somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৌলবাদ সাম্রাজ্যবাদের প্রধান হাতিয়ার, আমরা যেন তার স্বীকার না হই।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে পুঁজিবাদকে দাড় করাতে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা প্রথম আশ্রয় নিয়েছিল ধর্মীয় মৌলবাদের। সেটা যে কেবল ইসলামী মৌলবাদ তা নয়। বলা যায় অঞ্চল ভেদে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় মৌলবাদ। কোথাও ইহুদী মৌলবাদ, কোথাও খৃষ্টান, কোথাও ইসলাম, কোথাও হিন্দু এমনকি বুদ্ধিষ্ট। আর তা করতে গিয়েই তারা টের পেল পুঁজিবাদ আর মৌলবাদকে বাহ্যিক ভাবে সম্পর্কহীন মনে হলেও আসলে এরা আত্মার আত্মীয় যমজ ভাই। উভয়ের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে কিছু অদ্ভুত মিল। যেমন- উভয়েই চরম ভাবাপন্ন, মাত্রাতিরিক্ত স্বার্থপর আর লোভী। সর্বোপরি এদের কেউই ভিন্ন মতের অধিকারে বিশ্বাস করেনা। দেখা গেল এই একই চরিত্রকে যখন এক জায়গায় নিয়ে আশা গেল তখন এরা হয়ে গেল হরিহর আত্মা। একজন ছাড়া অন্যজন চলতেই পারেনা। একজন জান দিয়ে হলেও অন্যজনকে রক্ষা করে থাকে। কারণ তারা এটা বেশ ভালই জানে উভয়ের শক্তি এক না থাকলে তাদের বিস্তার লাভ করা সম্ভব নয়। এমনকি অস্তিত্বও বিলীন হতে পারে। ফলে তারা আর কখনোই নিজেদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে চাইল না। বরং উভয় শক্তি একত্রিত হয়ে তারা সমাজের শুভ শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো।

সম্রাজ্যবাদিরাও বেশ বুঝতে পারলেন সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে পুঁজিবাদকে দার করিয়ে দিতে হলে মৌলবাদের সংরক্ষণ এবং সম্প্রসারণ খুবই জরুরী। তারা সেটাই করলেন। রাতারাতি ফলও পেয়ে গেলেন। ব্যাস আর যায় কোথা চল এবার মৌলবাদের চাষাবাদ করি। বিশ্বব্যাপী শুরু হয়ে গেল মৌলবাদের চাষ। এরপরেই শুধু বিশ্ব অর্থনীতি বলুন আর সার্বিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বলুন সবটাই আমূল বদলে যেতে থাকল। পুঁজিবাদের সাথে মৌলবাদের সখ্যতা আর তাদের জন্মদাতা এবং পালন কর্তা যে সাম্রাজ্যবাদ তা একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন।

লক্ষ করে দেখুন ধর্মীয় মৌলবাদের সখ্যতা কাদের সাথে। আরও একটি বিষয় খেয়াল করে দেখুন। যে দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ যত দুর্বল সে দেশে পুঁজিবাদের আগ্রাসন তত কম প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছে। আবার সে সব দেশে সামাজিক সমতাও তত বেশি। কাজেই যতই চেঁচামেচি করুন না কেন মৌলবাদের বিরুদ্ধে দাড়াতে হলে প্রথমেই আপনাকে পুঁজিবাদী আগ্রাসন থেকে বেরুতে হবে। বেরুতে হবে সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব বলয় থেকে।

একটি মজার বিষয় লক্ষণীয়; আমরা যাদের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বলে চিহ্নিত করছি তারা কিন্তু নিজ দেশে কখনোই মৌলবাদকে বেড়ে উঠতে দেয় না। অথচ বিশ্বজুড়ে যত মৌলবাদী সংগঠন রয়েছে তাদের গোপনে সহযোগিতা করে থাকে ঐ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই। এমনকি কোন কোন সংগঠনের জন্মই তারা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ হল তাদের অন্দরের রূপ। আর বাহিরে নিপাট ভদ্রলোকের সাজে এরা খোলস পরে থাকে।
ভিন্ন সেই খোলসটিকে আবার বিশ্বব্যাপী তারা ফেরী করেও বেড়ায়। যার নাম হচ্ছে গণতন্ত্র মূলত যা অন্তঃসার শূন্য এক ধোঁকাবাজির নাম।

গণতন্ত্রকে আমি অন্তঃসার শূন্য বলছি এই জন্যই যে এটি এমন একটি খোলস যাকে পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র কোন না কোন একটি কাঠামোর উপরেই নিজেকে প্রকাশ করতে হয়। ফলে প্রকাশ্যে গণতন্ত্র জপলেও ভিতরে থাকে ভিন্ন তন্ত্র। গণতন্ত্র যেখানে যতটাই ভিত গাড়তে সক্ষম হোক না কেন মূলত তাকে পুঁজিবাদ কিংবা সমাজতন্ত্র এর যে কোন একটাকে আশ্রয় করেই বেড়ে উঠতে হয়। এতে করে যেটা হয়, তা হল: গণতন্ত্র একটি আবরণ দিয়ে মুল শক্তিটাকে ঢেকে রাখে। ফলে সমাজতন্ত্র বা পুঁজিবাদ মুল কাঠামো যাই থাক না কেন, সেটাকে বেমালুম অস্বীকার করে নিজেদের তারা গণতান্ত্রিক বলে পরিচয় দিতে সক্ষম হয়।


