somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্বিনসাধক কেরামত মোল্লার একদিন

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেরামত মোল্লা জ্বিন সাধনা করেন। মুখের ফুঁ দিয়ে হাজার রোগ ভালো করেন। তাবিজ দিয়ে জ্বিনের আছর ছুটান। বিরাট জ্বীনরেও ছোট্ট শিশীর ভিত্রে ভরে নদীতে চালান করে দেন। মোল্লা সাহেবের এসব কেরামতির গল্প দশগ্রামের বেবাক লোকে জানে। ভোর হলেই উনার দরজায় তদবীর নিতে আসা লোকজনের লাইন পড়ে যায়। কারো বিশেষ তদবীর দরকার হলে সন্ধাবেলা এসে মোল্লাকে বাড়ি নিয়ে যায়। তবে তিনি রাত বারোটার পর কারো বাড়ি গিয়ে তদবীর করেন না। যথেষ্ট পরিমান হাদিয়া দিলেও তিনি এই নীতি পরিবর্তন করেন না। কারণ এতে জ্বিনেরা গোস্যা হয় এবং উনার উপর আক্রমণ করে বসে। কিন্তু একরাতে তদবীর করতে গিয়ে বাড়ি ফিরতে গভীর রাত হয়ে গেলো। মোল্লা কেরামত দোয়া কালাম পাঠ করে বুকে ফুঁ দিয়ে বাড়ির পথ ধরলেন। পথে এসে তার খুব পিসাবের বেগ পেলো। তিনি বিছমিল্লাহ বলে কর্ম সারতে বসে গেলেন। কর্ম সেরে ভালোমতো কুলুপ করে বাড়ি ফিরলেন। কিন্তু বিছানায় বসেই বুঝলেন নীচ দিয়ে এলাহী কান্ড ঘটে যাচ্ছে ! মোল্লার পাছা দিয়া লাল সুতার মতো রক্তের নহর বইছে! লুঙ্গি পাঞ্জাবি রক্তে একাকার। মুল্লা ভয়ে অস্থির হয়ে জোরে জোরে সুরা কিরাত পড়ে শরীরে ফুঁ দিলেন। পাছায় যেহেতু তাবিজ বাঁধা যায় না তাই কোমরে বড় দেখে একটা তাবিজ বাঁধলেন কিন্তু তাতেও রক্ত বন্ধ হলো না। রক্তের স্রোত ক্রমেই বাড়তে থাকলো। অবস্থা বেগতিক দেখে মোল্লার বউ কেরামতরে নিয়া হসপিটালে গেলো। ডাক্তাররা পর্যবেক্ষণ করে জানালো যে একটা জোঁক উনার পাছার ভিত্রে ডুকে এই কান্ড ঘটাইছে। আসলে তিনি পস্রাব করতে বসেছিলেন একটু জংলার ধারে। জংলায় থাকা একটা জোঁক সেই সুযোগে মোল্লার শরীরে লেপ্টে গিয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে সে মোল্লার পাছার ভিতরে ঢুকে রক্তগঙ্গা প্রবাহিত করেছিল। কিন্তু জ্বিন সাধক মোল্লা ভেবেছিলো এইটা কোন বদজ্বিনের আছর।ডাক্তারদের চিকিৎসায় মোল্লা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরার পর মুল্লারে জিগাইলাম- হুজুর ফুঁ দিয়ে এতোসব জ্বিনভূত তাড়াইতে পারেন একটা জোঁক তাড়াইতে পারলেন না? মোল্লায় আমারে কয় মুসিবতে পড়ছি বলে মশকরা করতেছেন? এইটা ভালো না। আল্লায় আপনার উপর গজব ফেলতে পারে। দোয়া করি আল্লা যেন আপনারে হেদায়াত করে।

আসলে আমার প্রশ্নের উত্তরে মোল্লার কিছু বলার ছিলো না তাই আল্লার দোহাই দিয়ে আমার মধ্যে একটা ভয় তৈরী করতে চাইছিলো। যেমনটি তারা কারো রোগ ব্যাধি হলে করে। রোগ ব্যাধিতে এসব মোল্লার কিছু করার থাকে না। হুদাই মানুষরে জ্বিন ভুত যাদুটোনা ইত্যাদির ভয় দেখিয়ে ব্যবসা করে।
কেরামত মোল্লা তার ব্যবসা ঠিক রাখতে গিয়ে জোঁকের ব্যপারটারেও অন্য রং মাখালো।
পরদিন লোকমুখে শোনি মোল্লার পাছায় আসলে জোঁক ঢোকে নাই। এইটা ছিলো খন্নাস একটা জ্বিন। জ্বিন রক্তবাণ মেরে মোল্লারে এই অবস্থা করেছিলো। কারণ তখন মোল্লার ওজু ছিলো না। তিনি নাপাক শরীরে ছিলেন। পাক শরীরে থাকলে জ্বিন এইটা করতে পারতো না।

আসলে এখানে জ্বিনভুত কিছুই না। জোঁকটাই সত্য। জোঁক রক্তের ঘ্রাণ পেলে মোল্লা-মৌলভী মানে না এমনকি তাবিজ-কবজ, ফু-বিদ্যারেও কেয়ার করে না বরং রক্ত চুষে নেয়। কেরামত
মোল্লারাও বিষয়টা ভালো বুঝে কিন্তু ব্যবসার খাতিরে এর মধ্যে একটু অলৌকিক রং মাখায়, আর কিছু দূর্বল চিত্তের মানুষ সেটা লুফে নিয়ে মোল্লাদের ফাঁদে ধরা খায় । অথচ এই মোল্লারাই অন্যের বাচ্চা ডেলিবারীতে বেশী সময় লাগলে দ্রুত ডেলিবারি করার তদবীর হিসেবে তাবিজ পানিপড়া ইত্যাদি দেয় কিন্তু নিজের বউয়ের বাচ্চা প্রসবের সময় দেখা যায় হসপিটালে গিয়ে ডাক্তারদের বাপ বাপ ডাকে।

তারেক মাহমুদ
#জ্বিন_সাধনা_ফুঁবিদ্যা_তাবিজ_তদবীর
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×