somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম জ্ঞানার্জনকে সর্বাধিক উৎসাহ প্রদান করে।

০৩ রা জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইসলাম মানুষের জন্য জ্ঞানার্জনের উপর অনেক বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। আর তাই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্নের ক্ষেত্রে দেখা যায়। প্রথম কথাটিই হচ্ছে “পড় তোমার প্রভুর নামে”। তাছাড়া মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের একটি বড় অংশ জুড়েই রয়েছে জ্ঞানার্জনের তাকীদ। একই ভাবে রাসূল (ছাঃ) তার উম্মতকে জ্ঞানার্জনের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।
মহানবী (ছাঃ) বলেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ-
‘জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয’। [১]

আল্লাহকে জানা বা চেনার এটিই একমাত্র পথ। ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা অনুশীলন কোনটিই জ্ঞান ব্যতীত সুষ্ঠুভাবে সম্ভব নয়। আল্লাহ এবং ঈমানের অন্যান্য বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হ’লে এ সকল বিষয় সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ কোন বিশ্বাসই অজ্ঞতার উপর স্থাপিত হ’তে পারে না, হ’লেও তা হয় ভঙ্গুর। তাই ধর্মের গভীরতা, ব্যাপকতা ও বিস্তৃতির জন্য জ্ঞানের ব্যাপকতা ও গভীরতার সমান প্রয়োজন।
একই সাথে মহানবী (ছাঃ) বিভ্রান্তিমুলক তথ্য বা জ্ঞানের ক্ষেত্রেও সাবধান করে দিয়েছেন।
মহানবী (ছাঃ) বলেন,
إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِيْنٌ فَانْظُرُوْا عَمَّنْ تَأْخُذُوْنَ دِيْنَكُمْ
‘নিশ্চয়ই এ জ্ঞান ধর্ম স্বরূপ। সুতরাং তোমরা লক্ষ্য রাখবে কার নিকট হ’তে তোমাদের ধর্ম গ্রহণ করছ’। [২]
এ হাদীছ থেকে বুঝা যায় যে, জ্ঞান কার নিকট হ’তে গ্রহণ করা হচ্ছে সেটাও লক্ষ্য রাখা কর্তব্য। কেননা জ্ঞানের যুক্তির সাহায্যে মানুষকে বিভ্রান্ত করা অধিকতর সহজ। তবে এই সতর্কতা ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পার্থিব জীবন তথা দেশ ও জাতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে নয়।
জ্ঞান চর্চায় গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মহান আল্লাহ অজ্ঞতাকে অন্ধকারের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লাহ বলেন,
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الأَعْمَى وَالْبَصِيْرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّوْرُ-
‘বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান অথবা অন্ধকার ও আলো কি এক?’ (রা‘দ ১৬)
এ আয়াত থেকে বুঝা যায় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তির মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনি জ্ঞানী ও জ্ঞানহীন ব্যক্তির মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক তফাৎ।

একই ভাবে মহানবী (ছাঃ) জ্ঞান চর্চায় গুরুত্বারোপ করে জ্ঞানী ব্যক্তির মর্যাদা নিরুপন করেন এভাবে-
فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِىْ عَلَى أَدْنَى مِنْ أُمَّتِىْ
‘আবেদের উপরে আলেমের মর্যাদা হচ্ছে তোমাদের মধ্যে নিম্নতমের উপরে যেমন আমার মর্যাদা’। [৩]

এ প্রসঙ্গে মহানবী (ছাঃ) আরো বলেন,
مَنْ سَلَكَ طَرِيْقًا يَلْتَمِسُ فِيْهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيْقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِيْ بَيْتٍ مِنْ بُيُوْتِ اللهِ يَتْلُوْنَ كِتَابَ اللهِ وَيَتَدَارَسُوْنَهُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِيْنَةُ وَغَشِيَتْهُمْ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمْ الْمَلاَئِكَةُ وَذَكَرَهُمْ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيْمَنْ عِنْدَهُ-
‘যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের কোন পথ অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কিছু লোক একত্রিত হয়ে আল্লাহ্র কিতাব অধ্যয়ন করে এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাদের উপর নেমে আসে প্রশান্তি, ঢেকে রাখে তাদেরকে আল্লাহ্র রহমত, পরিবেষ্টিত করে তাদেরকে ফেরেশতাগণ এবং তাদের ব্যাপারে আল্লাহ ফেরেশতাদের নিকট আলোচনা করেন’। [৪]
রাসূল (ছাঃ) বলেন,
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়’। [৫]
রাসূল (ছাঃ) বলেন,
مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ عَلِمَهُ ثُمَّ كَتَمَهُ أُلْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ-
‘কোন ব্যক্তির কাছে ইলম তথা জ্ঞান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হ’লে অতঃপর সে তা গোপন করলে ক্বিয়ামতের দিন তাকে জাহান্নামের একটি লাগাম পরিয়ে দেওয়া হবে’। [৬]

জ্ঞানী ব্যক্তির মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন,
مَنْ سَلَكَ طَرِيْقًا يَطْلُبُ فِيْهِ عِلْمًا سَلَكَ اللهُ بِهِ طَرِيْقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّهُ لَيَسْتَغْفِرُ لِلْعَالِمِ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ حَتَّى الْحِيْتَانُ فِي الْمَاءِ وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ إِنَّ الْعُلَمَاءَ هُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ لَمْ يَرِثُوا دِيْنَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَإِنَّمَا وَرِثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ-
‘যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনে কোন পথ অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। ফেরেশতাগণ জানার্জনকারীর জন্য দো‘আ করে। জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আকাশ ও পৃথিবীর অধিবাসীরা, এমনকি পানির নীচের মাছও। জ্ঞানহীন ইবাদত গোযারের তুলনায় জ্ঞানী ব্যক্তি ঠিক সেরকম, যেমন পূর্ণিমার রাতের চাঁদ তারকারাজীর উপর দীপ্তিমান। আর জ্ঞানীগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। তারা টাকা-পয়সার উত্তরাধিকারী করেননি। বরং জ্ঞানের উত্তরাধিকারী করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জন করেছে সে ঐ উত্তরাধিকার পূর্ণ মাত্রায় লাভ করেছে’।

অতএব আমাদের উচিৎ সঠিক জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করা। ধর্মকে যেমন জেনে বুঝে পালন করাই শ্রেয়। তেমনি না জেনে না বুঝে অন্যের কথায় কান দিয়ে এবং শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে ধর্ম নিয়ে যা ইচ্ছা তা বলাও চরম মুর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়।


১. মিশকাতুল মাছাবীহ, তাহক্বীক্ব : মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী, হা/২১৮।
২. মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৩।
৩. তিরমিযী, মিশকাত হা/২১৩, ২১৪।
৪. আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২১২।
৫. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইসমাঈল বুখারী, বুখারী, (রিয়ায: দারুস সালাম, ১৯৯৯), পৃ. ৯০১; মিশকাত হা/২১০৯।
৬. তিরমিযী, ‘কিতাবুল ইলম’, মিশকাত হা/২২৩।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×