somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী চরিত।

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দ্বিতীয় খণ্ড।
পুরুষের মোহমুক্তি আর নারীর এই আটকে না রাখতে পারার গ্লানি দুজনকে ঠেলে দেয়ে যোজন যোজন দূরত্বে। বাকিটা জীবনে কেউ আর কারো মনের খোঁজ করেনা। তখন জীবনের যাবতীয় স্থূল চাহিদা পূরণই হয়ে ওঠে একত্রে থাকার একমাত্র উপলক্ষ। আর এতে করে যে, মানুষে পশুতে ভেদটুকুও ঘুচে যায় সেটা ভেবে দেখারও আর কারো অবকাশ মেলেনা।

অথচ নারীর শরীর যতটুকু উপভোগ্য তার থেকে মনের উপভোগ্যতা অনেক বেশি। দেহ-মনের যুগপৎ কাছে আসতে পারাই জীবনের সবথেকে বড় প্রাপ্তি, সবথেকে বেশি প্রশান্তির। নারীর মনের সেই গোপন গহীন তল স্পর্শ করাটা যে একেবারেই অসম্ভব তাও নয়। তবে সেটা তখনই সম্ভব যখন নারী নিজে থেকে সে পথ উন্মুক্ত করে দেয়। সে ক্ষেত্রে পুরুষ যেমন প্রশান্তি খুঁজে পায়, নারীও চরম পুলক লাভ করে। তখন একত্রে বাস বাধ্যতামূলক না হয়ে হয়ে উঠে চরম আনন্দঘন।

মনের এই চেনা জানা এখন যেন একেবারেই বাহুল্য হয়ে দেখা দিয়েছে। এর ফলে যেটা হচ্ছে তা হল জীবন এখন এক, একঘেয়ে সময় ক্ষেপণের নাম। অথচ একটু সচেতন হলে তা অন্যরকম হতে পারত। এমন সুখী দাম্পত্য যে একেবারে নেই তা নয়, তবে খুবই নগণ্য।
বলার অপেক্ষা রাখে না। যে নারী শরীর সর্বস্ব নয় সে অনেক বেশি উপভোগ্য। তবে তেমন উপভোগ্য হয়ে উঠতে গেলে নারীকে বৈষয়িক জীবনের কিছু তুচ্ছ বিষয়ে ছাড় দিতে হয়। যে ছাড় তার সঙ্গ কখনোই বিস্বাদ বা তিক্ত হতে দেয় না। সম্পর্কটাকে আরও বেশি উষ্ণ করে তোলে। সমস্যা হল এখানেই। বেশির ভাগ নারীই ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।

এখানে একটি কথা না বললেই নয়, নারী চরিত্রের বৈশিষ্ট্য সমূহের পূর্ণ প্রকাশ ঘটে তার সাংসারিক জীবনে এসে। যেখানে সে কর্তৃত্ব কামনা করে। সম্পর্কের উষ্ণতার ছন্দ পতনের শুরুটাও ওখান থেকেই। আমাদের সমাজে এখন পর্যন্ত আমরা যতই একক পরিবারের চর্চা করিনা কেন পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়ে থাকতেই আমাদের বেশি পছন্দ। আর সেটা করতে গিয়ে ব্যক্তি জীবনে নানারকম বিড়ম্বনার মাঝ দিয়ে যেতে হয়। যা পরিবারের শান্তি তো বিনষ্ট করেই সেই সাথে পরিবারের কর্তা ব্যক্তিটির জীবনকে কখনো কখনো করে তোলে দুর্বিষহ। ত্রুটি যার যেমনই থাকনা কেন একদিকে মা-বোন, অন্যদিকে স্ত্রী এই ত্রয়ীর যুদ্ধে পুরুষ ব্যক্তিটি হয়ে পড়ে অসহায়। এখানে তিনটি নারী চরিত্রের কেউ কাউকেই ছেরে কথা বলতে রাজি নয়। প্রত্যেকেরই ষোল আনা চাই। আর এই ষোলআনা পেতে গিয়ে কাউকে কাউকে পুরোটাই হারাতে হয়। তথাপিও তাঁরা আমৃত্যু যুদ্ধটা ঠিকই চালিয়ে যায়। ফলে দরজা জানালা দিয়ে মুর্হুমুহ সুখ প্রবেশ করলেও ঘর থেকে শান্তি চিরতরে বিদেয় হয়।

সংসার জীবনে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত যে নারী তার সঙ্গীর ভাল লাগা না লাগাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিত। সেই নারীই সংসার জীবনে প্রবেশ করে রাজদণ্ডটি হাতে পাওয়ার উদগ্র বাসনায় এতটাই বিভোর থাকে যে তার সঙ্গীটির দিকে ফিরে তাকানোর কথাও বেমালুম ভুলে যায়। এমনকি সকল কর্তৃত্ব হাতে পাওয়ার পরেও তার যথেচ্ছ ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকটা দূরে সরে যায় সঙ্গীর। এক সময় তার সঙ্গীটিও ঘরছাড়া হতে পারলেই যেন বাঁচে।

আসলে এ ধরনের নারী জানেইনা কি করে পুরুষকে আটকাতে হয়। শরীরকেই সে একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ধরে নেয়। সেইসাথে পরিবার এবং সমাজকে মনে করে তার রক্ষা কবচ! যার ফলে নিরাপত্তা তার হয়ত কিছুটা মেলে তবে মেলে না শান্তি।
এ সব নারীর এটা বোঝা জরুরী যে, শরীর একেবারেই ঠুনকো। আর পুরুষের কাছে নারীর শরীরের বিকল্প শুধু স্ত্রীই নয়। অন্যায় যেনেও সে তখন বিকল্পের খোঁজ করে। এভাবেই সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার নিত্য নতুন গল্পের অবতারণা হয়। যদিও নারী চরিত্র নিয়ে কথা বলতে গেলে তার সংসার জীবনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। তথাপিও যেহেতু সেটি এই লেখনীর মুল উপজীব্য নয় তাই ও প্রসঙ্গে না হয় আমরা এখানেই যবনিকা টানি।

নারী-পুরুষের সম্পর্ক দিয়েই লেখাটার ইতি টানি। বলছিলাম নারী যদি চায় তাহলে পুরুষ সঙ্গীটিকে তার মনের গহীনে পৌঁছে দিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের হাত ধরে ধরে পাইয়ে দিতে হয় নিজের অন্ধ কানা গলির ঠিকানা। কিন্তু সমস্যা হল ওটা এতটাই পরিবর্তনশীল যে পুরুষের পক্ষে ধরে রাখাটা মুস্কিল। নারী যদি নিজের স্বার্থেই তাকে স্থিতি দানে সক্ষম হয় তবেই পুরুষের সে গভীরতর তল স্পর্শ করাটা সার্থক হয়ে ওঠে। আর নারী যদি তাকে সহায়তা না করে তাহলে পুরুষের পক্ষে সেই অতল স্পর্শ এক জনমেও হয়ে ওঠে না।
যেনে বুঝে হোক, আর স্বভাবজাত কারণেই হোক আমাদের সমাজে এমন নারীর সংখ্যা নগণ্য বলেই শেষ পর্যন্ত এ দেশের বেশীরভাগ নারী শরীর সর্বস্ব হয়েই রয়ে যায়। যেখানে পুরুষের দায় থাকলেও নারীর দায়টাও একেবারে কম নয়।

=সমাপ্ত=
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×