অবৈধ সরকারের পতন চাই শীর্ষক জামাতের ৭২ ঘন্টার হরতাল চলছে । বাংলাদেশে হরতাল আর বৃষ্টির দিনের সবচেয়ে সুবিধাভোগী হল ছাত্র আর সদ্য বিবাহিত পুরুষ । ছাত্র ইস্কুল পালানোর অজুহাত পায় । সদ্য বিবাহিত যুবকের কর্মকাণ্ডে স্ত্রী চাপা রিনরিনে গলায় বলে ওঠেন – এইই কি করছো , বাড়ি ভরতি লোকজন । যুবক স্ত্রীকে আশ্বাস দেয় দরজার খিল লাগানো আছে ।
রাস্তায় নেমে পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম ত্রিশ টাকা আছে । জয়িতাদের বাড়ি যেতে রিকশা ভাড়া লাগবে ১৫ টাকা । নিউমার্কেটের সামনের মোতালেবের দোকানের এককাপ চা ৫ টাকা । বাকী ১০ টাকা দিয়ে একটা বেনসন । মোতালেবের চা খেলে নেশার মত হয় । ঝিম ঝিম লাগে । গুজব আছে সে চায়ে আফিম দেয় । চা শেষ করে সিগারেট নিলাম । সিগারেট ধরাতে গিয়ে থামলাম । সিগারেট রিকশায় বসে খাব । রিকশায় বসে সিগারেট খেলে নিজেকে জমিদার শ্রেনীর মনে হয় । কথাটা আমার না । সোবাহান শিকদারের । তিনি শুধুমাত্র রিকশায় ঊঠে সিগ্রেট খান । আমিও জমিদার থিওরেম এপ্লাই করছি । যদিও আমার পূর্বপুরুষ ছিল পিচাশ শ্রেনীর ।
দুটো মোড় পেরোতেই কয়েক যুবক এসে রিকশার হাওয়া ছেড়ে দিলো । হরতালে চাকা চলবে না । দেখাদেখি একদল ছয় সাত বছর বয়সী টোকাই রাস্তার সমস্ত রিকশার হাওয়া ছেড়ে দিলো । একে বলে মব সাইকোলজী । একজনের দ্বারা একদল মানুষ প্রভাবিত হওয়া । এরা রিকশার হাওয়া ছেড়ে দিয়ে মজা পাচ্ছে । আমি ঠিক মজা পাচ্ছি কিনা বুঝতে পারছিনা । দ্বৈত অনুভূতিতে আছি । অনেক সময় অনেক ঘটনা দেখে আমরা বুঝতেই পারিনা যে আনন্দ পাওয়া উচিত নাকি কষ্ট পাওয়া উচিত ।
টায়ার পোড়ানো হচ্ছে । রিকশায় উঠে সিগ্রেট ধরানো হয়নি । টায়ারের আগুনে সিগ্রেট ধরালাম । হাটা শুরু করেছি । আমার সামনে প্রকান্ড মিছিল । আমিও মিছিলে মিশে যাচ্ছি । একসময় খেয়াল করলাম আমিও মিছিল দিচ্ছি । পাওয়ার হাউজ মোড়ে এসে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল । প্রচন্ড শব্দে জ্ঞান হারাচ্ছি বলে মনে হল । সব কিছু অন্ধকার হয়ে আসছে । মৃত্তুর খুব কাছাকাছি । মানুষের উচিত জীবনে অন্তত কয়েকবার মৃত্তুর কাছাকাছি চলে আসা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