গণতন্ত্রকে আমরা যখন বলি সংখ্যাগরিষ্ঠের মত তখন প্রকারান্তরে আমরা নিজেরাই স্বীকার করে নেই যে এখানে উনপঞ্চাশ শতাংশ জনগণের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে । আর এটা যে কোনভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয় সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রশ্ন হল তাহলে পরে কেন এই গণতন্ত্রের জন্য এত কান্না? আসলে কান্নাটা গণতন্ত্রের জন্য নয়। কান্নাটা পাওয়া না পাওয়ার। গণতন্ত্রের আড়ালে যে মুল কাঠামোটি রয়েছে সেই প্রতিনিয়ত গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চিৎকার করে থাকে। মজার বিষয় হল গণতন্ত্রের ছদ্মাবরনটি হাতে পাওয়ার পর থেকে সমাজতন্ত্র এবং পুঁজিবাদও সাম্রাজ্যবাদের মতই প্রতারণার আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। তারাও এখন আত্ম পরিচয় ঢেকে রেখে নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে পরিচয় দিতে শুরু করেছে। এখন আর তারা নিজেদের স্বনামে পরিচয় প্রদান করে না ফলে এখন সমাজতন্ত্র ধনতন্ত্র গণতন্ত্র সব মিলে মিশে একাকার।
এর ফায়দাটা মূলত সাম্রাজ্যবাদীরাই তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে। কেননা তারা যে অন্তঃসার শূন্য গণতন্ত্রকে ফেরি করে বেড়ায় এর ফলে সেই ধোঁকাবাজিটাই সঠিক বলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। এখন এই গণতন্ত্র ছাড়া আপনার চলেই না। এই গণতন্ত্রের জন্য হাভাতেরাও এমন কান্না জুড়ে দিয়েছে যেন তথাকথিত এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে পরেই গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ আর আকাশে বাতাসে মুঠো মুঠো সুখ উড়ে বেড়াবে। এখন তারা উঠতে-বসতে, খেতে-ঘুমাতে সর্বদাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে।

ব্যক্তি সাদ্দাম হোসেন কিংবা গাদ্দাফি যেমনই থাকুন না কেন তারা যে উভয়ই তাদের দেশকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন সেটা তোঁ ঠিক। যে ইরাকীদের তেল বেনিয়ারা নিয়ে যেত সেই তেলকেই জাতীয় সম্পদে পরিণত করে ইরাক কতটা উচ্চতায় উঠে গেল। অথবা চোখ ফেরান লিবিয়ার দিকে। মরুকে যেখানে উদ্যান বানানো হল। ফিরে তাকান মিশরের মোবারকের দিকে। এদের প্রত্যেককে উৎখাত করা হল। ইরাক, লিবিয়াকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হল। মিশর তো মরতে মরতেও বেঁচে গেল। কিন্তু সেখানে যে গণতন্ত্র পাওয়া গেল তা বিশ্ববাসী দেখেছে। এরপরে সাম্রাজ্যবাদের চোখ গিয়ে পড়ল সিরিয়ায়। রাশিয়া হস্তক্ষেপ না করলে এতদিনে যে গল্পটি শেষও হয়ে যেত। সব জায়গায়ই গণতন্ত্র ফেরী করা হল। ইরাক-লিবিয়ার জনগণ সোনার দেশকে ছাই করে সেই দামে গণতন্ত্রের নামে আসলে কি কিনল? সেটাই প্রশ্ন।
বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদের এই চক্রান্ত খোলা বইয়ের মত। আমরা নিত্যই এর বিভীষিকা দেখছি অথচ সচেতন কি হচ্ছি? প্রতিনিধিত্ব শিল গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা একটি দেশকে সমৃদ্ধির শেখরে নিয়ে যেতে সক্ষম। সেটা প্রতিনিধিত্ব শীল গণতন্ত্র। ফাঁকিবাজির গণতন্ত্র নয়। একটি দেশে যারা গণতান্ত্রিক চর্চা করবে তাদের প্রথমেই শতভাগ সট দেশপ্রেমিক হতে হবে। দেশের সম্পদ দেশের স্বার্থকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিতে হবে। দেশ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বিনা শর্তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবেই না তাদের দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা করা সম্ভব। গণতন্ত্রের নামে নিশ্চয়ই আমি দেশ বিরোধী শক্তি আর দেশপ্রেমিক শক্তিকে যুদ্ধের জন্য রাজনীতির মাঠে ঠেলে দেব না। গণতন্ত্রের চর্চার আগেই কিছু বিষয় নির্ধারিত হয়ে যাওয়া উচিৎ।
যেমন; দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কি রাজনীতি করার অধিকার পাবে? দেশে মৌলবাদী শক্তির বিকাশ ঘটতে দেয়া হবে কিনা ইত্যাদি। আর এসব নির্ধারিত হওয়ার পরেই কেবল একটি দেশে গণতন্ত্রের চর্চা করা সম্ভব। নয়ত গণতন্ত্রের নামে সাম্রাজ্যবাদী লেজুড় বৃত্তিই চলবে। যা একটি দেশকে ক্রমশ অস্থিতিশীল আর অনগ্রসরতার দিকেই নিয়ে যাবে। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ পাকিস্তান।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×