শাসক দল বিএনপি এখন দলের গঠনতন্ত্র মেনে চলছে না। এ কারণে দলটি এখন চরম বিশৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ- প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিএনপি এখন অনেক দূরে সরে গেছে। নেতাকমর্ীরা এখন জিয়ার 19 দফা কর্মসূচিকে আমলে নেয় না। 19 দফা কী তাও জানে না বেশিরভাগ নেতা। এর ফলে জিয়ার 19 দফা কর্মসূচি এখন নিখোঁজ হওয়ার পথে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের মতে, দলের চালিকাশক্তি এখন হাওয়া ভবন। হাওয়া ভবনের ইচ্ছাতেই নেতাকমর্ীদের দল করতে হয়। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিও ঠিক করা হয় হাওয়া ভবন থেকে। দলে কে যোগ দেবে, কাকে বহিষ্কার করা হবে, কে কোথায় মনোনয়ন পাবে না পাবে, কাদের নিয়ে কমিটি করা হবে- এ সবই নিয়ন্ত্রণ হয় হাওয়া ভবন থেকে। এখানে কেউ দলীয় গঠনতন্ত্রের ধার ধারে না।
তারেক রহমানের ইচ্ছাকে গঠনতন্ত্রেরও ঊধের্্ব স্থান দেওয়া হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবীণ নেতারা অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার সামরিক শাসনামলে 1978 সালের 1 সেপ্টেম্বর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণী-পেশার নানা আদর্শের লোকদের জড়ো করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি গঠন করেন। বিশ্লেষকদের মতে, মত পথ ও আদর্শের ঊধের্্ব উঠে, কে মুক্তিযোদ্ধা, কে রাজাকার তা বিবেচনায় না নিয়ে নিজস্ব চিনত্দা-চেতনা থেকে জিয়াউর রহমান দেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কে কমিউনিস্ট, কে আওয়ামী লীগ, কে জামাত, কে মুসলিম লীগ তার বাছবিচার না করে ক্ষমতালোভী, দলছুট হরেক আদর্শের লোকদের বিএনপির পতাকাতলে জড়ো করেন জিয়াউর রহমান। অতীতকে বাদ দিতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও ভূলুণ্ঠিত করেন। তিনি তার দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকেও অগ্রাহ্য করেন।
জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠনের পর 19 দফা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশকে স্বনির্ভর করতে চেয়েছিলেন। এর আওতায় তিনি তার বহুল কথিত 'সবুজ বিপ্লব' কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করেন। আর এসব কর্মসূচি বাসত্দবায়নের জন্য দলের নেতাকমর্ীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেন। রাজনীতি করতে গিয়ে জিয়াউর রহমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেননি। কিন' বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব এ আদর্শ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। 19 দফাকে তারা মনে রাখারও চেষ্টা করে না। দলের সকল আদর্শ বাদ দিয়ে টেন্ডারবাজি, লুটপাট, দুনর্ীতিতে ডুবে আছে বিএনপির সর্বসত্দরের নেতারা। ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে চাইছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম। ঘটাচ্ছে ইতিহাস বিকৃতি। আর এ অভিযোগ খোদ বিএনপি থেকেই উঠে আসছে।
দলের প্রবীণ নেতা ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ কোনো কোনো নেতা আজ প্রকাশ্যেই বিএনপি নেতাদের সন্ত্রাস, দুনর্ীতি ও লুটপাটের ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরছেন। আর তা করতে গিয়ে হাওয়া ভবনের রোষানলে পড়তে হচ্ছে তাদের। কারো কারো ওপর খড়গ নেমে আসছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির আদর্শ ও জিয়ার 19 দফা উন্নয়ন কর্মসূচিকে বাদ দিয়ে দলীয় নেতারা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে ব্যসত্দ হয়ে পড়ায় দলটিতে এখন চলছে চরম বিশৃঙ্খলা। কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে দলীয় কোন্দল। এর ফলে ঘরের আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘ 13 বছর যাবৎ দলের জাতীয় কাউন্সিল হয় না। দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রতি 2 বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল করার কথা থাকলেও এ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না দলীয় হাইকমান্ড। 1 মাস অনত্দর দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও গত 22 আগস্ট 4 বছর পর স্থায়ী কমিটির একটি সভা করা হয়েছে। 3 মাস পর পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ 5 বছর পর গত 26 আগস্ট একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন' এ বৈঠকে দলীয় নেতারা তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। কারো বক্তব্য হাওয়া ভবনের বিপক্ষে গেলেই তাকে জোর করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে হাওয়া ভবনের তালিকাভুক্ত দলীয় নেতাদের।
এদিকে ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণে কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যসত্দ থাকায় বিএনপির 75টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে 40টি জেলারই কমিটি পুনর্গঠন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে এ 40টি জেলায় দলীয় নেতারা গ্রুপিং-কোন্দলে জর্জরিত। কোনো কোনো জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ছে বিএনপির নেতাকমর্ীরা। কিন' গ্রুপিং, কোন্দল ও সংঘাত-সংঘর্ষ নিরসনে বিএনপি হাইকমান্ডের কোনো উদ্যোগ নেই। তারা এখন কী করে আগামীতে আবারো ক্ষমতায় আসা যায় সে কৌশল নির্ধারণে ব্যসত্দ হয়ে পড়েছে।
::ভোরের কাগজ:::
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







