somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিহাল রাহওয়ান
ভীরু, লোভী, বর্বর, অসভ্য, নির্গুণ, কৃপণ, অশ্লীল, রগচটা, স্বার্থপর, বেআদব, প্রতারক, দুরাচারী, অকৃতজ্ঞ,স্বার্থাণ্বেষী,পরনিন্দুক, মিথ্যাবাদী, উচ্চাভিলাষী, ইঁচড়ে পাকা, অসামাজিক, অবমূল্যায়নকারী ও ভাল মানুষের ভান ধরা আদ্যোপান্ত একটি খারাপ ছেলে...

অব্যক্ত ভালোবাসা

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাশের বাসার ছাদে মেয়েটিকে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গিয়েছিলো ছেলেটার। মেয়েটিরও যে চশমা পরা ছেলেটিকে খারাপ লেগেছে না নয়। ছেলেটা বেশ সুন্দরই আছে। মাসখানেক পর ছেলেটা নিজেকে আর রুখতে পারে না। প্রপোজ এবার করতেই হবে। একটু ভিন্ন স্টাইলে করতে হবে। আর সবার মতো ফেসবুকের এক মেগাবাইট কিংবা ফোনের পঁয়তাল্লিশ পয়সার ভালোবাসা তার নয়। হ্যাঁ চিঠি লিখেই প্রপোজ করবে। সেই পুরোনো দিনের মতো। ভাবতে ভাবতেই লিখে ফেললো চিঠি। কাল ছাদে উঠলে চিঠিটা ছুঁড়ে দিবে তার দিকে...


চিঠিঃ

'বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা সবসময় রাতের সঠিক পূর্বাভাস দেয় না! যেমন হয়তো আমি দিতে পারিনি। তোমাকে প্রথম কখন দেখেছি এটা আমার কাছে একটা অমীমাংসিত রহস্য। অনেক ভেবেও কূলকিনারা করতে পারিনি। অপেশাদার গোয়েন্দার মতো শুধু ঘুরপাক খেয়েছি ছোট্ট সূত্র সন্ধানে। তবে মনে আছে মানবীয় সৌন্দর্যের উর্ধ্বে এক আশ্চর্য মোহনীয়তায় তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বিশেষণের বাইরে কোন অদ্ভুত অনুভূতির সুতীব্র উচ্ছ্বাসে ডানা মেলেছিলাম সফেদ অ্যালবাট্রসের মতো।

মন থেকে চাইলে নাকি ঈশ্বর নিজেই আবির্ভূত হন স্বকীয় মহিমায়। আমি ঈশ্বরকে চাইনি। চেয়েছিলাম তোমাকে। তোমার কাজল চোখের কাব্য আমার পড়া শ্রেষ্ঠ কবিতার বিস্ময়ানুভূতি ঘুচিয়ে হৃদয়ে অস্তিত্বের সুতীব্রতায় চিরস্থায়ী চেনা জানালায় দেখা চেনা আকাশের মতো। আমার হয়নি কখনো এমন!

তারপরের সব তোমার জানা। সেপ্টেম্বরের সেই প্রারম্ভের পর কেটেছে অনেক বেলা। ফেসবুকের মেসেজ বক্সে একটু একটু করে আমার ভালবাসার অংকুরোদগম হয়েছে। স্কাইপে তোমার হাসির ঝংকারে আমার চেনা সব সুর মিথ্যে হয়ে মোজার্টের সোনাটার চেয়ে মূর্ত অলৌকিকতার জন্ম দিয়েছে। কিউপিড-সাইকির গল্প আমার ক্লান্তিতে জীবিত স্বপ্নের মতো তোমার আঙুল ছুঁয়ে ঘুমুতে গেছে নির্দ্বিধায়। গাঢ় ঘুমের নির্লিপ্ততায় তুমি এসেছো অনেকবার, অনাবিষ্কৃত হৃদয়ের প্রতি ইঞ্চি ভূমিতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেতে!

আমি জানি এসবের কিছুই তোমার অজানা নয়। হয়তো নতুন করে জানতেও চাওনা। তোমার মেসেজ দেখেছি সন্ধ্যেবেলা। বৃষ্টি পরবর্তী গুমোট সময়ে। তারপর আমার কেটেছে টিএসসির চারপাশে। মুঠোতে চায়ের কাপ আঁকড়ে একে একে নীলাভ ধোঁয়ার বৃত্ত বানিয়ে আমি মগ্ন ছিলাম উত্তর সন্ধানে। অশ্বত্থ গাছের নিচে গৌতমের ধ্যান তাকে বুদ্ধের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত করেছে। আমার ভালোবাসার অক্ষম আকাশে না জানি কী আছে!

জানি তুমি সুন্দর, আমার আগে পরে অনেকে তোমাকে তোমাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছে,হবে। তাদের মতো করে হয়তো বলতে পারব না কখনো। তবে, বলব আমার ভালোবাসা অনন্য। আমার সমস্ত সামর্থ দিয়ে তোমাকে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। তোমার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমার অনুভূতির প্রকাশিত/অপ্রকাশিত ছন্দোময়তায় তোমাকে ভালোবাসার শপথ করছি। শুধু চাইছি তোমার ভালোবাসা। চাইছি তোমাকে।

আমি জানি ভালোবাসা এত সোজা নয়। সাময়িক আবেগ বলেও উড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। ফ্রয়েডের তত্ত্ব তো অতিসরলীকৃত করে উড়িয়ে দিয়েছে আকাঙ্ক্ষিত এই বন্ধনকে। আজ অনেক কিছু লিখতে চেয়েছিলাম। অনেক ভেবেছি। বারবার কী বোর্ডে হাত দিয়েও সরিয়ে নিয়েছি অজানা আশঙ্কায়! দুরু দুরু বুকের কম্পন আমি ঠিক সহ্য করতে পারিনা। আমার শ্বাসকষ্ট হয়। আজ ঘুমুতে যাব এমনই এক অসংলগ্নতায়।

আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালবাসিগো সুনয়না।'
তুমিও যদি ভালোবাসো তবে লিখেই পাঠিও...'


পরদিন চিঠিটা ঠিকই ছুঁড়ে মেরেছিলো ছেলেটা। পায়ের কাছে এসে পরতেই তুলে এদিক সেদিক তাকালো মেয়েটা। কিন্তু আশেপাশে কাউকেই দেখতে পেলো না। দলা পাকানো কাগজটা একপলক দেখেই সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিলো। প্রপোজ হরহামেশা পায় বলে না কিংবা ছেলেটিকে পছন্দ হয় নি বলে নয়।
কারন বেশ সহজ, ছেলেটা ছিলো মেডিকেল পড়ূয়া। আর চিঠির লেখা? সেটা তো ক্লাসিক... :v

#মেডিকেল_স্টুডেন্ট

*চিঠিটা সামু ব্লগ থেকে ধার নেওয়া :p
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×