রইসুদ্দিনের জন্য সুখের সংবাদ এই যে তার বিবি জরিনা বেগম পহেলা বৈশাখে ইলিশ না পেয়েও বাড়ি ছেড়ে তল্পিতল্পা গুছিয়ে বাপের বাড়ি যায়নি। বুঝা যাচ্ছে তার বিবি তাকে বড়ই ভালোবাসে। পহেলা বৈশাখের একদিন পর আজ রইসুদ্দিনের হাতে পত্রিকা এসেছে। রইসুদ্দিন তাই পত্রিকা পূর্বের চেয়েও দীর্ঘ সময় নিয়ে পড়ছে। পড়তে পড়তে হঠাৎ তার শরীর থেকে ঘাম ছুটতে শুরু করেছে। ঘর্মাক্ত রইসুদ্দিন তার বিবি জরিনা বেগমকে ডেকে বলে, শুনলে টিএসসিতে ৩০-৪০ টা বন্য জানোয়ার এসে মানুষদের ওপর হামলা করেছে। কি যুগ এলো দেখো। জন্তু জানোয়ারের তাণ্ডবে মানুষের এখন বাড়ি থেকে বের হওয়াও মুশকিল।
রইসুদ্দিনের বিবি চোখ কপালে তুলে বলে, ওমা এ কেমন কথা। কি জানোয়ার? জান-মালের ক্ষতি হইছে না-কি?
-- জানোয়ার আক্রমণ করলে তো জানের ক্ষতি হবে। কিন্তু এই জানোয়ারদের আক্রমণে জানের চেয়ে মানের ক্ষতি হয় বেশি।
-- কথা এতো ঘুরান ক্যান? আসল কথা কন?
-- আসল কথা হলো তোমার মেয়েরে একটু সাবধানে চলতে বলো। এই জানোয়ারদের কোন ঠিক ঠিকানা নাই। বেজন্মার জাত।
জরিনা বেগম স্বামীর কথা আন্দাজ করতে পেরে তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের দুশ্চিন্তায় মুষড়ে পড়ে। দু’ তিন সেকেন্ড নিশ্চুপ থাকার পর বলে, জন্তু জানোয়ারের ভয়ে কি এখন মেয়েরে খাঁচায় বন্দি করে রাখতে হবে? আদিম যুগের মানুষও জন্তু জানোয়ারের ভয়ে খাঁচার ভেতর ঢুকে নাই, আর এখন এতো যুগ পর আমাদের জন্তু জানোয়ারের ভয়ে খাঁচায় বন্দি হতে হবে?
-- আদিম যুগে জানোয়াররা শুধু জঙ্গলেই থাকতো আর এই যুগের জানোয়াররা জঙ্গলের চেয়ে লোকালয়েই ঘুরে বেশি। এই হচ্ছে ফারাখ বউ। লোকালয়ে ঘুরতে ঘুরতে এদের চেহারাও মানুষের মতোই হয়ে গেছে। আর এই পশুদের মুরুব্বি পশু যারা তারা সমাজের উঁচু আসনে বসে ঘাস খায়। এদের মানুষ সহজে তাড়াবে কেমন করে?
রইসুদ্দিনের কথা শুনে জরিনা বেগম হতাশ হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, হায়! আল্লাহ বনের পশু বনে পাঠায় দাও। বন্যরা বনেই সুন্দর, লোকালয়ে সুন্দর মানুষ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


