somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বারান্দা অপ্রীতিকর

০৯ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধুদের নিয়ে নতুন বাসায় শিফট হলাম। বিস্তারিত তে যাওয়ার আগে বাসার একটা ছোট্ট বর্ণনা দেওয়া বাঞ্চণীয়। সদর দরজা দিয়ে ঢুকতেই ডাইনিং, একটু এগিয়ে হাতের বাম পাশে ড্রয়িং (সাথে দরজা নেই, বারান্দা আছে একটা, বারান্দা আর রুমের মাঝে সিলিং টু মেঝে পর্যন্ত কাঁচের জানালা), হাতের ডানে ছোট্ট করিডরের প্রথমে রান্নাঘর, শেষ মাথায় ছোট্ট টয়লেট। রান্নাঘরের দরজার ঠিক উল্টো দিকে একটা রুম (দুটো জানালা, সাথে বারান্দা, প্রচুর বাতাস, রাতে প্রগতী সরণী হয়ে হাতিরঝিল টু বনশ্রীর একটা পেনারোমা ভিউ পাওয়া যায়), রুমের দরজার সাথে আরেকটি বাথরুম। আরেকটু সামনে এগুলে আরেকটা ছোট্ট করিডোর, যার দুই মাথায় দুটি রুম, প্রথমটি সিঙ্গেল (বারান্দা-টারান্দা নাই,একটা জানালা), পরেরটি মাস্টার বেড(দুটা জানালা, বারান্দা, আরেকটা বেডের সাইজের বাথরুম)।
আমি যেহেতু বাসাটা প্রথম দিকে দেখতে আসি নি, তাই সিঙ্গেল রুম আর মাস্টার বেডের জন্য আবেদনের যোগ্যতা ছিলো না। দরজা নেই দেখে ড্রইং রুমের দিকে কারও নজর ছিলোনা। পুব দিকের এই রুমটাই আমাকে টানলো বেশী। সকালে সূর্যের প্রথম আলো আমার জন্য বরাদ্দ, আবার পুরো পূর্ণীমা’ও আমার দখলে। সব হিসেব করে এই রুমটাই বেছে নিলাম। আরেকটা ব্যাপার হলো, কোনো রুমমেট থাকবেনা। নিজের মতন করে থাকা যাবে! আর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হলো, একটা দরজা লাগিয়ে নেওয়া হবে।
সমস্যাটা হলো, পূব দিক থেকে কোনো বাতাস আসেনা। যেইটুকু চারদিক হতে আসে তা বারান্দার বিশাল জানালা ভেদ করেও ঘরে ঢুকেনা। যাই হোক, এই রুমেই উঠলাম এবং প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলো এখনো দরজা লাগানো হলোনা। প্রাইভেসি বিহীন জীবন যাপনের দুঃখ বর্ণনা করে আবেগ ডেকে আনতে চাইনা।
ঢাকা শহরের অন্য জায়গার মতো এই বাড়ির দেয়াল ঘেষে বিল্ডিং উঠেনি। বলতে হয় আমার বাসার ভাগ্য ভালো। এর আগের ফ্ল্যাটের আসপাশেও কোনো বাড়ি ছিলোনা। তবে তারপরেও স্বাধীন ভাবে বারান্দায় দাড়ানোর উপায় নেই। এক প্লট দূরে যে বাড়ী আছে তার সকল ভিউ যেহেতু আমি পাই, আমার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকাও অন্যদের চোখে পরা খুবই স্বাভাবিক। তার উপর, এখন পর্যন্ত এমতভাবে অন্য কোনো বাড়ির বারান্দায় কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখিনি। সহজ কথায়, আমার মতো বারান্দা প্রেমি হয়তো আর কেউ নেই। এবং এই জন্যই বারান্দায় যাওয়াটা আমার জন্য আস্বস্তিকর হয়ে পড়েছে। খুবই স্বাভাবিক ভাবে তারা মনে করে নেবে আমি তাদের ঘরের দিকে চেয়ে আছি। না, ব্যাপারটা চোরের মন পুলিশ পুলিশ করার মত নয়। যা ভাবা স্বাভাবিক তাই ধরে নিচ্ছি। তার উপর ঘরের দক্ষিণ কোনের বাড়ির বেডরুম গুলো কেমন যেন ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে।
তবে জানালার সাইজ বড় হওয়ায় বিছানায় হেলান দিয়েই সূর্যদয় দেখতে পাই। সমস্যা তখনই হয় যখন চাঁদ দেখার জন্য একটু সামনে আগাতে হয়। তখন আবার সেই দক্ষিণের বাড়ির সাত তলা থেকে আমার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা দেখা যায়। এখন, তারা নিশ্চই ধরে নেবে না যে আমি চাঁদ দেখছি। ‘চাঁদ দেখে কেউ টাটকা তরুণ খোকা’ হয়ে যাচ্ছি নিজের অজান্তেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আমার দরকার চাঁদ দেখে থুরথুরে সাত বুড়ো হওয়া, কারণ চাঁদ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি আমার আকর্ষণ আপাতত নেই। সেইদিন চাঁদ দেখার সময় সেই সাত তলার বেডরুমে নড়াচড়া দেখে চোখ গেলো, আর সেই বাসার বাসিন্দা পর্দা নামিয়ে দিলো। ইচ্ছে হচ্ছিলো দৌড়ে ওই বাসায় গিয়ে বলি, ‘দেখুন আপনারা যা ভাবছেন আমি তেমনটা নই। আমি শুধুই চাঁদ দেখার জন্য ওভাবে জানালায় বসি। প্লীজ ভুল বুঝবেননা’।
আশপাশের যারা আমাকে সন্দেহ করছে তারা যদি একটু ভালোভাবে লক্ষ করে তবে দেখবে, আমি পনেরদিন পরপর এভাবে একটানা এভাবে জানালায় বসি। কারণ পনেরদিন পরপর পূর্নিমা আসে। কিন্তু খুব সম্ভবত আমাকে ভালো চোখে দেখার জন্য কেউ এই অংক কষতে যাবেনা।
সেইদিন সকালে বারান্দায় গেলাম ভেজা কাপড় শুকোতে দিতে। সেই বাড়ির চতুর্থ তলার বারান্দায় এক তরুণী আসলো একই কাজে, কিছুটা হালকা বসনে। কি করে যেন চোখাচোখি হয়ে গেলো। সব শেষ!! এইবার নিশ্চিত ভাবেই কিউ আমাকে ভুল বুঝলো। খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো চিৎকার দিয়ে বলি, ‘আপু বিশ্বাস করেন, স্বল্প বসনে আপনাকে দেখার জন্য আমি বারান্দায় আসিনি’। ইচ্ছে হচ্ছিলো আরো বলি, ‘আপু, আমি গে। আপনাকে এভাবে দেখলে কিচ্ছু হবেনা’। এতে হয়তোবা কাজ হতো! কিন্তু এতে আবার অন্যরা ভুল বুঝতে পারে। তাই খারাপ হয়েই থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ১১:২০
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×