somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেউ খায় গোশতো কেউবা কুড়ায়

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকার পথঘাট এখন পুরোপুরি ফাঁকা। কোরবানির মাংস কাটাকাটিতে দিনের বেশির ভাগ সময়ই শেষ। ক্লান্ত-অবসন্ন হয়ে থাকেন পরিবারের বড় সদস্যরা। কিন্তু শিশুদের তো বেড়াতে যেতেই হবে। তাই নানা আরজ-আবেদন আর বায়না নিয়ে প্রফুল্ল মনে নেচে বেড়াচ্ছে একদল শিশু। বেড়াতে যাওয়ার জন্য শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, জাদুঘর ইত্যাদি। কোরবানির ঈদে শিশুপার্ক ও চিড়িয়াখানায় লোক সমাগম কমই দেখা যায়। কিন্তু ঈদের পরের দিন শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বেড়ে যায় বলে জানায় জাতীয় শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষ। কোরবানি ঈদ মনেই মাংস কাটার ঈদ। মাংস খাওয়া এবং মাংস বণ্টনের আনন্দঘন একটি আয়োজন। মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত, এমনকি কম আয়ের মানুষগুলোর মাঝে খানিকটা লক্ষ্য করা যায় এই আনন্দ আয়োজন। ধার-কর্জ কিংবা কষ্ট করে হলেও মাংসময় একটি দিন কাটানোর আয়োজনে কোনো প্রকারের কোনো কমতি থাকে না বাংলাদেশে প্রায় মুসলিম প্রতিটি পরিবারে। কিন্তু, এর পাশাপাশি উল্টো চিত্র ‘পথশিশু’ ‘ছিন্নমূল’ শিশুদের ব্যাপারে। কোরবানিদাতা অনেকেই হয়ত ভাবেন না তাদের কথা। অনেকে হয়তো দুই-এক টুকরা মাংস দেন ঠিকই কিন্তু সেই প্রদান-আয়োজনটি থাকে নানা প্রকার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য এবং অবহেলা-অবজ্ঞায় পরিপূর্ণ। মাংস নিতে এসে মাংসদাতার হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা বর্তমান বাংলাদেশে অতি সাধারণ একটি চিত্র। অথচ ইসলামের শিক্ষা কিন্তু ঠিক এখানেই- কোরবানি করার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের মাঝে বন্টন। ইসলামের বিধান হলো- কোরবানির মাংসকে তিন ভাগ করে দুই ভাগ মাংসকে বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে ইসলাম। অথচ আমরা করছি এর উল্টোটা- নামে মাত্র মাংস বণ্টনের পর অধিকাংশ মাংসই রেখে দেই নিজেদের জন্য। আর এজন্যই দেখায় কোরবানির ঈদ এলেই রেফিজারেটর/ফ্রিজ ক্রয়-বিক্রির ধুম পড়ে যায়...
মধ্যবিত্ত ঘরের একজন শিশু যখন বাসায় বসে মায়ের হাতের সুস্বাদু রান্না খাচ্ছে, ঠিক সে সময়ই পথশিশু বা ছিন্নমূল শিশুরা ঈদ-উল আজহায় বের হয় উচ্ছিষ্ট মাংস কুড়াতে। কেউবা গরিব-দুঃখীদের ভাগের মাংস থেকে কিছুটা অংশ এই ছিন্নমূল শিশুদের দিয়ে দেন। কেউবা আবার দূর দূর করে তাড়িয়েও দেন। কথা বলে জানা গেল, ঈদের দিন হলেও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পেটে এক ফোঁটা পানিও পড়েনি রুবির। বয়স কত জানতে চাইলে রুবি হাসে। কোথায় থাকো ? তারপরও রুবির হাসি মুখ থেকে যায় না। কেবল এই এক রুবিতেই শেষ নয় এই কাহিনি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাত কাটে আরো অনেক রুবির। কে তার বাবা এবং কে মা- জানা নেই ওদের। কোরবানি ঈদের দিন পলিথিন নিয়ে ওরা মাংস সংগ্রহের জন্য বাড়ি বাড়ি যায়। কারো ভাগ্যে জোটে কিছু মাংস, আবার কারো ভাগ্যে মেলে মাংসদাতার লাথি-তাচ্ছিল্য। এই যদি হয় কোরবানি ঈদের মাংস বিলির নামে মাংসভোগের পরিস্থিতি- কী জন্যে তাহলে এই কোরবানি?
কথা হলো মনা নামের একটি মেয়ের সাথে। ধুলো-মলিন অবস্থায় রাস্তার পাশেই পরে আছে সে সোমবার আর শুক্রবারের মাঝে যেমন কোনো পার্থক্য নেই ওদের, তেমন কোনো পার্থক্য খুজে পায় না রমজানের ঈদ আর কোরবানির ঈদের মাঝেও। না আছে নতুন জামা-কাপড়, না থাকে নতুন কোনো খাদ্য-খাবার। তবে কোরবানি ঈদটাকে একটু আলাদাই ভাবে ওরা। কারণ এই ঈদে কিছু হলেও মাংস কুড়িয়ে পাওয়া যায়। মা কোথায় জানতে চাইলে খেলতে খেলতে মনা জবাব দেয়, ‘আইজ তো মাংস কাটার ঈদ। মায় মাংস কাটতে গ্যাছে। মাংস কাটলে মাংস পাইবো। হেই মাংস রাতে রাইন্ধ্যা খামু।’ এভাবেই কাটে ছিন্নমূল শিশুদের ঈদ।
অভাগী দুস্থ এই সব শিশুদের খবর কি কেউ রাখবে! মনে হয় না। দিন যায়, মাস যায়। বছরও যায়। তারপরও রাষ্ট্র না পালন করে তার দায়িত্ব, সমাজও বড় আত্মকেন্দ্রিক। কার কী হলো, তা নিয়ে ভাবনা নেই সমাজের। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খবর আর কে আর রাখে!! ধনী, মধ্যবিত্ত, ধর্মবেত্তা, সমাজ, রাষ্ট্র, ব্যক্তি, সংবাদমাধ্যম কারোরই মনে থাকে না পথশিশুরা বা হতচ্ছাড়া ছিন্নমূল শিশুরা কী খেলো না খেলো, কোথায় রাত কাটলো! কীভাবে কাটলো একটি কোরবানির ঈদ। আসুন আমরা সবাই মিলে কোরবানির ঈদের মহত্ত্ব অনুধাবন করি এবং সবাই মিলে এগিয়ে আসি পথশিশুদের সহযোগিতায়। আমার ঘরের শিশুটির মতো মাংসময় আনন্দঘন আয়োজনে কাটুক পথশিশুদের ঈদ। কুড়াতে আসবে কেন, আমিই চলে যাই ওদের কাছে এবং হাত বাড়িয়ে তুলে দিই কোরবানির গরুর মাংসগুলো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরবানির ঈদের মহত্ত্ব বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×