somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন আমি কিশোর- পর্ব-০২

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
প্রথম পর্ব



তখন মোবাইল ফোন খুব কম মানুষই ব্যবহার করতো। তার আম্মুও নাকি ব্যবহার করে কিন্তু সে নাম্বার জানে না, থাকলে হয়ত দোকান থেকে কল দেয়া যেতো। তাকে বাসায় ফেরার জন্য অনেক বলে এবং চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। এদিকে আমারও দেরি হয়ে যাচ্ছে, পরিচিত কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। পেছনে ফিরে দেখতে পাচ্ছি একজন রিক্সা ড্রাইভার যে আমাকে পাস করে বহু আগেই গিয়েছে, অথচ সে আমাদের পেছনে তার পেছনে দেখি আরও দু’টি রিক্সা।একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বললাম তোমার যা ইচ্ছে কর আমি গেলাম, বলে সাইকেলের প্যাডেলে ধীরে চাপি আর পেছন ফিরে দেখি ওই রিক্সা ড্রাইভার আপনা আপনিই এসে তাকে রিক্সায় উঠার জন্য বলছে। আমি থমকে দাঁড়িয়ে দেখি। ড্রাইভার অনেক চেষ্টা করছে তাকে রিক্সায় তোলার জন্য। (মনে হচ্ছে জোর করে রিক্সায় তুলবে) পরবর্তীতে আমি পেছনে এসে প্রিমিয়াকে বলি তুমি চিনো ওনাকে? সে মাথা নেড়ে না বলল, আমরা দু’জনেই তখন অনেক ছোট ছিলাম অত কিছু বুঝতাম না, তারপরও বললাম আংকেল আপনি যান, ও যাবে না। তুই বাড়ী যাবি না রিক্সা ড্রাইভার বলে, তোকে দিয়ে আসি আমিতো ঐদিকে খালিই যাচ্ছি। তখন আমার বুঝতে দেরি হলোনা এটা তার কৌশল। আমি প্রিমিয়াকে পুণরায় জিজ্ঞাস করলাম উনাকে চিনো? উনিতো ঐদিকে যাচ্ছে তোমার বাড়ী ঐ দিকে? এ কথা বলাতে ড্রাইভার লজ্জায় কিছু না বলে চলে গেলেও সামনে কয়েকজন খারাপ প্রকৃতির লোকদের আমাদের ইশারা করে কিছু একটা বলতে আমি দেখছি। তখন বাধ্য হয়ে বললাম উঠো তোমায় বাসায় দিয়ে আসি। সে বাসায় যাবেই না, বাসায় যাও আর না যাও সাইকেলে উঠো, বলে আমি তাকে তাড়া দিই পরে আমি সাইকেল ঘুরিয়ে বিপরীত দিকে যেতে সে হুট করে নেমে বলল আমি যাবো না বাড়ী, আম্মুর কাছে যাবো। ঐ দিকে লোকগুলো এদিকে আসছে আমার ভিতরে অনেক ভয় কাজ করতেছে এই ধরনের পরিস্থিতিতে কি করা উচিত আমি বুঝে উঠতে পারছি না তবে এটুকু বুঝছি লোকগুলো চিহ্নিত খারাপ এই এলাকার। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর দু-একবার মারামারিতে তাদের উপস্থিতি দেখলাম। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতো, মেয়েদের খারাপ ব্যবহার করতো, তাদের চোখ সবসময় লাল থাকতো, দেখে বুঝলাম তারা ভালো না। তাই তার কথায় রাজি হয়ে তাকে সাইকেলের পেছনে বসতে বললাম। সে এর আগে কখনো নাকি সাইকেলে উঠেনি, উঠতে ভয় পাচ্ছে, আমি বললাম উঠো তাড়াতাড়ি ওরা আসতেছে তোমাকে জোর করে নিয়ে যাবে ওরা অনেক খারাপ, উঠে উঠো.......... দ্রুত তাকে সাইকেলে উঠিয়ে দ্রুত প্যাডেল চেপে আমার বাড়ীর দিকেই রওনা হলাম, আমি জানি তার মায়ের অফিস পোষ্ট অফিসটি আমার বাড়ীর দিকে যেতে পড়বে, তাকে সেখানে নামিয়ে দিবো। তাছাড়া এ পরিস্থিতিতে তাকে একা রাখা ঠিক হবে না মনে করে রওনা দিলাম। তাদের পাশ দিয়ে যেতে তারা আমাদের বলে এই দাঁড়াও দাঁড়াও দৌড়ে গিয়ে আসতে দেখে আমি দ্রুত সাইকেল প্যাডেল চাপতে থাকি তাদের কথা শোনেও কোন সাড়া না দিয়ে যাচ্ছি। পিছন ফিরে প্রিমিয়া বলে ওরা আসতেছে রিক্সায় করে।