
নাস্তিকতার খোলস একটা জৈবিক ধান্দা মাত্র। যেমন ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্ম নিয়ে ধান্দা করে। আমি এক কথায় উভয় দলকে একই শ্রেণীভুক্ত বলে মনে করি। পার্থক্য হল ধান্দাটা পরস্পর বিরোধী।
ধর্ম ব্যবসায়ী ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসা করে। তার থলিতে রসদ পুড়ে দেয় অশিক্ষিত যত বক ধার্মিক। আর নাস্তিক সেজে যে ধান্দা করে তার থলিতে রসদ পুড়ে দেয় ধর্ম বিদ্বেষী গোষ্ঠীগুলো আর বিশেষত ঐ ধান্দা বাজ নাস্তিক যে ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে চলে সে ধর্ম বিদ্বেষী রাষ্ট্র ও সমাজ।
ধান্দা বাজরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী বেছে নেয় পথ। কারন তারা জানে উভয় পথেই রয়েছে বিখ্যাত হওয়ার সহজ উপায়। উভয় পথ জুরেই অর্থের অবাধ সংস্থান।
আপনি যদি একটু লক্ষ করেন, দেখবেন এদের কোন নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই। এদের কোন নির্দিষ্ট আদর্শও নেই। অশান্তি সৃষ্টি আর যাদের অনুকুল্যে তারা চলে তাদের স্বার্থদ্ধারই এদের একমাত্র লক্ষ।
আপনি চাইলেই এমন অজস্র উদাহরণ দেখতে পাবেন যাদের কীর্তি বলে কিছু না থাকলেও তারা রাতারাতিই কীর্তিমান হয়ে উঠেছেন। কি করে তারা এমন কীর্তিমানদের সমকক্ষ হলেন সেটা খুঁজে বের করতে গেলে আপনিই ঘর্মাক্তই হবেন কিন্তু কোন কীর্তি খুঁজে পাবেন না।
নাস্তিক ছুড়ি চালায় ধার্মিকের অন্তরে। অথচ কোন ধার্মিকই তার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। আর ধর্ম ব্যবসায়ী ছুড়ি চালায় নাস্তিকের মস্তকে। নাস্তিকের শাস্তি নিশ্চিত করতে। যেন তার নিজের সৃষ্টি কর্তার উপরে নিজেরই আস্থা নেই।
যদি কেউ ইশ্বরহীনতায় বিশ্বাস করে তাকে কি কেউ জোড় করছে ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপনে? বড়জোর তাকে আহবান জানানো হতে পারে। সে আহবানে তার সারা না দিলেই তো হল। এখানে তো প্রতিপক্ষ সৃষ্টির কথা নয়। যারা সত্যিই তেমন তারা কিন্তু নিজের বিশ্বাস বা অবিশ্বাস নিয়ে নিজের মতই থাকেন। আর যারা ধান্দা বাজ তারাই খোঁচাখুঁচিটা করে। অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করে।
আজ যারা ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমে অকাতরে বিধর্মীদের প্রাণ হরণ করছেন তারা কি তাদের পথ নির্দেশক রসুল(সঃ) পথ অনুসরণ করছেন? মোটেই তা নয়। তারা কি পবিত্র কুরআনের নির্দেশিত পথে চলছেন? মোটেই না।
আল্লাহ নিজেই যেখানে তার রসুল(সঃ)কে বলেছেন আপনি শুধু আহবান করতে পারেন হেদায়েতের মালিক মহান আল্লাহ নিজেই। সেখানে তারা কি করে শিয়া মসজিদে বোমা মারছে, কি করে অন্য ধর্ম বিশ্বাসীদের আল্লাহরই নাম করে হত্যা করছে! অথচ মহান আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না।
কাজেই আপনি যে দিক দিয়েই পর্যালোচনা করুন এটিই দেখতে পাবেন, এই তথাকথিত নাস্তিক আর তথাকথিত আস্তিক উভয়ই নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থেই যা কিছু করছে। এখানে কোন আদর্শের বালাই নেই। আর আদর্শহীন মানুষকে দিয়ে আর যাই হোক ভাল কিছু যে সম্ভব নয় তা তোঁ বলাই বাহুল্য।
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


