somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সভ্যতা, সম্পর্কজ্ঞান ও ইসলাম।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. পশ্চিমা সাদা চামড়ার লোকেরা নিজেদেরকে যাহাদের বংশধর বলিয়া গর্ব করিয়া থাকে তাহাদের মধ্যে একজন হইল গ্রিক বীর আলেকজান্ডার আরেকজন হইল রোমান সম্রাট সিজার ! তো মহামান্য সিজার একদা বাজার পরিদর্শনে গিয়াছেন ! সেখানে গিয়া একজন যুবকরে দেখিয়া ভীষণ অবাক হইলেন ! হুবহু তাহার মতোই দেখিতে ! কৌতূহল নিবৃত করিতে না পারিয়া সিজার জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা তোমার মা কি রাজপ্রাসাদে চাকুরী করিতেন ?
জি না , মহামান্য !! তবে আমার বাবা রাজপ্রাসাদে মদ পরিবেশন করিতেন !! (পাঠকরে বলিতে হইবে ঘটনা কি ঘটিয়াছিল ?)

২. রানী আনখেসেনামুন, ফারাও তুতেনখামেনের স্ত্রী ! বস্তুত তিনি ছিলেন তুতেনখামেনের সৎ বোন ! পূর্বে তাহার বিবাহ হইয়াছিল তাহার পিতামহ এবং পিতামহের মৃত্যুর পরে পিতার সাথে ! রাজকীয় রক্ত ভিন্ন বিবাহ হইবে না বিধায় নিজ পিতা, পিতামহ ও সৎভাইয়ের সাথে বিবাহ করিতে হয় !

৩. প্রাক ইসলামের সময়ে, আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে আরবে ডিএনএ টেস্ট ছিল না ! আকাম-কুকাম ভালোই চলিত বিধায় পিতৃত্ব নির্ধারণ কঠিন ছিল ! ইহার সমাধানে তাহারা এক অভিনব বুদ্ধি বাহির করে ! যাহারা মাইয়ার লগে জিং জিং খেলিয়াছে তাহাদের দাওয়াত দিয়া একত্রিত করিয়া সমসংখ্যক তীর লইয়া জুয়া খেলা হইতো ! তীরের মাথায় একেকজনের নাম লেখা থাকিত ! বস্তা বা কোন পাত্রের ভিতর হইতে চোখ বুজিয়া তীর ওঠানো হইতো ! যাহার নাম উঠিত সেই পিতা হিসাবে গণ্য হইতো !

৪. আমেরিকার এক রাজ্যে ডিএনএ গবেষকেরা ভীষণ অবাক হইলেন ! এক ব্যক্তির ডিএনএ, ২০ হাজার নারী-পুরুষের সাথে মিলিয়া যাইতেছে ! ইহা কিভাবে সম্ভব তাহা অনুসন্ধানে জানা গেল, সেই অতিমানবীয় বায়োলজিক্যাল ফাদার ছিলেন ডাকপিয়ন ! তাহার চেহারা, দেহশৈষ্ঠব ছিল সেই আমলের একজন নায়কের মতন ! তাহাতেই কেল্লাফতে ! চিঠি বিলি করিতে বিভিন্ন বাড়িতে যাইতে হইতো ! নায়কোচিত চেহারা, ভাব লইয়া তিনি জিংজিং খেলিতেন ! যাহার ফলে তিনি ২০ হাজার সন্তানের বায়োলজিক্যাল ফাদার !!

৫. নরাধম মোদির রাজ্যে ডিএনএ রিপোর্টের ৯৮% রেজাল্টই সন্দেহকে প্রমান করিয়াছে ! অর্থাৎ যাহারা সন্দেহবশত পিতৃত্ব পরীক্ষা করিয়াছেন তাহাদের সন্দেহ সঠিক বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে ! সংবাদপত্রে অবশ্য ডিএনএ পরীক্ষা কতগুলো হইয়াছে তাহা বলা হয় নাই ! তবে জনসংখ্যা, পরীক্ষার সুযোগের অনুপাতে তাহা কম হইবে বলিয়া মনে হয় না ! নাটক, সিনেমা , সাহিত্য যদি সমাজের দর্পন হইয়া থাকে তাহা হইলে বলা যায় , বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক, পরকীয়াকে ভারতে চল হিসেবে গ্রহণ করা হইতেছে। তাই সারা ভারতে ডিএনএ টেস্ট করিলে ফলাফল কি হইবে পাঠকই বলুক !

