বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।
পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গো যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,
ও বাবা মড়াত করে
পড়েছি সরাত জোরে।
পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।
ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার,
ধুমাধুম গোটা দুচ্চার
দিলে খুব কিল ও ঘুষি
একদম জোরসে ঠুসি।
আমিও বাগিয়ে থাপড়
দে হাওয়া চাপিয়ে কাপড়
লাফিয়ে ডিঙনু দেয়াল,
দেখি এক ভিটরে শেয়াল!
ও বাবা শেয়াল কোথা
ভেলোটা দাড়িয়ে হোথা
দেখে যেই আঁতকে ওঠা
কুকুরও জাড়লে ছোটা!
আমি কই কম্ম কাবার
কুকুরেই করবে সাবাড়!
‘বাবা গো মা গো’ বলে
পাঁচিলের ফোঁকল গলে
ঢুকি গিয়ে বোসদের ঘরে,
যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!
যাব ফের? কান মলি ভাই,
চুরিতে আর যদি যাই!
তবে মোর নামই মিছা!
কুকুরের চামড়া খিঁচা
সেকি ভাই যায় রে ভুলা-
মালীর ঐ পিটুনিগুলা!
কি বলিস ফের হপ্তা!
তৌবা-নাক খপ্তা…!
অসাধারণ একটি কবিতা । এখনো মনে আছে ষষ্ঠ শ্রেনীতে থাকাকালীন সময় আমাদের লাইব্রেরী নামক একটি ক্লাস হত । আমাদের এই ক্লাসটি করাতেন প্রয়াত প্রীতধারা সাহা ম্যাডাম । ম্যাডামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এইরুপ- ইনি অনেক কড়া ছিলেন, সব ছাত্রই তাকে ভয় পেত । তো লাইব্রেরী ক্লাসে একদিন ম্যাডাম বললেন আমাদের যে আগামী ক্লাসের জন্য লিচু চোর কবিতাটি মানে উপরোক্ত কবিতাটি শিখে আসতে সঞ্চিতা থেকে । আমি বাসায় ফিরে জলদি আব্বাকে বললাম কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার বই সঞ্চিতা কিনে আনতে । বইটি পেয়ে আমি জলদি শেখা শুরু করলাম এবং আমার বিশ্বাস ক্লাসের আর সবাইও এমনটিই করেছিল । ক্লাসে যতদূর মনে পড়ে শুধু আমিই পুরো কবিতাটি আবৃত্তি করতে পেরেছিলাম । ঐ ঘটনার পর দীর্ঘ ছয়টি বছর অতিক্রম হয়ে গেছে । আজ প্রীতিধারা সাহা ম্যাডাম নেই । তবুও তাঁর স্মৃতি আছে এবং থাকবে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



