somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পনের আগস্টের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতেই হবে।

১১ ই আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নিজেকে জাহির করা মানুষের চিরন্তন স্বভাব। এর প্রক্রিয়া দুটি এক ইতিবাচক দুই নেতিবাচক। ইতিবাচক প্রক্রিয়ায় যারা ব্যর্থ হয় তারা নিশ্চিতভাবেই নেতিবাচক প্রক্রিয়ায় হলেও নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করে।
ঠিক একইভাবে নিজের যোগ্যতা বলে ব্যর্থদের সবার উপরে স্থান করে নেয়ার উদগ্র বাসনা করে তোলে হিংস্র শ্বাপদের মতই ভয়ংকর।
আসল ভয়টা এদের নিয়েই।
কারণ সাধারণত তাদের কাছ থেকে কেউ নেতিবাচক আচরণ আশা করেন না। এমনকি তাদের মিশন শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যদি কেউ তাদের বিরুদ্ধে কোন কারণে অভিযোগের আঙুল তোলেনও তাও বিশ্বাস যোগ্য করে তোলাটা কঠিন হয়ে পড়ে কেননা খোলা চোখে এদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের পেছনে যৌক্তিক ব্যাখ্যাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
বেঈমানি করার সুযোগ তো তারই হয় যে আগেই ইমানদার পরিচয়ের সবগুলো চৌকাঠ মাড়িয়ে আসতে পেরেছেন। বিশ্বাস অর্জন বিশ্বাসভঙ্গর প্রথম শর্ত, কে না জানে। মুশকিল হল, এই লোকগুলো আমাদের সমাজের এক মস্ত বড় অংশ জুড়েই রয়েছেন অথচ সহসা তাদের চেনা দায়।
আপনি যদি খুব সচেতন হন, তাহলে হয়ত এদের নেতিবাচক মানসিকতার কিছুটা আচ করলে করতেও পারেন তবে সে ক্ষেত্রেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় অন্ধ ভালবাসা। কেননা এরা কিন্তু সাধারণত কাছের মানুষেরই ক্ষতি করে। অথবা সব থেকে আস্থা ভাজনের।
একটা মানুষের হীনমন্যতা, ঈর্ষা, মানসিক দীনতা তাকে খুব সহজেই তার জাত চিনিয়ে দিতে যথেষ্ট। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এসব সর্বদাই অগ্রাহ্য করে যাই। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এরা নির্বিঘ্নেই তাদের ক্রিয়াকাণ্ড চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এদের অনিষ্ট থেকে রেহাই পেতে হলে পূর্বেই তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা এবং এদের পরামর্শ বর্জন জরুরী।
আমাদের সমাজে পেছন থেকে টেনে ধরার লোকের অভাব নেই এটা আমরা জানি, বলিও সব সময়। অথচ তাদেরকে চিহ্নিত করার চেষ্টা কি কখনো করি? করিনা; এরা তো দূরের কেউ নন। আমার আপনার ঘরে আমাদের পোষ্য হয়েই তো তারা বেচে বর্তে থাকেন।
আমরা পনের আগস্টের শোকাবহ দিনটির কথা বলি। খন্দকার মুশতাকের উদগ্র বাসনাই কি সেদিনের সেই শোকাবহ ঘটনার জন্য একমাত্র দায়ী। শুধুমাত্র মেজর ডালিম-মেজর রশিদ সহ সেদিনের হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া কয়েকজন বিপথগামী সেনা অফিসারই কি এর জন্য দায়ী। পেছন থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছিলেন তাদের দায় কি করে উবে গেল? সেটা নিয়ে আমরা কতটুকুই বা সচেতন?
বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকারীদের বিচার কার্য্য সম্পন্ন হয়েছে বলে আজ যারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ছেন তাদের মনে কি এর পেছনে নীল নকশা প্রণয়নকারীদের বিচার না হোক অন্তত মুখোশটা উন্মোচিত করা উচিৎ বলেও একবার মনে হয় নি?
