somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের করনীয় কি?

২৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানবতা বিবেচনায় মায়ানমারের রোহিঙ্গা বাংলাদেশে জায়গা দেয়া হোক।

যদি মায়ানমারের অত্যাচারিত রোহিঙ্গাদের যদি আমরা জায়গা দেই, তবে ভারতের অত্যাচারিত জনগোষ্ঠীকেও আমাদের জায়গা দেয়া উচিত। '৭১-এ ভারত বাংলাদেশের মানুষকে জায়গা দিয়েছিল। তবে তখনকার পরিস্থিতি ছিল আমরা যুদ্ধাবস্থায় ছিলাম, যুদ্ধ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা একবার বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তারা আর নিজ দেশে ফিরবে না।

--

রোহিঙ্গারা মুসলিম, বাংলাদেশ ও মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ রাষ্ট্র। সেই খাতিরে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাংলাদেশে জায়গা দেয়া হোক।

সংবিধানে আমাদের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম (২ক) উল্লেখ থাকলেও আমরা ঘোষিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করে (২ক) (যদিও আমরা দেখেছি যে বর্তমানে সংখ্যালঘু নামে একটি ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে, এবং বিশেষ বিবেচনায় তাদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে)। রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের ধর্ম বিবেচনায় নাগরিক আদানপ্রদানের চুক্তি নেই। এজন্য রোহিঙ্গাদের ধর্ম বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রবেশাধিকার দেয়া সম্ভব না।

--

তাছাড়া বাংলাদেশ অতিরিক্ত জনগোষ্ঠী নেয়ার মত অবস্থাতেও নেই। রোহিঙ্গাদের শুধু বাংলাদেশে ঢুকতে দিলেই তো হবে না, তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ও করতে হবে।
যেখানে নিজ দেশের মানুষ বন্যায় ডুবে যাওয়ার পর আমরা পর্যাপ্ত সাহায্য করতে পারছি না, সেখানে অন্য দেশ থেকে আসা মানুষকে কিভাবে সাহায্য করবো?

এমনিতেই বেকারত্ব আমাদের দেশের একটি বিরাট সমস্যা। তার উপর আবার নতুন জনগোষ্ঠীকে কাজের সুযোগ করে দিবো কিভাবে?

আপনার আমার আবেগ দিয়ে তো রাষ্ট্র চলবে না!

--

নিজস্ব নিরাপত্তা (অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক সরবরাহ) অথবা পার্শ্ববর্তী দেশে বিশৃঙ্খলার অজুহাতে মায়ানমারে সামরিক অভিযান চালানো এখন বাংলাদেশের সময়ের দাবি।

সামরিক শক্তির বিবেচনায় মায়ানমার বাংলাদেশের চাইতে শক্তিশালী। GlobalFirePower.com নামের একটি রাঙ্কিং সংস্থার হিসেব মতে সামরিক শক্তির বিবেচনায় পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭, যেখানে মায়ানমারের অবস্থান ৩১। সুতরাং মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে তাদের উপর আক্রমণ করা হলে তারা তা প্রতিরোধ তো করবেই, পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণও করবে। আর পার্শ্ববর্তী দেশ বিধায় তাদের পাল্টা আক্রমণ অবশ্যই আমাদের অনেক ক্ষতি করবে।

--

বাকি থাকে কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধান করা।

স্বাধীনতা লাভের ৪৬ বছর পরের আজ পর্যন্ত আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি নি। যেহেতু আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি স্থিতিশীল নয়, সেহেতু আমরা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এখনও একটি শক্তিশালী অবস্থা তৈরি করতে পারি নি। এ জন্য ভারত আমাদের একের পর এক অত্যাচার করলেও (সীমান্ত হত্যা, পানি প্রত্যাহার, বাধ খুলে বন্যা তৈরি করা) আমরা এক রকম চুপ থেকেছি।

ভারত আমাদের এতো বড় ক্ষতি করার পরেও যেখানে আমরা প্রতিবাদ করতে পারছি না, সেখানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ (বাংলাদেশের উপরও সেই প্রভাব পরছে) বিষয়ে আমাদের নাক গলানো আদৌ কি সম্ভব?

তার উপর দেড় বছরের মাথায় আমাদের জাতীয় নির্বাচন। সব রাজনৈতিক নেতারা এখন সেই দিকেই বেশি ব্যস্ত। অন্য দিকে চলছে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের দ্বন্দ্ব। এতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুর ভীরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কি সময় হবে মিয়ানমারের মানবতা লঙ্ঘনের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া, ব্যবস্থা নেওয়া? হয়তো না।

--

রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানের পথ হয়তো একটাই। সেটা হচ্ছে জোট বদ্ধ হয়ে মায়ানমার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করা। OIC, সার্ক, জাতিসংঘ সহ সব রাষ্ট্রীয় সংগঠন গুলোর অতিদ্রুত মিয়ানমারে এই সমস্যা সমাধানে চাপ দিতে হবে। আর পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উচিত এসব সংগঠন গুলোতে মিয়ানমারের মানবিক বিপর্যয়কে তুলে ধরা ও তাদেরকে একত্রিত করে নেতৃত্ব দেয়া। একা বাংলাদেশের পক্ষে হয়তো তেমন কিছুই করা সম্ভব না।

তানভির ইসরাক
২৯ আগস্ট, ২০১৭
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:৩৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×