somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টিস্নাত বৈশাখ

১৯ শে মে, ২০০৭ ভোর ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালবেলা এলেন গার্ডেন এলাকায় বাঘের গর্জন শুনে চমকে উঠে আনিতা! জানালার কাচ খুলে সে দেখে বিশাল আকৃতির বাঘ তার বাড়ীর সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। দেখতে ঠিক রয়েল বেঙল টাইগারের মতো হলেও এই বাগ আর বনের বাঘের মধ্যে পার্থক্য অনেক। এই বাঘ বৈশাখী মেলার বাঘ। এই বাঘ মানুষ খায়না বরং মানুষকে কাছে টানে। তাই বিলেতের বৈশাখী র‌্যালীতে ঐ বাঘের পিছনে ছুটছে হাজারও মানুষ। আনিতার শখ হলো ঐ মানুষের ভীরে মিশে যেতে। ছুটির দিন হওয়াতে বাবা জিম মেয়ের আবদারে বাঁধা দেয়নি। বাঙালী মেয়ে বিয়ে করার সুবাদে জিম হাডসন বাংলাদেশের অনেক সংস্কৃতির সাথেই পরিচিত কিন্তু ওরা পূর্ব লন্ডন এলাকায় এসেছে প্রায় ছয় মাস, তাই বৈশাখী মেলার এমন র‌্যালী সম্পর্কে তার এতটা বর্নীল ধারনা ছিলোনা। মেয়ের আবদার আর নিজের ইচ্ছাকে পশ্রয় দিলে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে, কেননা সকাল হতে টিপ টিপ বৃষ্টি । জিম হাডসন মেয়ের আবদার মেটাতে বৃষ্টিস্ন্তা বৈশাখী শোভা যাত্রায় অংশ নিলেন।
এমন গল্প শুধু জিম আর তার পরিবারেই নয় ,বিলেতের বৈশাখের জন্য প্রবাসী বাংঙালিরা অপো করে থাকে একটি বছর। ১৪ ফেব্রয়ারী বৈশাখের প্রথম প্রহর হলেও বিলেতের বৈশাখ ছিলো ১৩ মে, তাই অপয়া তেরর যথার্ততা পেয়ে বসেছিলো এবারের মেলায় । সকাল থেকেই বেসরিসক বৃষ্টি বাঁধা হয়ে দ্বড়িয়েছে মানুষের। তবুও শেষ বিকেলে মানুষের ভীরে কর্দমাক্ত মেলার মাঠ হয়ে উছেছিলো প্রানবন্ত।
লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে মেয়েরা যেমন রমনার বটমূলে ভীর করে বিলেতের বৈশাখে রমনীদের ভীর ছিলো এলেন গার্ডেন উইভার্সফিল্ড আর বৃকলেনে। কপালে লাল সবুজের পতাকা হাতে ছেলে বুড়ো সবার অংশ গ্রহন ছিলো স্বর্তস্ফুর্ত।শুধু বৃটেন হয়। ইউরোপের দেশগুলো খেকেও প্রবাসী বাঙালিরা এসেছিলেন বৈশাখী মেলা উপভোগ করতে।
বৃকলেনের রাস্তায় মাছ নেই তবুও জাল ফেলে মাছ ধরেছেন উৎসাহী তরুন তরুনীরা। কেউ সেজেছেন বেদেও সাঁজ, কেউবা বর কনে। গাড়ীর যাদুকর নিজামুদ্দীন তো তার নিজ হাতে গড়া ফোর্ড গাড়িটি নিয়ে নেমে পড়েছেন মেলার র‌্যলিতে। সব মিলে মেলার আয়োজন ছিলো সতিই বনাঢ্য। মেলার র‌্যালিটি উদ্বোধন করেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র শফিকুল হক, শোভাযাত্রা শেষে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেবার পার্টি মনোনীত প্রথম বাঙালী এম পি প্রার্থী রশনারা আলী ও মেলার মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল এসের চেয়ারম্যান মাহী ফেরদৌস।
