somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফ্রিল্যান্সিং : স্বপ্ন ও বাস্তবতা

২০ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচ্ছা, কখনও কি শুনেছেন, BSc. পাশ করে প্রতিমাসে আয় করুন ২০,০০০-৩০,০০০ টাকা? শোনেননি তো? ১৭-১৮ বছর পড়াশোনা করে মাসে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ টাকা ইনকাম করতে পারবেন কি না শিউর হয়ে বলতে না পারেন, তবে এটা কিভাবে আশা করেন যে ৪ মাসের ট্রেনিং করে আপনি তা পারবেন?

ফ্রিল্যান্সি ট্রেনিং প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলো মানুষকে আকর্ষন করার জন্য বিজ্ঞাপনে এ ধরনের শিরোনাম ব্যবহার করে থাকে। বাস্তবতা হচ্ছে, BSc. পাশ করে প্রতি মাসে কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন, বা আদৌ পারবেন কি না, সেটা যেমন এখনই বলতে পারছেন না, ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমনই। সাধারন ক্যারিয়ারের মত এখানেও আপনার উপার্জন নির্ভর করছে আপনি কি কাজ করছেন, কোথায় করছেন, আপনার অভিজ্ঞতা কতটুকু তার উপর।

উপরন্তু একটা দিক থেকে আমি বলবো ফ্রিল্যান্সিং বেশি কঠিন। কারন, শুধু BSc. পাশের সার্টিফিকেট দেখে কেউ আপনাকে একটি চাকরী দিতে পারে যেখানে মাস একটি নির্ধারিত অঙ্কের বেতন নিশ্চিত পাবেন। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরটি এমন নয়। এখানে কেউ আপনার সার্টিফিকেট দেখবে না, দেখবে শুধু আপনার অভিজ্ঞতা। চাকরীর মত চেয়ারে বসে থাকলেও মাস শেষে টাকা পাবেন না, কাজ করতে হবে। যতটুকু কাজ, ততটুকু টাকা।

ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলো নিজেদের স্বার্থে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ গুলোকে এমন ভাবে উপস্থাপন করে যেন এ কাজ গুলো পান্তা ভাত খাওয়ার মতই সোজা। কিন্তু বাস্তবিক চিত্রে দেখা যায় যে, ৪ মাস মেয়াদী ট্রেনিং শুরু হওয়ার দু'মাস পরই ক্লাশের অনেক আসন ফাঁকা হয়ে যায়। যারা ট্রেনিং শেষ না করেই চলে যাচ্ছে, তাদেরকে কারন জিজ্ঞেস করলে বলে "মাথায় কিছুই ঢোকে না, তাই ছেড়ে দিয়েছি"।

ক্লাশ নাইনে উঠার পর যারা বিজ্ঞান সাবজেক্ট নেননি এই ভয়ে যে, বিজ্ঞান অনেক কঠিন বিষয়, আমার মাথায় অত কঠিন কঠিন সূত্র ঢুকবে না, আমি বলবো তাদের ফ্রিল্যান্সিং করার স্বপ্ন ভূলে যাওয়াই ভালো। আমি বলছি না যে বিজ্ঞান ছাড়া অন্য সাবজেক্ট এর কেউ ফ্রিল্যান্সিং জগতে ঢুকতে পারবেন না, আমি বলতে চাচ্ছি যে, কঠিন বিষয় শেখার মত সাহস, মেধা, ধৈর্য, সৃজনশীলতা এবং একাগ্রতা থাকলে তবেই ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহী হোন। বিজ্ঞান যদি আপনার কাছে কঠিন লেগে থাকে, তবে ফ্রিল্যান্সিও আপনার কাছে কঠিনই লাগবে।

(উল্লেখ্য যে, আপনি বিজ্ঞান, ব্যবসায় বা মানবিক যে শাখা থেকেই পাশ করুন না কেন, ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য উন্মুক্ত। বিজ্ঞানের কথা উল্লেখ করে আমি শুধু এটুকুই বোঝাতে চেয়েছি যে, বিজ্ঞান যদি আপনার সূত্রের কারনে ভয় লেগে থাকে, তবে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের যে কোন কাজের (হোক সেটা প্রোগ্রামিং বা ডিজাইনিং বা এসইও) সূত্রই আপনার মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটি একটি উদাহরন মাত্র।)

এখানে সেখানে বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে ফ্রিল্যান্সিং আসলে কি, এখানে কি ধরনের কাজ পাওয়া যায়, এবং তা কিভাবে করতে হয় সে ব্যাপারে বিস্তারিত সম্যক ধারনা নিন। তারপর সিদ্ধান্ত নি যে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করবেন কি না। তবেই ট্রেনিং নিয়ে বছর ধরে চেষ্টা করে এক টাকাও ইনকাম না করতে পারার যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে না।

চারদিকে যখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জয় জয়কার, তখন আমি কি সবাইকে ফ্রিল্যান্সিয়ে নিরুঃসাহিত করছি? মোটেই না! আমার উচ্চতা ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি, এখন আমি যদি সেনাবাহিনীতে চাকরীর স্বপ্ন দেখি, দিন-রাত দৌড়ঝাপ করে প্রস্তুতি নিতে থাকি, সেটা নিশ্চয়ই আমার বোকামি ছাড়া কিছুই না! আবার, আমি সেনাবাহিনীতে চাকরী পাব না তার অর্থ কিন্তু এই নয় যে আমি অন্য কোন চাকরীও পাবো না। আমার জন্য অন্য চাকরীর পথ অবশ্যই আছে, আমি যেটার যোগ্য। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাচ্ছি যে, যে যেটার যোগ্য তার সেই পথে চলার স্বপ্ন দেখাই ভালো। ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখার আগে আরও একবার ভেবে নিন, আপনি এর জন্য উপযুক্ত তো

লেখাটি ফেসবুকে দেখতে পারেন এখানে Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:০০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×