
গতরাতে স্বপ্নের মধ্যে বেশ কিছুক্ষন হাটাহাটি করলাম । হাইকোর্ট মোড়ে আজিজের চায়ের দোকানে দেখি রবিবাবু বসা । চুলগুলো রাবার ব্যান্ড দিয়ে বাধা । কথা বলে জানা গেল উনি আত্বহত্যা করতে চান ।
আমি আগামাথা না ভেবেই বললাম পটাশিয়াম সায়ানাইড খান । খিচুনি হবেনা । কিচ্ছু টের পাবেননা । জগতের অনেক মহান ব্যক্তি সায়ানাইড খেয়েছেন । কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মারা যাবেন । উনি আমার হাত চেপে ধরলেন । এত জোরে চেপে ধরলেন ঘুম ভেঙে গেল । ঘুম ভেঙে দেখি মেস ম্যানেজার আমার হাত চেপে ধরে আছেন ।
প্রকৃতি মাঝেমাঝে স্বপ্নগুলোকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে দিতে চেষ্টা করে । কিছু বুঝে ওঠার আগেই উনি বললেন সর্বনাশ হয়ে গেছে । গতরাতে মেসের সাথের গলিটায় একটা খুন হয়ে গেছে । থানার সেকেন্ড অফিসার এসে মেসের সবাইকে জেরা শুরু করেছেন । আপনিও চলেন ভাইজান ।
ভাইভা পরীক্ষা দেবার আগে ফর্মাল জামাকাপড় পরতে হয় । পুলিশের ভাইভা দেবার আগে কি পরে যেতে হয় আমার জানা নেই ।
অফিসার- কি নাম?
আমি – হিমালয় । সংক্ষেপে হি । আপনি আমাকে হি বলে ডাকতে পারেন ।
অফিসার- কাল রাতে কোথায় ছিলেন?
আমি- রবিবাবুর সাথে হাটাহাটি করছিলাম হাইকোর্টের সামনে । উনি সুইসাইড করবেন । আমি পরামর্শ দিচ্ছিলাম ।
অফিসার – ত্যাদরামি করবেন না । রবিবাবু মানে রবীন্দ্রনাথ?
আমি- জ্বী হ্যা ।
অফিসার – এর আগের রাতে কোথায় ছিলেন?
আমি – জ্বী গাজীপুর শালবনে । এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারের সাথে জ্যোৎস্না দেখতে গিয়েছিলাম । ( অফিসারের কথাটা বানিয়ে বললাম । প্রভাবশালী লোকের সাথে চলাফেরা জানলে পুলিশ ভড়কে যায় । )
উনি মোটেও ভড়কালেন না । কনস্টেবলকে নিচু গলায় কি যেন বললেন । তারপর হাত ধরে পুলিশের জীপে ওঠালেন ।
ঢাকা শহর অন্ধকার হয়ে আছে । মেঘ ডাকছে । কিছু মেঘ বৃষ্টির আগে ডাকে । আর কিছু মেঘ বৃষ্টির পর । এই দুই মেঘের আলাদা নাম আছে । মনে করতে পারছি না । রুপা ব্যাপারটা বলেছিল । এই মুহূর্তে তরঙ্গিনী স্টোর থেকে রুপাকে একটা টেলিফোন করে মেঘের নাম জানতে ইচ্ছে করছে । কিন্তু সম্ভব না । জীবদ্দশায় আমাদের অনেক কিছু বলতে বা করতে ইচ্ছা করে । আমরা পারিনা । কখনো ক্ষমতা থাকে । কক্ষনো না । রুপা নিশ্চয় আজকের বৃষ্টিতে ভিজছে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


