somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারুবীর
সাদা এপ্রোন গায়ে চাপানো এক স্বপ্নালু আদম- যে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে না, স্বপ্ন দেখতে দেখতেই ঘুমায় ।

প্রতিটা দিন হয় 'সেদিন'

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এইতো সেদিনকার কথা...
তোমার কানে কানে চুপিসারে বলেছিলাম ‘ভালোবাসি’। তুমি মুখ ফিরিয়ে চোখে চোখ রেখে মুখ টিপে ক্ষণিক হেসে বলেছিলে ‘আমিও ভালোবাসি’। সেদিন যে প্রেম কাব্য রচিত হয়েছিল তার ভার বোধহয় স্বয়ং বিধাতাও নিতে চাননি; তুমি কখনো চেয়েছ কিনা তা জানবার সুযোগ হয়তো হয়েছিল কিন্তু আমার সাধ্যের কিংবা স্বভাবের দোষে তা আর হয়ে ওঠে নি। আমি একচেটিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই নি, আমি কেবল আমার ভালোবাসাকে একান্তই আমার করে রাখতে চেয়েছিলাম। আমি আমার সমাজ’টা কেবল ‘তুমি’ কেন্দ্রিক গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম,ঠিক অনেকটা বনবাসের মত। সেকেলে চিন্তা-ভবনা,তাইনা?আমিও তাই ভাবি...তাইতো একালের তুমি’র সাথে সেকেলে আমি’র এত দূরত্ব! এ দূরত্ব পথের না –অন্তরের।
সেদিন তুমি যদি চোখে চোখ রেখেও বলতে তাহলেও বোধ করি এত কষ্ট আমার হত না। তাই তোমার কাছে আমাদের সব শেষ হয়েও যে আমার কাছে হ’ল না শেষ! আমি যে এখনো তোমার স্পর্শ মেশা গোটা তিনেক শুকনো গোলাপের ঘ্রান নিয়ে ছত্র কয়েক পড়েই মন খারাপ করি তা তো তুমি জানো না, কখনো বা যদিও তোমার অবচেতন মন আমার কথা ভাবে তাহলেও তুমি যে তাকে প্রশ্রয় দাও না তা আমি নিশ্চয়ই জানি। কারন আমি মুছে গেছি তোমার দোরগোড়ায় গোধূলির রঙটুকুর মত।
আমি নেশাগ্রস্ত,তোমার ভালোবাসার নেশায় আসক্ত। তুমি তোমার হিসেবে আমার নেই,কিন্তু আমার হিসেবের হালখাতাটা আমার মতই পুরণো হয়েও তোমাকে প্রতিক্ষণে নতুন করে গড়ে তুলছে। আমাদের ভালোবাসাকে আমি নষ্ট হতে দিই কি করে বল? এই ভালোবাসার নেশাটাকেই তো আঁকড়ে ধরে পড়ে আছি,নয়তো কবেই খাটের বদলে খাটিয়ায় উঠতাম! তোমাকে জড়িয়ে ধরার পর যখন হ্রদযন্ত্র টা অস্বাভাবিক লাব-ডাবে মেতেছিল, সেদিনের পর থেকে আমি আর শান্ত চিত্তে দু’চোখ বুজতে পারি নি। যখন বুকের বাঁ পাশটা সামান্য ব্যথার আর্তি জানায় তখন আমি কি ধরে নেব- আমার কালো অন্তরটার সুর তোমার রঙিন অন্তরের সুরের সাথে মিশে একাকার হতে চেয়েও পারে না বলে এই ব্যথা?
তুমি নও, তোমার স্মৃতি কষ্ট দেয়। পালিয়ে বেড়াতে যেয়ে ঘুরে ফিরে ‘আমাদের’ আমি হয়ে তোমাকে ভালোবেসেই থেমে যাই। কি করবো বল? আমার সব রাস্তা যে আমাকে তোমার কাছেই পৌঁছে দেয়!
মানুষের রাত হয় ভোরের আশায়, আর আমি ভোরটুকু ভালোবাসি রাতের অপেক্ষায়...রাতটাই আপন,অন্ধকারটাই চিরসত্য। তাই রাতের আঁধারে যখন তুমি ঘিরে ধর তখন সোডিয়ামের আলোতে ভেজা কালো রাস্তায় আমি পথচলি,পথচলি উদ্দেশ্যহীন হয়ে। উত্তরের কিংবা দক্ষিণের মৃদু হাওয়া যখন চোখ ভেজাতে চায় তখন মন খারাপের কোন গান কানে বাজিয়ে মনের কথাগুলো ধোঁয়ার আশ্রয়ে ছেড়ে দিই; ধোঁয়াতে মন খারাপের অংশটুকু কখনো বা বিধাতার কাছে নালিশ জানায়,তাইতো নামাজ শেষে আমি আর দুই হাত এক করি না।
কয়েকদিন আগে রাতের দ্বিপ্রহরে আমারই মত আমার এক বন্ধু যখন আচমকা হাত থেকে সিগারেট টা নিয়ে নিঃশব্দে টান দিয়ে এক কর ছাই তৈরী করলো তখন বলে বসলাম –দিল পুড়াইতে যেয়ে পাম্প’টা পুড়াইস না। তখন তার চোখের চাহনি আর ম্লান হাসি আমার ভেতরটা পর্যন্ত পুড়িয়ে দিয়েছিল। এই হাসি’র মর্মটা ‘তোমরা’ কখনো বোঝ না নারী ! উঃ! সেই রাতের অন্ধকারে মিশে যাওয়া ধোঁয়ার কারনটা তোমরা যদি কখনো বুঝতে চাইতে !
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×