২৬০০ স্কোয়ার ফিটের সুরম্য অ্যাপার্টমেন্টের ঘুপচি ঘর। রান্নাঘরের পেছনে এ ঘরটিতে কোন রকমে একজন শুয়ে থাকতে পারে। ঘরটির পাশেই ছোট্ট একটি বাথরুম কাম টয়লেট। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এর গালভরা নাম দিয়েছে, 'সার্ভেন্ট কোয়াটার্স'। শব্দটি ঔপনিবেশিক শ্রেণী চেতনার দূর্গন্ধ ছড়ালেও আমরা ভদ্রলোকেরা শব্দটি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দই বোধ করি।
ঢাকার এক অভিজাত এলাকায় এমনই একটি অ্যাপার্টমেন্টের সার্ভেন্ট কোয়াটার্সে কুলসুম থাকে। রান্নাঘরের কাজ শেষ হতে প্রতিদিনই রাত বারোটা বেজে যায়। আবার খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তার জোগান দিতে হয়। এভাবেই চলছে মাসের পর মাস। তবুও কুলসুম সুখি, গ্রামের চেয়ে বেশ ভালোই আছে সে। মাসের বেতন ৫০০০ টাকা আর সাহেবের কাছ থেকে মাসোয়ারা আরো ৫০০০ টাকা। গ্রামে এমন নির্বিঘ্ন দশহাজার টাকা আয়ের সুযোগ কি আছে ! অবশ্য সাহেবের 'মাসোহারা'-র ব্যাপারে একধরনে অপরাধবোধ কাজ করতো প্রথম প্রথম। কিন্তু সাপ্লায়ার রহিমা খালার কথায় সে এ অপরাধবোধ ধুয়ে ফেলে। রহিমা খালা সব শুনে বলে, " শুন্, গরীবের কোন ধর্ম নেই। সুযোগ যখন পেয়েছিস, ছাড়বি ক্যান্, তোর চেহারাটাও যা, পুরুষের মাথা ঘুরাইয়া দেওয়ার মতোনই! সাহেবের প্রস্তাবে রাজি হইয়া ভালোই করছোস। তালাক পাওয়া মাইয়ার এ লইয়া বেশী ভাবনের কাজ নাই। তবে সাবধানে থাকিস, প্যাট বান্ধাইয়া ফেলিস না আবার!"
ঔষধ খেয়ে ম্যাডাম যে সব রাতে গভীর ঘুমে অচেতন হয় সে সব রাতেই সাহেব আসে কুলসুমের ঘুপচি ঘরে। আজ রাতও আসবে, সাহেব এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। তন্দ্রা লেগে এসেছিলো কুলসুমের। দরোজায় মৃদু টোকায় ঘুম ভেঙ্গে যায়। দরোজা খুলে দেয় সে। সাহেবই এসেছে। অনেক সময় নিয়ে সোহাগ করে সাহেব। ওরও ভালো লাগে। কিছুদিন হলো সাহেবের সাথে ও খুব ফ্রি । ওরা ফিসফিসেয়ে কথা বলে-
-আচ্ছা কও তো ম্যাডামের লগে না আমার লগে শুইয়া তুমি বেশী মজা পাও'? '
-বুঝিস না তুই, ... কেন তোর কাছে রিস্ক লইয়া আসি!
- বুজলাম। তয় একটি কতা জিগা্ইমু। তোমরা তো আমাগোরে ঘিন্না করো। আমাগোর থালা, গ্লাস আলাদা কইরা দিছো। হেইদিন ভুল কইরা আপনাগোর গ্লাসে পানি খাওয়াতে ম্যাডাম তো কতো কতা হুনাইলো্। তয় আমাগো লগে শুইতে, চুমা খাইতে কি তোমাগোর ঘিন্না হয় না?
একই সমতলে শুয়ে থাকা সাহেবের জিহ্বায় এবারে কোন সাড় নেই, থ হয়ে তাকিয়ে থাকে কুলসুমের মুখে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




