somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মো: আবু তাহের
"মানুষ যুদ্ধ করে চলে, যদিও কখনই তাকে একবারও তলোয়ার চালাতে হয় না"

কুরআন নাযিল ও তাকওয়া অর্জনের মাস “রমজান”-৩

০৬ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেক আগে একটা গল্প শুনেছিলাম। গল্পটা হলো এমন- কোন একজন পীরের কাছে দুইজন ব্যক্তি গিয়েছেন মুরিদ হওয়ার আশায়। ব্যক্তি দুইজন সেই পীরকে গিয়ে বললেন, হুজুর আমরা আপনার নিকট মুরিদ হতে এসেছি আপনি আমাদেরকে বাইয়াত দেন। হুজুর বললেন, না আমি যেন তেনভাবে কাউকে মুরিদ বানাই না, আমার কাছে মুরিদ হতে হলে একটা পরীক্ষা দিতে হবে। ব্যক্তি দুইজন সাথে সাথে রাজি হয়ে গেল। তারা বললো, হুজুর আপনি যে পরীক্ষই নিতে চান নেন এরপর আমাদেরকে মুরিদ করতেই হবে। হুজুর বললেন, ঠিক আছে তোমাদের কাজ হলো এই দুইটা ছাগল দু’জনে নিয়ে যাও আর এদেরকে আলাদা আলাদাবাবে জবাই করে এদের গোশতো আমার কাছে নিয়ে আস। তবে শর্ত হলো, যেখানে এগুলো জবাই করবে সেখানে যেন তোমাদেরকে কেউ না দেখে। জবাই করার সময় যদি কেউ দেখে ফেলে তা লে কিন্তু পরীক্ষায় ফেল করবে। এই কথায় তারা রাজি হয়ে গেল। দুইজন দুইটা ছাগল নিয়ে জবাই করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দিকে রওয়ানা দিল। দেখা গেল কিছুক্ষণ পরেই এক ব্যক্তি ছাগল জবাই করে তার গোশতো সেই পীরের কাছে নিয়ে এসেছে। পীরসাহেব “কেউ দেখেছে কি না” জিজ্ঞাসা করলে সে বললো যে না তার ছাগল জবাই করা কেউ দেখেনি। কিন্তু অন্য একজন ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত আসছে না। কোন একসময় দেখা গেল যে ঐ ব্যক্তি ছাগল জবাই না করেই জীবন্ত নিয়ে চলে এসেছে। এতে পীরসাহেব আশ্চর্য হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে- ছাগল জবাই না করে ফিরে আসলে কেন! এতে সেই ব্যক্তি জবাব দিল- হুজুর অনেক গোপন জায়গায় পর্যন্ত আমি গিয়েছি কে জবাই করার জন্য কিন্তু যেখানেই গিয়েছি সেখানে কোন মানুষ বা পমু-পাখী না থাকলেও আমার কাছে মনে হয়ছে যে এখানে কেউ না দেখলেও নিশ্চই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে দেখছেন। আর আপনিতো বলেছেন যে কাউকেই দেখানো যাবে না তাই আমি এমন কোন গোপন জায়গা না পেয়ে এটা ফিরিয়ে আনলাম। আমি হেরে গেলাম হুজুর আমার আর মুরিদ হওয়া হলো না অথচ আমার বন্ধু আপনার মুরিদ হয়ে যাচ্ছেন! তখন সেই পীরসাহেব বললেন- সে নয় বরং তুমিই আমার মুরিদ হবে কারন তুমি সত্যি বলেছো আর সে মিথ্যা বলেছে। তুমি আল্লাহকে ভয় করেছো আর সে তা করতে পারেনি। তুমি মুত্তাকী কিন্তু সে এখনও মুত্তাকী হতে পারেনি।

এখন কথা হলো আমরা আমাদের এই সমাজে কিভাবে মুত্তাকী হতে পারবো? যেহেুতু এই সমাজে ভাল কাজ করার চেয়ে খারাপ কাজ করা অনেক সহজ। এ ক্ষেত্রে কথা হলো আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। আমাদের সমাজে যতই খারাপ কাজ হোক না কেন সেটাতো জড়িয়ে পরা যাবে না। যতটুকু সামর্থ আছে সেই খারাপকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে আর বাকিটা দমনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। অর্থাৎ খারাপের পাশেই থাকবো কিন্তু খারাপ হবো না এই শপথে বলিয়ান হতে হবে। ঈমান মজবুত হলেই কেবল সম্ভব এখান থেকে বেঁচে থাকা। আমাদেরকে অনেকটা বাইন (বাইম) মাছের তো হতে হবে। আমরা জানি বাইন মাছ কাদায় থাকে কিন্তু তার শরীরে কখনও কাদা লাগতে দেয় না। এত নোংরার মধ্যে থাকার পরেও যখন তাকে ধরা হয় তখন দেখা যায় যে তার শরীর একেবারে পরিস্কার। আমাদেরকেও ঐ বাই মাছ মার্কা হতে হবে তাহলেই কেবল আমরা মুত্তাকী হতে পারবো।

এই তাকওয়ার গুরত্ব দিতে গিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন-“(হে মানুষ) তোমরা যারা ঈমান এনেছ, আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, (তোমাদের) প্রত্যেকেরই উচিত (একথাটি) লক্ষ করা যে, আগামীকাল (আল্লাহর সামনে পেশ করার) জন্যে সে কি (আমলনামা) পেশ করতে যাচ্ছে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, অবশ্যই তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তায়ালা তার পূর্ণাঙ্গ খবর রাখেন।”-সূরা আল হাশর-১৮

অন্যত্র বলেছেন- “আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চই আল্লাহ তোমাদের অন্তরের সব বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন।”-সূরা মায়েদা-৭

উপরের আয়াত থেকে এটাই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে- আল্লাহ যেহেতু আমাদের সকল খবর (সেটা যতই গোপন হোক না কেন) রাখেন বা জানেন তাই আমাদের উচিত সব সময়েই সচেতনতার সাথে কাজ করা। একটা ভিডিও ক্যামেরা সামনে থাকলে যেখাবে আমরা অনেক সতর্ককতার সাথে চলাফেরা করি এই ভয়ে যে, না জানি কখন কোন খারাপ জিনিস ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ে, তার চেয়েও সতর্কতার সাথে আল্লাহর ক্যামেরার সামনে চলাফেরা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য, কারন আল্লাহর ক্যামেরা আমাদের এই ক্যামেরার চেয়ে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি ডিজিটাল-সুপার পাওয়ার। তবে আশার বাণী হলো সতর্কতার সাথে চলতে গিয়ে কখনও কোন ভুল কাজ করে ফেললে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ অবশ্যই তা ক্ষমা করবেন, কারন আল্লাহ অনেক বেশি ক্ষমাশীল।

দ্বিতীয় কিস্তি
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×