সরকার প্রদত্ত ভর্তুকি মূল্যের সার, বিদ্যুৎ ও সেচ সুবিধা কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো কৌশলে বোরো ধানের জমিতে তামাক চাষ করিয়ে নিচ্ছে। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিশাল হুমকি। বোরো চাষের মৌসুেম (অর্থাৎ গত অক্টোবর থেকে মার্চ ) দেশের উত্তরাঞ্চলের তিনটি জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, ও নীলফামারিতে প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে যা গত মৌসুমের চেয়ে দ্বিগুন। বাড়তি যে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে এবার তামাক চাষ হয়েছে যেসব জমিতে গত বছরও বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। সরেজমিন ঘুরে, পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদন ও স্থানীয় চাষীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, তামাক কোম্পানিগুলো প্রতিটি গ্রামের গুটিকয়েক প্রভাশালী কৃষককে কার্ড সুবিধা প্রদান করে ঐসব কার্ডধারীদের (কার্যত তামাক কোম্পানির এজেন্ট) মাধ্যমে কার্ডবিহীন কৃষকদের (স্থানীয়দের মতে এরকম চাষীর সংখ্যা প্রায় ৮০ ভাগ) কাছ তামাক ক্রয় করে গুদামজাত করছে।
এ বছর এত বিপুল পরিমাণ জমিতে তামাক চাষের কারন কি এমন প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় চাষীরা জানান, একদিকে আলু-ধান ইত্যাদির সঠিক দাম না পাওয়া অন্যদিকে নতুন ভার্জিনিয়া তামাক চাষে ব্যপক লাভ। যদিও এই প্রজাতির তামাক চাষ ক্ষতিকর, অন্যান্য ফসলের ফলন একেবারেই কমে যায়। কিন্তু উপায় কি? এছাড়া তামাক চাষে কৃষকদের আকৃষ্ট করতে এসব জেলায় ৫টি বড় কোম্পানিসহ মোট ৯টি দেশী-বিদেশী তামাক কোম্পানি কাজ করছে। সম্প্রতি চাষীদেরকে তামাকচাষে উদ্বুদ্ধ করতে তামাক কোম্পানির কর্মকর্তকদের হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করতে দেখা গেছে যদিও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ অবস্থা চলতে থাকলে মাটি উর্বরাশক্তি নষ্ট হবে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন যা সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নং ধারাতেও বলা হয়েছে। আর এই নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্দ্যোগ নেওয়া অতীব জরুরী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



