পুরো ইলেকশন নিয়ে আমাদের যে এতো কথা, এর মধ্যে সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার কি জানেন? আগা-গোড়া করাপ্টেড, হিপোক্রেট যেই দেশের মানুষ, সেই আমাদের মুখে এতো কমপ্লেইন মানায় কি?
১. আমরাই তো ছোটবেলায় স্কুল থেকে নকল করে পরীক্ষা দেওয়া শিখি। এখন আমরাই তো আবার, ফাঁস করা প্রশ্ন দিয়ে পাব্লিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাই।
২. আমাদের স্কুলের টিচাররাই তো তাদের কাছে প্রাইভেট পড়লে প্রশ্ন দিয়ে দেয়! (নট জেনারালাইজিং বাট এখন এটাই মেজরিটি)
৩. আমরাই তো প্রক্সি দিয়ে ইউনিভার্সিটি গুলোতে চান্স নিতাম!
৪. আমরাই তো ফাঁস করা প্রশ্ন দিয়ে মেডিকেল, ভার্সিটিতে চান্স নেই।
৫. আমাদের বাবা-মা ই তো বহু ক্ষেত্রে আমাদের হয়ে ফাঁস করা প্রশ্ন কালেক্ট করেন।
৬. আমারাই চাকুরীতে টাকা দিয়ে, তদবির করে ঢুকা কে নরমাল করে নিয়েছি।
৭. আমরাই চাকুরীতে বড় পোস্টে বসে টাকা খাওয়া হক বানিয়ে ফেলেছি।
৮. আমরাই টাকা দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া কে আত্তস্থ করে নিয়েছি।
৯. আমরাই রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ইমারত বানাই, রাস্তা বানাই।
১০. আমাদের সহজ-সরল মানুষেরাই খাবারে ফরমালিন দেয়, চিংড়ীর ভিতরে সিলিকা ভরে দেয়। কস্টিক সোডা দিয়ে খাবার রঙ করে, চকবাজারে বসে ওষুধ-প্রসাধনী বানায়।
১১. আমরাই তো খাবারে ভেজাল দেওয়াতে বিশ্বে এক। আজকে জরিমানা করে গেলে কালকে আবার আগের মতোন হয়ে যায় আমাদের সকল রেষ্টুরেন্ট।
১২. আমরাই সিএনজি কে মিটারের আন্ডারে আনতে পারিনা। বাসকে যেখানে সেখানে থামিয়ে উঠে পড়ি।
১৩. আমাদের তরুণরাই ফুটপাথে বাইক চালায়।
১৪. আমাদের তরুণরাই কিছু ফেভারের আশায় করাপ্টেড নেতার পিছিনে নাচে।
১৫. আমাদের তরুণ সমাজ চাপাতি দিয়ে নিজেরা নিজেদের, নিজেরা বড়দের, নিজারা ছোট ভাই-বোনদের কোপাই।
১৬. আমাদের তরুণরাই রগ কাটে।
১৭. আমাদের তরুণরাই সত্য জানতে চায় না। ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজাকারের মুক্তি চায়।
১৮. আমাদের শিক্ষিত তরুণরাই নিজ প্রতিষ্ঠানের ফাঁপড় নিয়ে রাস্তার উল্টোপাশ দিয়ে বাস ছুটায় বীরের মতোন।
১৯. আমাদের তরুণরাই সত্যকে চোখের সামনে ছুড়ে দিলেও প্রবীন নেতাকে ফলো করে বলে "ভোট সুষ্ঠু হয়েছে"।
২০. আমাদের সহজ-সরল দরিদ্রগোষ্টি এক শত টাকার বিনিময়ে মিছিলে হাজিরা দেয়, পাঁচশত টাকার বিনিময়ে ভোটটা অমুককে দিয়ে আসে।
২১. আমরাই ইস্রায়েলের বর্বরতা দেখে নাচি, আবার আমরাই জলজ্যান্ত মানুষকে গাড়ীতে পুড়িয়ে ছাই করে দেই, সবাই সামনে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যাই।
২২. আমরাই একটা মোরালের উপর দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে দেশ বানানোর পর মুক্তিযুদ্ধের ভ্যালু রক্ষার নামে দেশ বিরোধীদের ক্ষমতায় বসাই।
এই লিস্ট শেষ হবার নয়।
এর সাথে যদি আপনি আমাদের ''সাফল্য'' গুলোকে তুলনা করে শান্তি খুঁজেন, তাহলে জেনে নিন, আপনার চোখে এই কালো পট্টি স্বয়ং উপরওয়ালে বেঁধে দিয়েছে, আপনি মুনাফিক, সত্য দেখেও বালুতে মাথা গুঁজে রাখা প্রেফার করেন। আপনি কাওয়ার্ড, সত্য মেনে নিতে গেলে আপনার পাকস্থলীতে গুড়্গুড় কাপুরুষোচিত শব্দ হয়।
১৯৯১ থেকে ২০১৮- গণতন্ত্র, জনগণের ক্ষমতা, স্পিরিট প্রভৃত বিষয় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমরা যেই জিনিসটাতে নজর একদমই দেই নি, সেইটা হলো 'মোরালিটি'। জাতিগত ভাবে, নিজ নিজ অবস্থানে আমরা এতো বেশি, এতো বেশি অসৎ হয়ে গিয়েছি যে আমাদের পতন নিশ্চিত, একদম inevitable যাকে বলে।
হয়তো একদিন চরম বিপর্যস্থ সময়ে এসে আমরা অনুধাবন করবো সবই। কিন্তু তখন ব্যাপারটা হবে ধর্মের বর্নীত খোদার আজাবের মতোন, ফিরে আসার সময় তখন আর থাকবেনা।
অথবা হয়তো ফিনিক্স পাখির মতোন পুঁড়ে যাওয়া ছাই থেকে আবার আমাদের জন্ম হবে। কিন্তু, কিন্তু প্রশ্ন হলো-
How many times must a nation die, Before he rises again?
The answer, my friend, is blowin' in the wind
The answer is blowin' in the wind.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