আমি পেছনে ফিরে দেখি সত্যি ওরা রিক্সায় আসতেছে আমি দ্রুত চালাচ্ছি…. আমি সামনে একটি বাজারের কাছাকাছি এসে অনেকটা হামিয়ে পড়ি। তখন মাগরিবের আযান দিলো। বাজারের মসজিদে মুসল্লিগণ নামাযের জন্য যাচ্ছে। বাজারটি মোটামুটি বড়ই ছিলো তাছাড়া বাজারে দ্রুত সাইকেল চালানো সম্ভব নয় এ ফাঁকে আমারও একটু বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে করছে, ওরা আসবে মনে করে থামিনি যদিও তাদের দেখতে পাচ্ছি না। বাজারের মসজিদটি ছিলো বাজারের শেষ মাথায় মসজিদের কাছাকাছি আসামাত্র প্রিমিয়ার সিভিল ওড়নাটি সাইকেলের চেইনের সাহয্যে পেছনে হুইলের সাথে আটকা পড়ে অর্ধেক পেছিয়ে গেলো, সেও বুঝতে পারলো না যখন পুরোটাই হুইল নিয়ে গেলো তখন বলে আ…………উ………!!!! আমি ভয় পেয়ে বলি কি হল? আমার ওড়না……….. , হায় হায়, ধ্যাত এ সময়ে………. দ্রুত নেমে ওড়না টানতে থাকি হুইলের কালো কালো তেল জাতীয় ময়লা তার ওড়নায় লেগে গেলো খুলেতেছে না, পরে সাইকেল পেছনে ঠেলে চেষ্টা করছি কিছুটা খুলতেছে, লিনেন টাইপের পাতলা ওড়নার কারণে পুরোই হুইলের সাথে এমনভাবে আটকেছে যে, খোলা যাচ্ছে না, সাইকেল যতই পিছনে নেই ততই খুলছে, প্রিমিয়া পেছনে হাঁটছে, আমি কুঁজো হয়ে এক হাতে ওড়না ধরে আরেক হাতে সাইকেল পিছনে হাটাচ্ছি পিছনে কে বা কারা আছে আমাদের কারোই লক্ষ্য নাই আমরা মনে প্রাণে চাচ্ছি ওড়নাটি যাতে তাড়াতাড়ি খোলে। এদিকে মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বের হয়ে গেলো আমাদের খেয়াল নাই তাদের কয়েকজনের গায়ে আমাদের ধাক্কা লাগলেও আমাদের কোন খেয়াল ঐদিকে ছিল না, পরবর্তীতে এক লোকের সহায়তা বুদ্ধি পেলাম তিনি বলেন, সাইকেল শুইয়ে উল্টো করে ঘুরাতে হবে, তাহলে সহজে খুলবে, উনার বুদ্ধি কাজে লাগাতে সাইকেলটি একপাশে নিয়ে শোয়াইয়ে উল্টো করে ঘুরিয়ে হাতে ময়লা লাগিয়ে, প্রিমিয়ার বিরুক্তি স্বর বার বার শুনে শেষে খুলতে পারলাম।
হঠাৎ করে প্রিমিয়া আতংকের স্বরে বলে ঐযে লোকগুলো। আমি দেখে দ্রুত সাইকেল উঠিয়ে ময়লা হাত না ধুয়েই বলি উঠো তাড়াতাড়ি সে পেছনে বসবে না, বলে জানায় তাহলে?? আমি সামনে বসবো বলে সে জানায়। পিছনে বসিয়ে ওড়না পেচিয়ে যা অবস্থা করেছো সামনে কি করে বসবে? সামনে বসা লাগবে না, তুমি তাড়াতাড়ি সিএনজিতে উঠো, তোমার আম্মুর অফিসের সামনে নামিয়ে দিবে। সে রাজি হয় না টাকা নিতে রাজি নয়। একপর্যায়ে আমাদের একপাশে দেখে, বিতর্কে হালকা উচ্চ স্বরের সুযোগে লোকগুলো এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ফাজলামির একটি লিমেট থাকে, তোকে তখন বলতাম দাঁড়াইতি, দাঁড়ালিনা, এত রাতে মেয়েটাকে কোথায় নিয়ে যাস?? আমাদের উভয়ের স্কুল ইউনিফর্ম দেখে তাদের একজন বলল সকালে স্কুল ছুটি হয়েছে আর রাত্র করে এখন কোথায় যাস? আমি দ্বিতীয় শিফটের ছাত্র, এই সময়ে আমি রোজ যাই, রাতে কিসের ক্লাশ, এ বয়সে অনেক পাকনামি হয়েছে এখন চল তোদের গার্ডিয়ানের নাম্বার দে, স্কুলে এসব করতে তারা পাঠায়? চল আমার সাথে একথা বলে প্রিমিয়াকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, আর আমাকে অন্য এক লোক জোর পূর্বক টানছে, আমি ভয়ে কিছুই বলার সাহস পাচ্ছি না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:৪৫
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×