
বাংলাদেশের এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে আমাদের মধ্যে যারা ব্লগ লিখেছেন হজারো-হাজার তাদের সহ সবার জন্য একটি গুড নিউজ হচ্ছে, আগামী বছর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে না। আশা করা যায় এতে আমাদের কোমলমতি শিশুদের মানসিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে। তবে ক্লাস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার পদ্ধতি চালু রাখার মাধ্যমে সেই চাপটা পুরোপুরিভাবে কমবে বলে মনে হচ্ছে না। দেখা যাবে এই মূল্যায়নের নামে শিক্ষকেরা বার্ষিক পরীক্ষার চেয়ে কঠিন বা তারই সমমানের কোন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে বসবে।
শুনা যাচ্ছে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০০টি বিদ্যালয়ে পাইলটিং হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এটা অবশ্যই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ভাল উদ্যোগ, যদি তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্লাস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার পদ্ধতিকে সহজতর করার জন্য চাপে রাখেন, তা না হলে শিক্ষকরা তাদের অভ্যাসগত বার্ষিক পরীক্ষায় দেওয়া চাপের মত ক্লাস পরীক্ষায়ও চাপ প্রয়োগ করে বসবেন।
হ্যা, আমাদের সময় থেকে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের মানসিক দিক একটু বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তবে তারপরও প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকেরা ভাল ফলাফল আদায় করার নামে নিজেদের ইচ্ছে মত চাপ সৃষ্টি করছেন যা স্বাভাবিক বিবেচনায় নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। অথচ কোমলমতি শিশুদের থেকে উৎকৃষ্ট ফলাফল লাভ করা যায় তাদের আন্তরিকতা লাভের মাধ্যমে। আমাদের ছোট বেলায় দেখতাম, শিক্ষকদের শারীরিক নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য প্রায় শিক্ষার্থী আমাদের সাথে না বসে শেষের ডেস্কে বসতো। অনেকে আবার শিক্ষকদের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ক্লাস ডাব্বা মারতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে শারীরিক নির্যাতন না থাকলেও তার চেয়েও বড় নির্যাতন (মানসিক নির্যাতন) আমাদের কোমলমতি শিশুদের মানসিক ক্ষমতা বিলুপ্ত করে চলেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষিত গতকালের সিদ্ধান্ত যদি বাস্তবায়ন হয়, তবে আশাকরি খুব দ্রুত ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা থেকেও আমাদের কোমলমতি শিশিদের মুক্তি দিবে। এমন পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ।
ছবিঃ গুগল
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