৬. শরৎচন্দ্রের "বামুনের মেয়ে" একখানা ভয়াবহ উপন্যাস ! উপন্যাসের নায়িকা সন্ধ্যার জন্য আমার মন কাঁদিয়াছে এককালে ! নায়ক অরুণের সাথে সন্ধ্যার বিবাহ হইবে না কারণ সন্ধ্যা কুলীণ বামুনের মেয়ে, অরুন তাহা নহে ! একারণেই বিবাহ হইতে পারে না ! কিন্তু বেলাশেষে জানা গেল সন্ধ্যার পিতা আসলে হিরু নাপিতের ছেলে যে কিনা মুকুন্দ মুখুয্যের হইয়া প্রক্সি দিয়া টাকা কামাই করিত ! মুকুন্দ মুখুয্যের এমন আরও ১০/১২ খানা ইস্তিরি আছিলো ! হিরু নাপিত খ্যাপ মারিয়া মুখুয্যের শশুড়বাড়িগুলো হইতে টাকা উপার্জন করিয়া অর্ধেক মুকুন্দরে দিতো আর অর্ধেক নিজে রাখিত ! মুকুন্দ একলাই নহে , এমন বামুন এবং তাহাদের প্রক্সি দেওয়ার লোক তখন অনেকই ছিল !


৭. কুটিকালে সেবা প্রকাশনী হইতে প্রকাশিত ক্লাসিক "ব্লু লেগুন " পড়িয়া চমৎকৃত হইয়াছিলাম। অনুবাদে পাত্র-পাত্রীকে কাজিন বলিয়া চালাইলেও বড় হইয়া যখন জানিলাম তাহারা ছিল আপন ভাই-বোন, খুব অবাক হইয়াছিলাম ! একধরণের বিতৃষ্ঞা জন্মাইয়াছিলো ! লেখকের মনস্তত্ব সম্পর্কেও ঘৃণা জন্মাইয়াছিলো ! বিকৃত মানুষ না হইলে এইধরণের উপন্যাস কেমনে লেখে আর ইহা জনপ্রিয়ই বা হইলো কেমতে যদি না জনগনের মন-মানসিকতাও এমন হয় !! কেননা, জনপ্রিয়তা আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনের কথা , চাওয়া, সমর্থন ! চটিসাহিত্যের ব্যাপক চাহিদা থাকিলেও উহা জনপ্রিয় নহে , কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ উহাকে খারাপই মনে করে ! সেখানে শুধু জমজমাট কাহিনী ও বর্ণনার গুনে এমন বিকৃতি জনপ্রিয় হইলো কেমনে যদি না তাহাদের ম্যাংগোপিপল ইহাকে সমর্থন করে !!! ধড়িবাজ সেবা কিন্তু আমাদের ম্যাংগো পিপলের মনন বুঝিয়া তাহাদের কাজিন বলিয়া চালাইয়াছে !!

৮। গডফাদারের পালকপুত্র হলিউডের নায়ক টনির কথা মনে আছে ? তাহার বিবির সাথে সম্পর্ক ছিল না কারণ, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতে গিয়া তিনি ধোপা , নাপিত সকলের কাছেই দরজা খুলিয়া দিতেন ! যেন টনি ছিল ধোয়া তুলসীপাতা !!! নারীবাদীদের এই পয়েন্ট টা আমি সমর্থন করি ! পুরুষ হইলে মাফ , আর নারী হইলে খ্রাফ ; ইহা সমর্থনযোগ্য নহে !

৯. আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রফেসরের কবরকে নূর দ্বারা ভরিয়া দিন , আমিন ! তিনি বলিতেন, ইসলামী সভ্যতার সাথে অন্যান্য সভ্যতার পার্থক্য হইলো সম্পর্কজ্ঞানে ! জ্ঞান-বিজ্ঞান, টেকনোলজি, শিল্প-সংস্কৃতিতে অগ্রসর সভ্যতা, জাতি অনেক আছে ! ইতিহাসেও ইহার নিদর্শন ভুরি ভুরি ! কিন্তু সম্পর্কজ্ঞানে ইসলাম অনন্য ! স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক, নারীর সাথে পুরুষের সম্পর্ক, পিতা-মাতা , ভাই-বোন , মাহরাম, গায়ের মাহরামের সাথে কি সম্পর্ক তাহা খুব কঠোরভাবে ইসলামে বর্ণিত ! একারণেই পর্দাপ্রথার এতো কড়াকড়ি , যেন পরবর্তীতে পিতৃত্ব, মাতৃত্ব টেস্ট করিতে, ডিএনএ পরীক্ষা করিতে না হয় ! ১০ বৎসর বয়স হলে বিছানা পৃথক করা, বালেগ হইলে এমনকি মায়ের রুমেও অনুমতি নিয়ে প্রবেশের বিধান সম্পর্কেজ্ঞান ঠিক রাখিতে সহায়তা করে !

১০. সব রমণী ও পুরুষ এক নহে ! যেহেতু প্রধানত পুরুষের কারণেই সম্পর্কজ্ঞান নষ্ট হয়, একারণে সম্পর্কজ্ঞান ঠিক রাখিয়া , শর্তসাপেক্ষে পুরুষের চাহিদা পূরণের জন্যই বহুবিবাহের বিধান ইসলামে রাখা হইয়াছে। পতিতালয়, পরকীয়া , বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক ইসলামে নিষিদ্ধ , কারণ ইহাতে সম্পর্কজ্ঞান নষ্ট হয়, বংশধারা, শুদ্ধ রক্ত তৈরী হয় না, সর্বোপরি আল্লাহর হুকুমের লঙ্ঘন হয় !

