somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইটস এ্যা মেমোরী

২৬ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৫:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আমি এবং এঞ্জেলা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম, এঞ্জেলা বলছিলো আমি তো ডঃইউনুসের আজকের বক্তব্য শুনিনি তাই তুমিই আগে ইন্টাভিউ করো। তারপর তোমার প্রশ্নশুনে আমি দুএকটা প্রশ্ন করবো। আমি এঞ্জলাকে বলছিলাম, শোন কোন রাজনৈতিক প্রশ্ন করেনা ওনিহয়তো উত্তর নাও দিতে পারেন, কারন এই মুহুর্তে বাংলাদেশের রাজনীতি নিষিদ্ধ।
এমন কথাবার্তার ফাঁকে ডঃ ইউনূস এসে হাজির হলেন, মাইক্রোফোন বাড়িয়ে পেশাগত দায়িত্বপালনের জন্য প্রশ্ন করতে যাবো নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনুস কে.. আমাকে থেমে যেতে হলো,থামিয়ে দেয়া হলো্। রীতি মত আমার উপড় চড়াও হলেন ইউনুস সাহেবের ভাই মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর।"এইযে আপনাকে নিষেধ করেছিনা ইন্টারভিউ নেয়া যাবেনা"। গতকালও এভাবেই তিনি আমার স্বাক্ষাতকার নেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করেদিয়েছিলেন বলে আমার চেহারা ভুলে যাননি।

আমার স্মৃতি শক্তি আরো গভীরে চলে গেল, আমি যখন প্রথম লণ্ডনে আসার জন্য শপিং করতে গিয়েছিলাম , মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সাথে বঙ্গবাজারে আমার প্রথম দেখা। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তাজা ছাত্র। দিন রাত পত্রিকা পড়ি, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের লিখা প্রথম আলোর মিডিয়া ভাবনার নিয়মিত পাঠক। লেখক কে কাছে পেয়ে তরুন পাঠক হিসাবে আমি সময় তার সাথে শপিং করলাম একসাথে । ফিরবার পথে আামকে একটা 150 টাকা দিয়ে একখানা সার্ট কিনে দিয়ে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, "ইটস এ্যা মেমোরী", সেই সার্ট আমি তিন বছর সু্যটকেসে রেখে দিয়েছিলাম শুধু মাত্র স্মৃতি ধরে রাখার জন্য।
আজ নতুন একটি মেমোরি যুক্ত হলো, সেই পুরোনো সার্টটি হয়তো এখন সুটকেসে রাখার প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে।

এঞ্জেলা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো, অবাক হলো উপস্থিত অনেকেই। "নো এক্লুসিভ, আপনাকে ইন্টারভিউ নিতে হলে ঢাকা থেকে অনুমতি নিতে হবে"। এমন যুক্তিতে আমাকে থামতেই হলো। বললাম,ইভেন্ট কাভারেজে কোন সেলিব্রেটির ইন্টারভিউ করতে আগে ঢাকা থেকে অনুমতি নিতে হয়! এই তথ্য আমার জানা ছিলোনা। তবুও বাংলাদেশী হিসাবে আমাদের নিশ্চই ডঃ ইউনুসকে প্রশ্ন করার অধীকার আছে। তবুও হলোনা। আমাকে সেখানেই থামতে হলো।
এঞ্জেলা বললো আমি হতাশ, বিবিসি লণ্ডনের মত টেলিভিশন চ্যানেলে যদি তোমরা ইন্টারভিউ দিতে না চাও তবে ক্ষতিটাতো তোমাদের, তাছাড়া নোবেল জয়ী মাইক্রোক্রেডিটের এই জনককে আমাদের দর্শকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সুযোগ আর দ্বিতীয়টি নেই। এঞ্জেলার এই আবেদনও গ্রাহ্য হলোনা। ফিরে যেতে হলো তাকেও।

আমি ওকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, তুমি হতাশ, আর আমি মর্মাহত। মনে মনে বললাম, আমি বৃটেনের অসংখ্য শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও সেলিব্রেটিদের ইন্টার ভিউ করেছি। নোবেল বিজয়ের পর হাউজ অফ লর্ডসে ডক্টর ইউনুসের স্ব্ক্ষাতকারও আমি এর আগেও নিয়েছি, এমনকি টনী ব্লেয়ারের স্ত্রী শেরি ব্লেয়ারের জন্ম দিনের পার্টিতে গিয়েও তাকে প্রশ্ন করেছি , উত্তর পেয়েছি সানন্দে চিত্তে। কিন্তু আজ আমার দেশের সোনার ছেলের বেলায় আমাকেই বাধা দিলো আমাদেরই আরেক সোনার ছেলে! পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম মুল বিষয় হলো- অর্থ, ডঃইউনুসের স্বাক্ষাতকার নিতে হলে এখন নাকি অর্থ দিতে হয়। আগে থেকে রেজিষ্ট্রেশন করে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ঢাকা অফিসে কিছু নিয়ম নীতি মানতে হয়। শুধূ তাই নয় ইউনুস সাহেব বিদেশে কোন অনুষ্ঠানে গেলে সেখানে 'নৃত্যাঞ্চল' নামে সাংস্কৃতিক দলকেও আমন্ত্রন জানাতে হয়। সেখানে বড় অংকের অর্থ দিতে হয়। গত বছর 14 ডিসেম্বর লণ্ডনের আলেকজ্রান্দ্রিয়া প্যালেসে আয়োজিত ডঃ ইউনুসের গনসংম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে 2হাজার 7শ পাউন্ড বাড়তি দাবী করেছিলেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এভাবে যদি নিজ দেশের সুর্য সন্তানকে নিয়ে আমরা ব্যবসায় মেতে উঠি তাহলে আমাদের অর্জিত সম্মানকি আমরাই নষ্ট করে ফেলছিনা?

পাঠক ,আমার তথ্য বিভ্রাট হলে শুধরে দেবেন। ।এসংক্রান্ত নতুন কোন তথ্য জানা থাকলেও শেয়ার করবেন।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×