somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারুবীর
সাদা এপ্রোন গায়ে চাপানো এক স্বপ্নালু আদম- যে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে না, স্বপ্ন দেখতে দেখতেই ঘুমায় ।

"ডায়েরী"

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন ডায়েরী পড়া শেষে যখন কান্না চাপিয়ে একটার পর একটা ফোন দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন শেষবারের মত ফোনের ওপাশে কান্নায় জড়ানো তোমাকে কাঁদতে কাঁদতে একটা কথাই বলেছিলাম 'এমন তো হওয়ার কথা ছিল না'।
কি করে কি হয়ে গেলো বুঝে উঠার আগেই যেন সব ঝাপসা হয়ে গেলো,বিলীন হয়ে গেলো।সেদিনের পর থেকে আর কোনদিন আমি কাঁদি নি,কখনো কখনো খুব কাঁদতে ইচ্ছা করে কিন্তু আমার কান্না আসে না।
আমি তো ভালোবেসেছিলাম।
বিকেল বেলার রোদটা আমারো ভালো লাগতো, স্তিমিত আলোতে নিজেকে হারিয়ে ঘরে ফিরতে কখনো ইচ্ছা হত না। মনে হত শুধু রাতেই বাঁচবো,রাতটাই যেন আলো,আশা-ভালোবাসা সবকিছু। সেই দুপুর উঁকি সকালের নাস্তা থেকে অবেলার লাঞ্চ কিংবা ডিনারের সঙ্গী হয়ে তুমি তখন ছিলে; একসাথে বিসমিল্লাহ্‌ বলে শুরু করাটা ঘুম ভাঙা আড়মোড়ার মত হয়ে গিয়েছিল, স্ক্রীনের এপার-ওপারে হলেও সবটাতেই কেমন যেন মায়া ছিল,ভালোবাসা ছিল। এই ভালোবাসা যেন অনেকদিনের কোন অভ্যাসের আদলে গড়ে ওঠা বদঅভ্যাস। অভ্যাস ছাড়া থাকা যায় কিন্তু বদঅভ্যাস না। তাইতো তুমি এখনো রয়ে গেছ 'জীবন' এর প্রতি অক্ষরে-অক্ষরে।
হঠাৎ করেই পরিচয়; অপরিচিতা-অভেদ্য কোন এক নিশানা হয়ে। সেই পরিচয় পর্ব থেকেই কেমন একটা টান ছিল,অনেকটা মৃত্যুর মুখে জীবনের মত। তোমার বাঁকা দাঁতের হাসি আর ঠোঁটের উপরের সেই কালো তিল'টাতে আমার ভালো থাকা-মন্দ থাকা বাঁধা পড়ে গেলো। তোম্মার সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেলো নিয়তির পরিহাসে। ছাব্বিস দিনের সেই বন্ধুত্বে বন্ধুর চেয়ে বেশি কিছু হয়ে ওঠা আর ঠিক সাতাশ দিনের মাথায় স্বীকার করে ফেললাম তোমাকে ভালোবাসি; তুমি তো সায় দিয়েছিলে,তুমি কাছে টেনে নিয়েছিলে। সেই দিন থেকে আমি ভালোবাসা বুঝি নি,সবটাই মায়া ছিল।
সেদিন যখন তোমাকে জড়িয়ে ধরে তোমার চোখে চোখ চেপে ধরেছিলাম আর হ্রদয় যন্ত্রটা অস্বাভাবিক লাব-ডাবে মজেছিল আর তুমি বললে আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে, তখন; তোমার নেশায় ডুবে বুঁদ হয়ে বুঝেছিলাম ভালোবাসা কি! সেদিন বুঝেছিলাম তোমাকে ছাড়া আর চলবে না,নাহ-একটা দিন ও না। তোমার সাথে থাকা সময়টা যেন আরব্য রজনীর কোন দৈত্যের মত উড়ে যেত, সময় আমাদের হারিয়ে দিত। সেই সময়! সেই নিষ্ঠুর সময় যেন এখন কাটতেই চায় না। এখন আমি বুঝি প্রকৃতির নির্মম সামঞ্জস্যতা।
সেদিন,পনরো সালের ৩১'শে ডিসেমম্বর সারাটা দিন একসাথে ছিলাম আমরা; একটা ডায়েরী আমার ব্যাগে ভরে দিয়ে বললে ১২ টার পর খুলতে। সেদিন বাসায় পৌঁছে হ্রদয়পটের নতুন বছরের ক্যালেন্ডারে প্রতিটা পাতার প্রতিটা দিন তোমার নামে বরাদ্দ করে চোখ খুলেই স্বপ্ন দেখছিলাম,ঠিক ১১:৫৯ মিনিটের শেষ দশকের সেকেন্ডে যখন তোমার ফোন বাজলো তখন আমি তোমার ডায়েরীটা হাতে নিয়ে বসে আছি ১২:০১ এর অপেক্ষায়; প্রায় এক মিনিট পর তুমি বিদায় জানিয়ে ডায়েরীটা খুলতে বললে।
ডায়েরী পড়া শুরু করলাম। আমাদের সেই পরিচয় পর্ব থেকে শুরু করে ২৬ দিনের সব তুমি আটকে ফেলেছিলে কয়েকটা পাতায়। তারপর 'এখন একটা ভিন্ন পথ চলার গল্প....' লিখে শুরু করলে সাতাশ নম্বর দিন থেকে তোমার সাথে কাটানো প্রায় ছয় মাসের কথা। তারপর? তারপর বললে ' তোমার রাগটা খুব বেশি, হয়তো কোনদিন রেগে গিয়ে আমার গায়ে হাত তুলবে। আমরা কিছু সময় ভালো থাকি তার মানে এই না যে সব সময় ভালো থাকবো। তোমার সাথে কাটানো দিনগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় ছিল। আমার জীবনে আর নতুন কেউ আসবে না কিন্তু তুমি থেমে থেকো না; যে আসবে তাকে আসতে দিও,দেখবা আমার চেয়ে অনেক সুন্দরী বঊ পাবা। সে তোমাকে আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসবে,তোমাকে তোমার মতই ভালোবাসবে। তার হাতটা আলতো করে ধরো,রাগটা কমিও। তোমাকে সামনাসামনি এই কথাগুলো বলার সাহস আমার নাই,তাই লিখে জানালাম।ভালো থেকো,পারলে আমাকে ক্ষমা করো'
সময় থমকে গেলো,আমি আটকে রইলাম সেখানেই-তোমাতে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×