১১. সম্পর্কজ্ঞান নির্ভর করে ঈমানের উপর। আল্লাহতায়ালার ভয়, আখিরাতের বিশ্বাস যাহার যত বেশি তাহার সম্পর্কেজ্ঞানও তত বেশি।একারণেই আল্লাহওয়ালা , সে পুরুষ বা রমণী যেই হউক , চোখের পর্দা , পোশাকের পর্দা রক্ষা করিতে পারেন, পারেন সম্পর্কজ্ঞান ঠিক রাখিতে, বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক, পরকীয়া , পতিতালয় গমন এমনকি গায়ের মাহরাম হইতে নিজেকে বিরত রাখিতে, আল্লাহতায়ালার হুকুমকে পুরা করিতে !

১২. আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজে আলহামদুলিল্লাহ সম্পর্কজ্ঞান এখনও কিছু মাত্রায় আছে, ইহাও ঈমানের কারণেই। নারী-পুরুষের পর্দা প্রথা শিথিল হইলেও, লিটনের ফ্ল্যাটের সংস্কৃতি, পরকীয়া চালু হইলেও ন্যাক্কারজনক ইনসেস্ট বা বিবাহ হারাম এমন নারী-পুরুষের মাঝে যৌন সম্পর্ক তেমন দেখা যায় না ! পশ্চিমা বিশ্বের যৌন নির্যাতনের এক বিরাট অংশই পারিবারিক সদস্যদের দ্বারা !! হালে সংবাদপত্রে ভারতেরই কিছু ভয়াবহ ইনসেস্টের ঘটনা দেখা যাইতেছে !

১৩. সম্পর্কজ্ঞান নষ্টের সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্তর হইলো ইনসেস্ট ! এই ব্লগেই একসময় জানিতে পারিয়াছিলাম 'মা' শব্দটি লিখিয়া গুগলে সার্চ দিলে চটিসাহিত্য আসিয়া পরিত ! এই বিষয়ে সার্চ বেশি হওয়ার কারণে এলগরিদমের ফলে উহা দেখাইত ! এই উপমহাদেশে দেবীকে মা জ্ঞানে পূজা করা হয় , ইসলামে মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত ইহা জানা সত্বেও এমন জঘন্য সংষ্কৃতি কোথা হইতে আসিল ? ইহা আসলে সম্পর্কজ্ঞানের অভাব , ঈমানের অভাব বা দুর্বলতার কারণে ! একারণে ঈমানের মেহনত করা , ঈমানের চর্চা করা অতীব জরুরি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন , আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:২৬
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নষ্ট সমাজ ব্যবস্থা এবং সোসাল মিডিয়ায় “বাইন মাছ” এর ফাল দেয়া

লিখেছেন নীল আকাশ, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৬

দেশের সমাজ ব্যবস্থা এবং মানুষের মন-মানসিকতা এখন ধীরে ধীরে অতলের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। কোন কাজটা গ্রহণযোগ্য আর কোনটা বর্জনীয় সেটা বেশিরভাগ মানুষই ভালোমতো জানেও না। কিছু দূর্নীতিগ্রস্থ মানুষ এবং রাষ্ট্রীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিলেকোঠার প্রেম - ৮

লিখেছেন কবিতা পড়ার প্রহর, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৪২

ঢাকা ফিরেই ঠিক করেছি এই চিলেকোঠায় আর না। মিরপুরের দিকে কোনো দু'কামরার ফ্লাট খুঁজে নিয়ে উঠে যাবো শিঘ্রী। মিরপুরের দিকে উঠবার পিছে কারণ রয়েছে আমার এক কলিগের বন্ধুর খালি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কেমন মানুষ? পর্ব- ১৩

লিখেছেন নয়ন বিন বাহার, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৪৬

১।
এই বাংলা মুল্লুকের শিক্ষিত প্রফেশনালরা সবচেয়ে বেশি রুচিহীন।

রাজধানী ঢাকার বয়স চারশ বছরের বেশি। এই গত চারশ বছর ধরে এখনো তার নির্মাণ কাজ চলছে। এমন কোন রাস্তা বা গলি নাই যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেতুল হুজুরের ( ইমাম শফি ) কিছু অমর বাণী

লিখেছেন এ আর ১৫, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:২৪


এই মানুষের জন্য সমবেদনা যারা জানাচ্ছে তারা কি উনার মুল্যবান বাণী শুনেছিলেন?

শফির অমর বাণীঃ

- "শোনো নারীরা, চার দেয়ালের ভেতরই তোমাদের থাকতে হবে। স্বামীর বাড়িতে বসে তোমরা আসবাবপত্র দেখভাল করবা, শিশু... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা: আবারও ভালোবাসতে ইচ্ছা করে

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৪


আমার আবারও ভালোবাসতে ইচ্ছা করে।
একদা এক সময় যেভাবে প্রেমে পড়েছিলাম।
ডিসেম্বর মাসের শেষে, এক শীতের সকালে।
ঢাকার রাস্তা তখন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন।
এমন সময়ে যেভাবে ভালোবাসতে শিখেছিলাম।
সেভাবে আবারও ভালোবাসতে ইচ্ছা করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×