আজো যখন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আরেকটি পনের আগস্ট থেকে জাতিকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন তখন এ প্রশ্নটাই উঠে আসে যে, পনের আগস্টের কুশীলবদের কেন জাতির সামনে টেনে আনা হল না? সে রহস্য উন্মোচনে যদি শত বর্ষেরও প্রয়োজন হয়, হোক। কেন সে রহস্য উন্মোচনে জাতীয় পর্যায় থেকে গবেষণা সেল তৈরি করা হল না। সে রহস্য উন্মোচন হলেই না ষড়যন্ত্রকারীদের থামানো সম্ভব হত আর তাহলেই না এ জাতী নিরাপদ হতে পারত।
আমরা ঘরে বাইরে ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এগুচ্ছি। ষড়যন্ত্র কারিরা সর্বদাই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অথচ আজকের বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ থেকে শুরু করে যত সমস্যা তার সবটার মুলেই এই পনের আগস্টের হত্যাকাণ্ড। একটি উদীয়মান জাতিসত্তাকে পিষে মাড়ার অপচেষ্টা।
ঘড়ির কাটা পেছনে ঘুড়ীয়ে দিলেই সময় পাল্টে যায় না অথচ সেই ব্যর্থ চেষ্টাটাই করা হয়েছে দিনের পর দিন। এর পেছনে মাস্টার মাইন্ড কারা?
সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা দুটি পক্ষ হয়েছি। বার বার পরস্পর বিরোধী ভাবে দুটি বা তিনটি রাষ্ট্রকে টেনে এনেছি। তর্কের খাতিরে তাদের কারো না কারো হাত আছে ধরেই নিলেও যেটি এড়িয়ে গেছি তা হল কালো চশমার আড়ালের ধূর্ত চোখ জোড়া।
পলাশীর প্রান্তরে নবাবের পতনের জন্য তো আমরা ক্লাইভ বাহিনীর বীরত্বের কথা বলি না। তাদের কুটচালের পাশাপাশি সেখানে আমরা মীরজাফর, ঘষেটি বেগম, উমিচাঁদ, রাজবল্লভদের খুঁজে বের করি। তাহলে পনের আগস্টের বেলায় কেন ঘোষিত অপরাধীদের বাইরেও এর পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের দিকে দৃষ্টি ফেরাই না?
কেন আমরা কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্য আর খন্দকার মুশতাকের মধ্যেই ঘুরপাক খাই। সাথে জুড়ে দেই বিদেশী রাষ্ট্রকে।
আমরা এর মধ্য দিয়ে যাদের আড়াল করছি তারাই পনের আগস্টের পর অবতার সেজেছিল, ভগবান সেজেছিল তারা ধর্মের রক্ষক সেজে আড়ালে বেঁচে দিয়েছে বাঙ্গালী জাতিসত্তাকে। বেচে দিয়েছিল আবহমানের বাংগালীয়ানা। এরা নিলাম করেছে অসাম্প্রদায়িকতা। এরা ধর্মকে করে তুলেছিল প্রাণহীন আচার সর্বস্ব।
আমরা কি তাদের চিনি না? আমরা কি জানি না তারা কারা? আমরা চিনি আমরা জানি অথচ ভাসুরের নাম মুখে আনা যাবে না বলে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছি।
যতদিন না পর্যন্ত আমরা এদের মুখোশ উন্মোচন না করতে পারব যতদিন না তারা জনে জনে ঘৃণিত হবে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে তারা ক্ষান্ত দিবে না। তারা তাদের চেষ্টা চালিয়েই যাবে।
পনের আগস্ট শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও তার পড়িবারবর্গকেই নিশ্চিহ্ন করা হয়নি নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশকেও। যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন তাদের মনে রাখা উচিৎ শত ভাগ সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনও হয়নি। একাত্তরে যেমন এ দেশে বাংলাদেশ বিরোধী সক্রিয় ছিল। স্বাধীনতার পড়ে তারা আরও বেশী সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। বাঁধা ছিল একমাত্র বঙ্গবন্ধু। সরিয়ে দেয়া হল তাকে।
শত বাঁধা পেড়িয়ে যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা যখন তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পথ চলতে শুরু করলেন বার বার সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হল তাকে। এর পেছনে কি সেই একই শক্তি ক্রিয়াশীল নয়?
এ জাতী তার অবিসংবাদিত নেতাকে ধরে রাখতে পারেনি মহান আল্লাহর অশেষ রহমত তারই কন্যার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে আবার। তাতে ষড়যন্ত্রকারীরা কি থেমে গেছে? মোটেই না যার সবথেকে বড় প্রমাণ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ভয়ংকর থাবা। লক্ষ অভিন্ন।
কাজেই বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে বাঙালী জাতিসত্তাকে টিকিয়ে রাখতে হলে পনের আগস্টের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতেই হবে।
এরা সমাজের এমন এক অবস্থানে বাস করে যেখানে কারো কিছু মনে করায় তাদের কিছুই যায় আসে না। সেখানে দুর্দমনীয় ভাবে টিকে থাকা অথবা একেবারে শেষ হয়ে যাওয়াটাই চূড়ান্ত পরিণতি।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ২:৫২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×