কন্ঠ শিল্পী বেবী নাজনিন, হাবিব, ফেরদৌস ওয়াহিদের গানের মূর্ছণার পাশা পাশি অভিনেত্রী অরুনা বিশ্বাস ও জোৎসা বিশ্বাসের দল মঞ্চস্থ করে যাত্রা পাল্ াবেদের মেয়ে জোৎসা। মাইকেল মধুসুধন দত্ত কেন মঞ্চস্থ হয়নি সেই অজ্ঞাত কারন জানা না গেলেও অরুনা বিশ্বাস জানানেল তার ােভের কথা, শিল্পীদের যথাযথ সম্মান না দেয়ার কারনে অনেকেই মনুন্ন হয়েছেন। যে পরিমান লোক বেবী নাজনিনকে দেখা শুনা করেন সেই পরিমান লোক তো নয়ই তাদের দেখাশুনা করার জন্য কোন আয়োজককেই যথা সময়ে খুজে পাওয়া যায়নি। তাই প্রথম বারের মতো মেলায় এসে অনেকটা অসহায় বোধ করেছেন শিল্পীরা। প্রতিবার একই মুখ মেলায় আসা নিয়েও প্রশ্নতোলেন কেউ কেউ। মেলার পোস্টারে বেবী নাজনিন, হাবিব এবং ইভা রহমানের পোস্টার থাকলেও ইভা রহমানের দর্শকদের ব্যথ হয়ে মেলা থেকে ফিরে যেতে হয়েছে। এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান অনেকটা ুদ্ধ হয়ে উঠেন মেলা কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজ হকের উপর। মেলা কমিটির চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও করেন তিনি। ইভা রহমান বলেন, তাকে বেলা দুইটায় গান গাইতে দেয়া হয় লোকাল শিল্পীদের সাথে ,যখন দর্শক গ্যালারী ছিলো একেবারে ফাঁকা যা তার জন্য খুবই অপমান জনক। তাই তিনি গান গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
দর্শকদের অভিযোগ তাদেরকে বিশ পাউন্ড টিকেট খরচ করে যাত্রা পালা দেখতে হয়েছে। যেখানে পুরো মেলাটি কাউন্সিল ও বিভিন্ন প্রতিষ্টানের অর্থ সহায়তায় হয়েছে সেখানে কেন যাত্রা দেখতে টিকেট কাটতে হবে, এই প্রশ্নের কোন উত্তর মেলেনি আয়োজকদেও তরফ থেকে।

এবারের মেলায় অপর অন্যতম আকর্ষন ছিলো ফ্যাশন শো ও হা ডু ডু খেলা। প্রথম বারের মতো বিলেতের মাটিতে হা ডু ডু খেলা অনেক বৃটিশই মুগ্ধ হয়ে দেখেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন এবারের মেলায় লোক সমাগম হয়েছিলো প্রায় লাধীক । গেল বছর মেলার দর্শক ছিলো প্রায় দেড় ল। এবারের মেলার দশ বছর পূর্তি উপলে তাই লোক সমাগম আরো বেশী আশা করেছিলেন মেলা কমিটি। কিন্তু বৃষ্টির কারনে লোক সমাগম ছিলো প্রত্যাশার চে’ অনেক কম। বিলেতের বাংলা স্যাটেলাইট চ্যানেল চ্যানেল এস বৈশাখী মেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করে।
মেলাকে প্রানবন্ত করে রেখেছিলো প্রায় ২৫০ টি স্টল। পেশাদার, অপেশাদার প্রবাসীরা পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় খুলে বসেছিলেন সখের পসরা। কেউ চানাচুর,কেউবা ভুনা খিচুরী, কেউ আবার অ-আ -ক খখচিত টি-সার্ট বিক্রি করে বৈশাখী উৎসবটিকে করে রাখতে চেয়েছেন স্বরনীয়।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৭ ভোর ৬:২৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×