুপার 7 থেকে 15 দিনের মধ্যে দ- কার্যকর করার দিন নির্ধারণ করবেন।
রাষদ্ব্রের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুর রেজাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আনিসুল হক, সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন আহমেদ মানিক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হেলাল উদ্দিন মোল্ক্না, এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান অভিল্পম্ন অভিমত ব্যক্ত করেন।
আবদুর রেজাক খান বলেন, হাইকোর্টের রায় পাওয়ার পর বিচারিক আদালত তা জেলা ম্যাজিসদ্ব্রেটের মাধ্যমে কারা কতর্ৃপক্ষকে জানাবেন। আসামিরা রায়ের কপি পাওয়া সাপেক্ষে 30 দিনের মধ্যে আপিল না করলে সাজা কার্যকর করা যাবে।
এএফ হাসান আরিফ বলেন, এই রায় কার্যকর হওয়ার পর তাদের বিরুদব্দে দায়ের হওয়া অন্যান্য মামলায় প্রভাব পড়বে না। তাদের বাদ দিয়ে অন্যান্য আসামির বিরুদব্দে মামলা চলবে।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, জঙ্গিরা তো প্রচলিত আইনে বিশ্বাসী নয়। তাই তারা আপিল করবে না বলেই প্রতীয়মান হয়।


:::সমকাল:::
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×