somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের চাওয়া কি মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি নাকি পুনরাবৃত্তির মৃত্যু ? (আমাদের করণীয়)

১১ ই অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৪:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাচ্চাদের সান্ত্বনা দিতে আমরা যেভাবে তাদের হাতে খেলনা তুলে দেই ঠিক সেই পন্থায় আমাদের চাকরেরা বারবার আমাদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, অভিবাবক ও জনগণের হাতে শান্তনার মুলা ধরিয়ে দিচ্ছেন। আমাদের শরীরের কোনো অঙ্গ যখন এমন কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হয় যা বারবার অস্ত্র পাচার করেও ঠিক করা যায় না তখন সেই ভাইরাস থেকে পুরো দেহ রক্ষার্থে ডাক্তারের পরামর্শ থাকে সেই অঙ্গ কর্তনের। এটা হচ্ছে একেবারে সহজ একটি হিসাব যা অতি সহজেই বোধগম্য।


শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কে এম মাসুদ বুয়েটে শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ-এর যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তা অনেকের কাছে কার্যকরী পদক্ষেপের প্রথম ধাপ মনে হলেও প্রকৃতার্থে এটা একটা স্পষ্ট মুলা। ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি আন্দোলনরত জনতাকে ঠেকাতে আমাদের সরকার মহল বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ধোঁকার পথ অবলম্বন করেছে। তাদের এই ধোঁকায় পড়ে প্রতিবারই আমাদের প্রত্যেকটি আন্দোলন ভেস্তে গেছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবীতে শাহবাগের আন্দোলনের সফলতা শুধু একটি রাজনৈতিক দল ভোগ করেছে। তাদের স্বার্থ আদায়ের পর আর এক মুহূর্তের জন্যও আন্দোলনকে চলতে দেওয়া হয়নি। ঠিক সেই ধারাবাহিকতায় একের পর এক আন্দোলনকে হত্যা করেছে আমাদের সুচতুর একটি রাজনৈতিক দল।


কোটা পদ্ধতি বাতিলের জন্য যখন ছাত্ররা রাজপথে নামতে বাধ্য হয় তখন সরকার তাদেরকে শান্ত করতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। কিন্তু আন্দোলনের রেশ না কাটতেই সেই আন্দোলনকারী ছাত্রদেরকে ধরে ধরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নির্যাতন করতে শুরু করে। প্রশাসন খুবই দক্ষতার সাথে তা মানিয়ে নেয়। সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের কুকীর্তির প্রতি প্রশাসনের এমন সমর্থন ও চামচামির কারণেই আমাদের আন্দোলনগুলো সফলতার মুখ দেখার আগেই মারা যায়। অনেক আন্দোলনেই দেখি বিশেষ ব্যক্তিভাজনের উপস্থিতি ও জেহাদি তজল্লী। এগুলো দেখে সফলতা ভাবার কিছু নেই বরং এই আন্দোলনকেই যখন তার দাবী পূরণের তৃপ্তি দেওয়া যাবে তখনই তাকে একটি শতভাগ সফল আন্দোলন বলে ধরে নেওয়া যাবে।

বুয়েটের ছাত্রদের সাথে শ্রদ্ধেয় আবুল হায়াত সাহেবের এমন উদার মনোভাব প্রকাশকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। একই সাথে অবাক ও ঘৃণা প্রকাশ করতে হয় তাদের প্রতি যারা বুয়েটে পড়া লেখা করে প্রশাসনিক বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করার পরেও বুয়েটের এই দুর্দিনে নিজ স্বার্থকে প্রায়োরিটি দিচ্ছেন। আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই আন্দোলনের সাথে সক্রিয় থেকে কেবল মুখের ভাষায় সন্তুষ্ট না হয়ে বরং পূর্ণ দাবী আদায়ের পর ঘরে ফেরা। শান্তনার মুলা, মুখের ভাষায় রাষ্ট্র দান, আর পুরস্কার কখনো নিরাপত্তা ও প্রকৃত শান্তি দিতে পারে না। আমরা যদি এই সাময়িক মুলায় সন্তুষ্ট হয়ে ঘরে ফিরে যাই তবে তা আমাদেরকে অবচেতনের অথৈ গভীরে নিয়ে যাবে। আর চলতেই থাকবে মৃত্যুর পূনরাবৃত্তির নৃত্য। সুতরাং বিবেকবানরা বুঝতেই পারছেন, এই পূনরাবৃত্তির মৃত্যু ঘটানো আমাদেরই হাতে। তাই আসুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাই। মুলা নয়, ঘরে নিয়ে যাই আমাদের বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিময় ভবিষ্যতের সুপান।




ছবি-ভিডিও: গুগল-ইউটুব
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৫৫
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×