somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন শিল্পীর সার্থকতা...

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন শিল্পী, হোক সে গায়ক, অভিনেত্রী, চিত্রকর বা লেখক, সে তার জীবদ্দশায় মানুষকে যে শিল্পকর্ম উপহার দিয়ে যায়, তা কখনো অর্থমূল্যে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। চিত্রকরের আঁকা ছবি বা গায়কের গাওয়া গান আপনি অর্থের বিনিমেয় নিতে পারেন, তবে তাকে বিনিময় মূল্য বলাটা এক রকম বোকামি, যেমনটা শিক্ষকের থেকে শিক্ষা অর্জনের জন্য অর্থ দিলেও তাকে শিক্ষার মূল্য বলা চলে না।

শিল্পীর সার্থকতা হচ্ছে এমন শিল্পকর্ম তৈরি করা যা তাকে মানুষের মাঝে অমরত্ব দিতে পারবে। উদাহরণ স্বরূপ বলতে পারি লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির (১৫ এপ্রিল, ১৪৫২-২ মে, ১৫১৯) আঁকা ছবি বা মাইকেল জ্যাকসনের (আগস্ট ২৯, ১৯৫৮-জুন ২৫, ২০০৯) নাচ-গান কিংবা বাংলাদেশের মান্না-সালমান শাহের অভিনয়ের কথা। তারা মরে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের তৈরি শিল্পের জন্য তারা আজও মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।

আচ্ছা, আপনার কি মনে হয় আমাদের বিখ্যাত মডেল নাইলা নাইম বা জ্যাকুলিন মিথিলা কিংবা বিপিএল সুন্দরী আমব্রিন ধাঁচের শিল্পীরা আমাদের যে ধরনের শিল্পকর্ম(!) উপহার দিচ্ছে, তাতে মানুষ তাদেরকে শাবানা-ববিতাদের মত করে মনে রাখবে? উত্তরটা হচ্ছে, মরে যাওয়া দূরে থাক, এদের চামড়ায় বার্ধক্যের রেখা পরার আগেই মানুষ এদেরকে ভুলে যাবে।

কারণটা খুব সোজা। বলতে দ্বিধা নেই এদের শিল্পকর্ম হচ্ছে এদের শরীরের ভাঁজ দেখানো। মানুষ হয়তো আজ এদের শরীর দেখে বিনোদিত হবে, কাল অন্য কেউ আরও বেশি রগরগে ভাবে নিজের শরীরকে উপস্থাপন করে তাদের উপরে জনপ্রিয়তা তৈরি করে নিবে। শিল্পী স্বত্বা যেটাকে বলা হয়, যা কিনা একজন শিল্পীকে নিজের স্বকীয়তা দান করে, অন্য সবার চাইতে তাকে আলাদা করে তুলে, তার বিন্দুমাত্র ছিটফোঁটা কিন্তু এদের নেই!

চারদিকে নামীদামী, বাহারি রং-ঢংয়ের শিল্পীর ছড়াছড়ি যে মানুষ আজ প্রকৃত শিল্পীদের ভুলেই যাচ্ছে। শিল্পের কদর কমে যাচ্ছে। হয়তো এই কারণেই ইদানীং প্রায়ই শুনতে হয় "অমুক শিল্পী মৃত্যু সজ্জায় চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছে, সাহায্যের কেউ নেই..."

হেমন্ত কুমার মুখোপাধ্যায়ের (১৯৩৫-১৯৮৯) "আমি দূর থেকে তোমারেই দেখেছি, আর মুগ্ধ হয়ে চোখে চেয়ে থেকেছি...", গানটা নিশ্চয়ই শুনেছেন? আচ্ছা, গানটা কি আপনার আপনার ভালো লাগে? আমার মনে হয় ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ উত্তর দিবে হ্যাঁ, আর এই লেখা পড়ার পর অনেকেই গানটি আরও একবার শুনবেন! আসলে শিল্পীর সার্থকতা এখানেই! যুগের পরে যুগ পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই গান এখনও মানুষের মনে গেঁথে আছে। অথচ প্রতিদিন কত গান শুনেন যেগুলো একবার শুনলে আর দ্বিতীয়বার শুনতে ভালো লাগে না... পার্থক্যটা এখানেই...

Reference: Wikipedia, IMDB

তানভির ইসরাক
১১ ডিসেম্বর, ২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×